
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় বা জাতীয় প্রতীকে হবে কি না—বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার পরই নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় আইন পরিবর্তন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় বা দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা আছে। পরবর্তী সময়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় বা জাতীয় প্রতীকের পরিবর্তে সাধারণ প্রতীকে ভোট গ্রহণের বিধান করে।
জারি করা অধ্যাদেশগুলো ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সংসদ কোন অধ্যাদেশ গ্রহণ করবে আর কোনটি করবে না, সে বিষয়ে সেদিনই সিদ্ধান্ত হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীকসংক্রান্ত সংশোধনীটি গৃহীত হলে তা আইন আকারে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবার সংসদে তোলা হবে। আইন পাস হওয়ার পরই নির্বাচনের প্রস্তুতির পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে।
প্রতীকের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা কম বলেও ইঙ্গিত দেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। তাঁর ভাষ্য, ‘দলীয় প্রতীকে হবে নাকি সাধারণ প্রতীকে—এটি আইন আকারে পাস না হলে আমরা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেব? যদি সাধারণ প্রতীকে নির্বাচন করার আইন পাস হয়, তাহলে দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের দিকে এগোব। আমরা চাই সব জায়গায় নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকুক।’
সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে সিলেট অন্যতম সুন্দর। খাল ও ছড়া খনন এবং সুরমা নদী খননসংক্রান্ত নতুন প্রকল্প নেওয়া হলে তা একনেক বা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়ে দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সকালে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। সভায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি ও নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। পরে রিকাবিবাজারে সিলেট সিটি করপোরেশনের বাস্তবায়নাধীন এম সাইফুর রহমান অডিটরিয়াম পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এমরান আহমদ চৌধুরী ও এম এ মালিক।