বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত

ঘুমধুম সীমান্তে এবার পরিত্যক্ত মর্টারশেল বিস্ফোরণে কিশোরের মৃত্যু

বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে পরিত্যক্ত মর্টারশেল বিস্ফোরণে সতনাইং তঞ্চঙ্গ্যা নামে ১২ বছরের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাইশফাঁড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। কিশোরটির পরিবার পাঁচ-ছয় বছর আগে সীমান্তের ওপারের মিয়ানমার থেকে এপারে বাইশফাঁড়িতে এসে বসতি স্থাপন করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এর আগে গত ২৪ মে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ভালুকিয়া এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন বাংলাদেশি বাগানচাষির মৃত্যু হয়। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় বাগানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ভালুকিয়াপাড়ার দুই বাংলাদেশিও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকার বাইশফাঁড়ি পাড়ায় বসবাসরত কিংহ্লা তঞ্চঙ্গ্যা ও তাঁর স্ত্রী সকালে জুমচাষের কাজে যান। তাঁদের সঙ্গে ছেলে সতনাইং তঞ্চঙ্গ্যাকেও নিয়েছিলেন। সীমান্তের ৯ নম্বর পিলার থেকে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জুমখেতে জুমঘর নির্মাণের কাজ করার সময় ছেলে পরিত্যক্ত মর্টারশেল কুড়িয়ে পায়। ওই মর্টারশেল নিয়ে খেলা করার সময় হঠাৎ সেটির বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে কিশোরের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন লাশের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে বাইশফাঁড়ি পাড়া এলাকায় নিয়ে আসেন। পরে বাইশফাঁড়ি তদন্তকেন্দ্রে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

পুলিশের তথ্যমতে, নিহত কিশোরের বাবা কিংহ্লা তঞ্চঙ্গ্যার পরিবারের স্থায়ী বাড়ি মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপের ডেকিবুনিয়া থানার মেদাই গ্রামে। সেখানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা সীমান্ত অতিক্রম করে বাইশফাঁড়ি পাড়ায় প্রথমে আত্মীয়ের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখন থেকে সেখানেই বসবাস করে আসছেন। বাইশফাঁড়ি পাড়া নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত মর্টারশেল বিস্ফোরণে নিহত কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের পর আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।