জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় রাবিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের প্রতিবাদ

বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম মানববন্ধন করে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে
ছবি: শহীদুল ইসলাম

দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের অস্বাভাবিক লোডশেডিং, গণপরিবহনের ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে মানববন্ধন করে এ প্রতিবাদ জানান ফোরামের সদস্যরা। এ সময় তাঁরা ভোলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা নিহত হওয়ার ঘটনার বিচারও দাবি করেন।

কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি এফ নজরুল ইসলাম বলেন, একটা জাতির ধ্বংস অনিবার্য তখনই, যখন সে জাতির শিক্ষা ধ্বংস করে দেওয়া হয়। প্রাইমারি থেকে কলেজ পর্যন্ত শিক্ষা নিয়ে সব জায়গায় যারা সিদ্ধান্ত দেয়, সেখানে এক বিশেষ গোষ্ঠীর লোকদের বসিয়ে রাখা হয়েছে। এভাবে শিক্ষাকে ধ্বংস করা হচ্ছে। তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার নিজে মুনাফা করছে। যদি গণতান্ত্রিক সরকার হতো তাহলে এমনটি করতে পারত না।

ফোরামের উপদেষ্টা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এই সরকারের জনগণের প্রতি কোনো দায়-দায়িত্ব নাই। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। এই চোরদের কেন ধরা হচ্ছে না? এই পাচারের কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হচ্ছে, যা তারা জনগণকে দিয়ে পূরণ করছে।’

সংগঠনের সদস্য অধ্যাপক হাসানাত আলী বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে কোনো সরকার যা করতে পারেনি, তা এই সরকার করেছে। বেতন বাড়েনি, আয় বাড়েনি অথচ সরকার অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধি করছে। বিভিন্ন অজুহাতে তারা জনগণের টাকায় বিদেশ ভ্রমণে যাচ্ছে। আর জনগণ এদিকে না খেয়ে মরছে।

সরকারের উদ্দেশে হাসানাত আলী আরও বলেন, ‘আপনারা যে লক্ষ-কোটি টাকা পাচার করেছেন, সেই টাকাগুলো এনে জাতীয় অর্থনীতিতে জমা দেন। এই টাকা আদায় করার ব্যবস্থা করে জাতীয় কোষাগারে জমা দিন। তেলের মূল্যবৃদ্ধি করার দরকার নেই। শুধু আপনাদের দুর্নীতি, অনিয়ম, টাকা পাচার ও বেগমপাড়ায় অর্থ লুট করে যে বাড়ি বানিয়েছেন, সেই টাকাগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলে এক টাকাও দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না। এ দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে।’

ফোরামের সাবেক উপদেষ্টা এনামুল হক বলেন, ‘সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশকে দুর্ভিক্ষের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। আমরা উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছি। জীবনযাত্রার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে। অথচ সব জিনিসের দাম বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আমাদের ওপর চেপে বসেছে। বর্তমান প্রশাসন, সরকার সেটি সামাল দিতে পারছে না। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সময় এখনই।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসান খানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে কলা অনুষদের ডিন ও ফোরামের উপদেষ্টা ফজলুল হক, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-জাহান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফোরামের উপদেষ্টা শাহেদ জামান, ফোরামের সহসভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, বাণিজ্য অনুষদের ডিন মো. ফরিদুল ইসলাম, আমিনুল হক, সাবিরুজ্জামান, কামরুজ্জামান, আবদুল খালেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।