
প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকেন ৩০০ রোগী। গড়ে ১ হাজার ৭০০ রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিয়ে থাকেন।
নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে ২৫০ শয্যা চালু করার জন্য আটতলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে চার বছর আগে। কিন্তু জনবল নিয়োগ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ না করায় এখন পর্যন্ত তা চালু করা সম্ভব হয়নি। এদিকে বিদ্যমান ১০০ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসক নেই। নেই পর্যাপ্ত ওষুধ। ফলে নানা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকেন ৩০০ রোগী। গড়ে ১ হাজার ৭০০ রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিয়ে থাকেন। এ রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক। ১০০ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী সদর হাসপাতালে ৫৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে এখানে মাত্র ৩৭ জন কর্মরত আছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে কোনো চক্ষুবিশেষজ্ঞ নেই। এ ছাড়া সিনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট গাইনি পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও মেডিকেল অফিসারের আরও ১৬টি পদে লোক নেই।
গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। রোগীদের চাপে পা ফেলার জায়গাটিও ছিল না কোথাও। হাসপাতালের দুটি টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, একতলা ও দোতলার প্রতিটি চিকিৎসকের কক্ষে, ফার্মেসি, প্যাথলজিসহ সব জায়গায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভিড়।
গত সোমবার রাতে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি হন নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর এলাকার সাইদুর রহমান। তাঁর স্ত্রী রোখসানা বেগম বলেন, হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাঁর স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ভর্তি হওয়ার সময় জরুরি বিভাগে একবার চিকিৎসক তাঁকে দেখেছেন। এরপর মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১২-১৩ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে দেখতে কোনো চিকিৎসক আসেননি। এ ছাড়া, বেশির ভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার আনিছুর রহমান তিনি বলেন, ‘হামি গরিব মানুষ। টাকাপয়সা নেই। প্রায় এক ঘণ্টা লাইনত দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখাইছি। ডাক্তার তিনটা ওষুধ লিখে দিছে। এই ওষুধগুলো হামাক নাকি বাইরে থেকে কিনতে হবে। তাহলে সরকারি হাসপাতালে অ্যাসে কী লাভ?’
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মৌমিতা জলিল বলেন, প্রতিদিন বহির্বিভাগে অন্তত দেড় হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন। সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত একেকজন চিকিৎসককে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এত রোগী দেখার কারণে একজন রোগীকে চিকিৎসকেরা পাঁচ-ছয় মিনিটও সময় দেওয়া যায় না। বহির্বিভাগে রোগী দেখার পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদেরও সেবা দিতে হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯৯৮ সালে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১৩ সালে আটতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর নওগাঁ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ২০১৮ সালে নতুন ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তা হস্তান্তর করেন। কিন্তু ২৫০ শয্যার কার্যক্রম শুরু হয়নি।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, তাঁরা চার বছর ধরে হাসপাতালের নতুন ভবন ব্যবহার করছেন। কিন্তু প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় এখনো ২৫০ শয্যার চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁরা ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালুর জন্য প্রায় প্রতি মাসে জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চাহিদাপত্র পাঠাচ্ছেন। চিঠি চালাচালি চলছে।