ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে থেকেই নগরজুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন, প্যানাফ্লেক্স টানানোর পাশাপাশি তোরণ স্থাপন করেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। সম্মেলন হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও সেসব আর অপসারণ করা হয়নি। এ কারণে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরের বাসিন্দারা।
নগরের একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাসকান্দা বাইপাস এলাকায় থেকে চরপাড়া হয়ে সার্কিট হাউস মাঠ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অসংখ্য তোরণ, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও পোস্টার লাগানো হয়েছিল। কোথাও কোথাও ফুটপাতের ওপরও দেওয়া হয়েছে তোরণ ও ফেস্টুন। এতে নগরজুড়ে মানুষের লাচলে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
আজ রোববার সরেজমিন দেখা যায়, নগরের চরপাড়া, পাটগুদাম, জিলা স্কুল মোড় ও টাউন হল মোড় এলাকায় সম্মেলন উপলক্ষে দেওয়া বেশির ভাগ তোরণ রয়ে গেছে। তবে মাসকান্দা বাইপাস এলাকা থেকে চরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কের ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের বাণিজ্যিক বিলবোর্ড থেকে নেতাদের প্রচারণা অপসারণ করা হয়েছে। এতে বিলবোর্ডে থাকা বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনগুলো চোখে পড়ছে।
৩ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র, বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান ও ডেকোরেটর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পদপ্রত্যাশী নেতারা প্রচার-প্রচারণায় এক কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছেন।
ময়মনসিংহের গ্রাফিকস ডিজাইন ও ছাপানোর কাজ করা প্রতিষ্ঠান গ্রাফিটির স্বত্বাধিকারী শামীম আশরাফ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সম্মেলনের এক মাস আগে থেকেই প্রচারণার কাজ পেতে থাকেন। সম্মেলনের আগপর্যন্ত অন্তত ৩০ লাখ টাকার কাজ করেছেন। তিনি ছাড়া নগরের আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান এসব কাজ করেছে।
একাধিক ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানে কথা বলে জানা যায়, নগরজুড়ে অন্তত ২০০ তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি তোরণের নির্মাণ ব্যয় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। একটি ডেকোরেশন প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, সম্মেলন উপলক্ষে তিনি ৭০টি তোরণ নির্মাণ করেছেন। সব কটি তোরণের নির্মাণ ব্যয় ১২ হাজার টাকা করে।
সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোনীত হয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবেই সম্মেলনের আগে তোরণ-ফেস্টুন করেছেন অনেকেই। এগুলো অপসারণের কাজ চলছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ প্রথম আলোকে বলেন, তোরণ আর ফেস্টুনগুলো পরিবেশের ক্ষতি করছে, নগরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। সম্মেলনে শেষ হয়ে গেছে। এখন আর এগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই। দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন।