হাতকড়া উদ্ধার হলেও ধরা পড়েননি পুলিশকে কামড়ে পালানো মাদক ব্যবসায়ী

হাতকড়া
প্রতীকী ছবি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পুলিশকে কামড় দিয়ে পালিয়ে যাওয়া মাদক ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন ওরফে ইসমাইল বয়াতিকে (৪৬) এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ইসমাইল পলাতক। তবে গতকাল বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে খোয়া যাওয়া হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পলাতক ইসমাইল হোসেনের সহযোগী সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ইসমাইলকে ধরতে অভিযান চলছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল ইসলামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার জামাইয়েরটেক এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মাদকসহ ইসমাইলকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। তবে এ সময় তাঁর এক সহযোগী পুলিশ সদস্যের হাতে কামড় দিয়ে হাতকড়াসহ ইসমাইলকে ছিনিয়ে নেয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদেকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হাতকড়াসহ আসামি পালিয়ে যাওয়ার পর তিনিসহ পুলিশ সদস্যরা একটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে রাতে অভিযানে যোগ দেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল ইসলাম। রাত দেড়টার দিকে ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার একটি সড়কের পাশে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় খোয়া যাওয়া হাতকড়া উদ্ধার করা হয়। পরে ভোররাত চারটা পর্যন্ত অভিযানে ইসমাইলের সহযোগী চার নারীসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া আসামি ইসমাইলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি।

থানা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনকে ধরতে স্থানীয় জামাইয়েরটেক এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালান কোম্পানীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রবিউল ইসলামসহ কয়েক পুলিশ সদস্য। তাঁরা গাঁজাসহ হাতেনাতে ইসমাইলকে আটক করে হাতকড়া পরান। এ সময় ইসমাইলের সহযোগী নারী-পুরুষেরা এসে তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন। একপর্যায়ে এক নারী পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে হাতকড়াসহ ইসমাইলকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ এসে ইসমাইলকে ধরতে অভিযানে নামে।