
বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির নেতা ও তাঁদের সমর্থকদের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
সোমবার দুপুরে শহরের প্রধান রাস্তা সাতমাথা-বনানী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। এ সময় সরকারি শাহ সুলতান কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সহসভাপতি আতিকুর রহমান এবং বগুড়া শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ওরফে সাব্বিরের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করা হয়।
শহরের প্রধান ও ব্যস্ততম এ সড়ক অবরোধ করায় দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে শাজাহানপুর থানা-পুলিশ এসে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি সজীব সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক আল-মাহিদুল ওরফে জয়ের সমর্থক সরকারি শাহ সুলতান কলেজের নেতা-কর্মীরা দুপুরে কলেজের সামনে সাতমাথা-বনানী সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তাঁরা সরকারি শাহ সুলতান কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান ও শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামানের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করে স্লোগান দেন।
খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমবার হোসেন সেখানে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের অবরোধ তুলে নিতে বলেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান এবং মনিরুজ্জামানের ওপর হামলার ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হলেও আসামিরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার না করা হলে আগামীকাল (মঙ্গলবার) আবারও সড়ক অবরোধ করা হবে। পরে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে যান বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন বগুড়া শহর ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাকিবুল হাসান, শাহ সুলতান কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির সরকার, সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী তাসফিকুর রহমান ও কাওসার আহম্মেদ।
এর আগে গত শনিবার রাত নয়টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা ও সাধারণ সম্পাদক আল-মাহিদুলের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাসভবনে যান। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাসভবনের ভেতরে ঢুকলেও নেতা-কর্মীরা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন।
এ সময় কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমানের নেতৃত্বে তাঁদের সমর্থকেরা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। তাঁরা অধ্যক্ষের বাসভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ নেতা-কর্মীদের পেটান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনায় গতকাল রোববার রাতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় ‘বিদ্রোহী’ অংশের নেতা ও জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমানসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। সদর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান বলেন, ‘যাঁরা রাতে কলেজে আসেন, তাঁরা শিবির কর্মী। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা বহিরাগত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছেন। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কয়েকটি ছাত্রাবাসে হামলা-ভাঙচুর করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে আমরাও থানায় এজাহার দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড করেনি।’
এ বিষয়ে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তাঁদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রাবাসে হামলা ও ভাঙচুরের পৃথক একটি অভিযোগ দিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার সাহা। এখনো তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি।
৭ নভেম্বর বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্মেলন ছাড়াই সাত বছর পর ঘোষিত এ কমিটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৩০ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। এর পরপরই শহরের টেম্পল সড়কে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জড়ো হন পদবঞ্চিত ও কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া নেতারা। ওই ভবনে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সব সংগঠনের কার্যালয়। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ওই ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন।