বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন। আজ শুক্রবার শরীয়তপুরের জাজিরার মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে
বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন। আজ শুক্রবার শরীয়তপুরের জাজিরার মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে

জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণ

সন্দেহভাজন দুজন আটক, ঘটনাস্থলে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট

শরীয়তপুরের জাজিরার মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে ঘরের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও মামলা হয়নি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে।

এদিকে ঘটনার আলামত সংগ্রহে উপজেলার মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে কাজ শুরু করেছে পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগ।

আজ সকালে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগের সদস্যরা। তাঁরা বিস্ফোরণে লন্ডভন্ড হওয়া ঘর থেকে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।

এ সম্পর্কে জাজিরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট সেখানে কাজ করছে। ওই ঘটনায় কারা জড়িত তা খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের জন্য বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগ কাজ করছে।’

জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে নবনির্মিত একটি বসতঘরের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে সোহান ব্যাপারী (৩২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সকালে সোহানের রক্তাক্ত লাশ পাশের গ্রামের সাতঘরিয়া এলাকার একটি ফসলি জমিতে পাওয়া যায়। আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন আরও দুজন। তাঁদের মধ্যে নবীন হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল বিকেলে মারা যান। গুরুতর আহত নয়ন মোল্লার চিকিৎসা চলছে।

নিহত সোহান মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে ও নবীন হোসেন রহিম সরদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিরা বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক। যে ঘরটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটি কুদ্দুসের চাচাতো ভাই সাগর ব্যাপারীর। ঘটনার পর থেকে সাগর ব্যাপারী নিখোঁজ।
স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল জলিল মাদবরের মধ্যে বিরোধ চলছে। কুদ্দুস উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জলিল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য।

ওই দুই পক্ষ ৪ জানুয়ারি সংঘর্ষের সময় শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। তখন এক ব্যক্তির হাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় জাজিরা থানায় দুটি মামলা করা হয়। তাতে ৫৭ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। কুদ্দুস ব্যাপারী ও জলিল মাদবরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনসহ বিভিন্ন আইনে বেশ কিছু মামলা আছে। জলিল মাদবর বর্তমানে কারাগারে। আর চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তবে এলাকায় থাকেন না।