
ক্রাউন সিমেন্ট অভিজ্ঞতার আলোর এবারের আয়োজনে অতিথি অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তিনি বাংলাদেশের জন্ম ও এগিয়ে চলার সঙ্গে সমান্তরালে চলা অগ্রগণ্য এক ব্যক্তিত্ব। ১৯৬০-এর দশকের স্বাধিকার আন্দোলন এবং পরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য। সেই থেকে দেশের নানা চড়াই–উতরাই দেখেছেন। ১৯৯০ সালে গঠিত অস্থায়ী সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নব্বইয়ের সেই গণ–অভ্যুত্থান থেকে চব্বিশের অভ্যুত্থান—সব দেখেছেন তিনি। দেশের এই জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও জনবুদ্ধিজীবীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক।
আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি প্রথম আলো–ক্রাউন সিমেন্ট অভিজ্ঞতার আলো এই অনুষ্ঠানে। আজকে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং আমি নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে করছি যে আজকে বাংলাদেশের অভিভাবক এবং ৯০ বছর যাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা, স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকল্প তৈরির জন্য যাঁকে আমাদের প্রশংসা করতে হবে, গৌরবের মুকুট যাঁকে দিতে হবে, অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তাঁর সঙ্গে আমরা তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শুনব।
স্যার, আপনাকে আমাদের এই অনুষ্ঠানে স্বাগত জানাই।
রেহমান সোবহান: থ্যাংক ইউ।
স্যার, আপনার জন্ম হয়েছিল ১৯৩৫ সালে, ১৯৩৫, মার্চ ১২।
রেহমান সোবহান: মার্চ ১২।
তো আপনার নিজের জন্ম তো আর আপনার নিজের মনে থাকবে না, রাইট?
রেহমান সোবহান: না, আমার শুধু এইটা মেমোরিতে আছে, ওইটা খুব নামকরা নার্সিং হোম ছিল, এলগিন নার্সিং হোম। ওই রাস্তার মধ্যে সুভাষ বোসের ফ্যামিলি বিল্ডিং আছে, ওই এলগিন রোডে। তো আমার যখন প্রয়োজন ছিল টু ফাইন্ড আউট আমার বার্থ রেকর্ডস, আমি যখন গেলাম তো দেখলাম, ওই হাসপাতাল তো আর নাই। তারপর আমি সুগত বোস, সুভাষ বোসের নাতিকে, গ্র্যান্ড নেফিউকে জিজ্ঞেস করেছি, কী অবস্থা? উনি বলেছেন, ওইটা তো আর নাই, ওনারও জন্ম ওই ঘরে হয়েছিল, ওই হাসপাতালে।
স্যার, আপনার বাবা খন্দকার ফজলে সোবহান। ওনারা মুর্শিদাবাদের লোক?
রেহমান সোবহান: মুর্শিদাবাদের লোক।
আর আপনার ৩৩তম পূর্বপুরুষ প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.)।
রেহমান সোবহান: এইটা আমার দাদা মেমোরিতে লিখেছে। হিস্টোরিক্যালি কতটা রিলায়েবল আমি বলতে পারি না। বাট এইটা ওনার বিশ্বাস ছিল। উনি তারপর একটা ট্রেস করেছে ইতিহাস থেকে; কিন্তু ওই ফ্যামিলি লিনিয়েজের মধ্যে অনেক ফাঁক আছে।
স্যার, আপনার আব্বা, উনি কি বাংলা বলতেন না?
রেহমান সোবহান: খুব চমৎকার বলতেন। ওনার ফ্যামিলির মধ্যে দে ইউজড টু অনলি স্পিক ইন বাংলা।
ফ্যামিলির মধ্যে বলতেন?
রেহমান সোবহান: ফ্যামিলির মধ্যে। বিকজ মুর্শিদাবাদের নিয়ম তো ছিল ট্র্যাডিশনালি দে ওয়্যার ট্রেইন্ড ইন উর্দু অ্যান্ড বাংলা। বাট মোস্টলি বাংলা...উর্দু ব্যবহার হতো হোয়েন দে ওয়্যার টকিং টু পিপল, বিশেষ করে কলকাতায়। বাট পরিবারের মধ্যে হোয়েনএভার দ্য ফ্যামিলি মেম্বারস, ব্রাদারস, সিস্টারস আপোসে বসে, দে অলওয়েজ স্পোক বাংলা।
আচ্ছা। তাহলে তো বাঙালিই ছিলেন বলা যায়।
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, অফকোর্স বাঙালি ছিলেন।
বাঙালিই ছিলেন, আপনার আব্বা বাঙালি ছিলেন।
রেহমান সোবহান: নো ডাউট অ্যাট অল। মাদারের সিচুয়েশন অন্য ছিল।
আপনার আম্মা হচ্ছেন হাশমত আরা।
রেহমান সোবহান: হাশমত আরা। হ্যাঁ। ওনার বাবা ইউপির (উত্তর প্রদেশ, ভারত) লোক।
ইউপির লোক। আর ওনার মায়েরা আবার কাশ্মীরের।
রেহমান সোবহান: ওনার মা ওই ঢাকা ফ্যামিলি, নবাব ফ্যামিলির।
হ্যাঁ। নবাব ফ্যামিলির, আদি বাড়ি হচ্ছে আবার কাশ্মীর।
রেহমান সোবহান: কাশ্মীর, হ্যাঁ।
ওরা বলছেন অষ্টাদশ, এইটিনথ সেঞ্চুরিতে দে কেইম টু ঢাকা।
রেহমান সোবহান: দ্যাটস রাইট। ওই বেগম বাজারে তারপর উনি বাস করেছেন, ব্যবসা ওইখানে শুরু হলো। ওনার তো কবরস্থান তো ওইখানে আছে।
স্যার, ঢাকার নবাবরা তাহলে মার্চেন্ট, বিজনেসম্যান?
রেহমান সোবহান: দে ওয়্যার অরিজিনালি মার্চেন্টস, হ্যাঁ ডেফিনেটলি। তারপর ওনার তো যে নিয়ম ছিল, দে ওয়্যার ভেরি সাকসেসফুল বিজনেসমেন। আর সাকসেসফুল বিজনেসম্যান যখন সুযোগ হলো, হাতের পুঁজি ছিল, তো যখন হিন্দু জমিদার সব যে আছে—তুমি তো জলসাঘর হিসেবে অনেক কিছু মুভিজ দেখেছ—দে লিভড অল দোজ এক্সট্রাভেগেন্ট লাইভস, তারপর ব্যাংক্রাপসিতে চলে গেল অ্যান্ড দেয়ার জমিদারিস ওয়্যার বিং বট আপ বাই পিপল হু হ্যাড মানি। তো ওই সময় থেকে উনি যেসব জমিদারি অকশনে চলে গেল দে ওয়্যার প্রগ্রেসিভলি বাইং দ্যাট আপ। অ্যান্ড দ্যাট ইজ হাউ দে বিকেম জমিদারস। তো শেষ পথে ইট ইজ সেইড, আই ডোন্ট নো, যখন আমার ভাওয়াল রাজা এসবের কাহানি আমি দেখলাম, দ্যাট দে ওয়্যার বাই ফোরটিসেভেন দে ওয়্যার দ্য বিগেস্ট জমিদারস ইন বেঙ্গল। বাট মোস্টলি এজ আই সেইড বাই বাইং আপ। ওনার নবাব টাইটেল তো ব্রিটিশ দিয়েছে।
এটার সঙ্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলা বা শায়েস্তা খাঁ—এঁদের কোনো সম্পর্ক নাই?
রেহমান সোবহান: না, ওনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নাই। ওই মিউটিনির পরে, তারপর ওই নবাব আবদুল গনি আই থিংক ওয়াজ দ্য ফার্স্ট পারসন। অ্যান্ড দেন তারপর হেরিডিটারি নবাব ওনাকে করে দিয়েছে শেষে। বিকজ অনেক নবাব রাজা হেরিডিটারি ছিলেন না, এক ব্যক্তিকে পরিচয় দিয়ে দে ইউজড টু গিভ দ্য অ্যাওয়ার্ড। বাট খুবই ফিউ... কম ছিল যে এখানে হেরিডিটারি হয়ে গেছে। তো এইটা যখন নবাব হাসান আসকারি এসব ছিলেন এখানে, দে ওয়্যার ইনহেরিটেড... পিপল হু ইনহেরিটেড দ্য অ্যাওয়ার্ড।
তাহলে আপনার মায়ের ফ্যামিলি তাঁরা বাংলা বলতেন না?
রেহমান সোবহান: না, উর্দু বলতেন।
ওরা উর্দু বলতেন।
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ। বিকজ ঢাকা... নবাব ফ্যামিলি ওয়াজ অলসো উর্দু স্পিকার, বাট দে... মেনি অব দেম ওয়্যার কোয়াইট ফ্লুয়েন্ট ইন বাংলা অ্যান্ড পার্টলি দে ওয়্যার অলসো পার্টলি এডুকেটেড ইন বাংলা। বাট মোস্টলি ওনার ফ্যামিলি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল উর্দু। অ্যান্ড আমার নানা তো হান্ড্রেড পারসেন্ট উর্দু ছিলেন।
খাজা নাজিমুদ্দিনও তো আপনার মায়ের মামা, নানা হলো?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, দ্যাটস রাইট। আমার নানির ভাই।
নানির ভাই।
রেহমান সোবহান: ওরা দুই ভাই এক বোন ছিলেন। ভাই দুজন খাজা নাজিমুদ্দিন ও খাজা শাহাবুদ্দিন।
জি। স্যার, আপনার শৈশবে প্রথম স্কুলে যাওয়ার স্মৃতি আপনি খুব সুন্দর লিখেছেন আপনার বইয়ে, বাংলাতে তো বেরিয়েছে ভারত থেকে ‘উতল রোমন্থন’ আর ইংরেজিতে অরিজিনালি বেরিয়েছিল ‘আনট্রাঙ্কুইল রিকালেকশনস’। এখানে আপনি সুন্দর লিখেছেন যে আপনার ছোটবেলায় তিন-চার বছর বয়সে একটা প্রতিভা ছিল, আপনি আয়াদের, কাজের লোকদের হাতে কামড় দিতে পারতেন এবং সেখানে সুন্দর একটা দাঁতের মালা রচিত হতো। তো এই প্রতিভাটা আপনি প্রথম যখন স্কুলে গেলেন, দে ডিড নট অ্যাপ্রিশিয়েট ইট।
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, দ্যাটস রাইট। ওই ক্যাথলিক স্কুল ছিল ওই লরেটো কনভেন্ট। অনেক ডিসিপ্লিনড লোক ছিলেন এখানে। ওই যেসব নান…দে ডিড নট অ্যাপ্রিশিয়েট ইট। আমাকে কোনো একটা জায়গায় বন্ধ করে রেখে দিয়েছে।
সো ইউ ওয়্যার ফোর অর ফাইভ অর থ্রি দেন?
রেহমান সোবহান: আই ওয়াজ দেন থ্রি।
ওখানে যে গেলেন, গিয়ে প্রথমে ওই আয়াদের, সিস্টারদের হাত কামড়ে দিলেন?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ।
এবং...
রেহমান সোবহান: এইটা এজ আই সেইড... শুনেছি।
শুনে... এটাও মনে পড়ে না।
রেহমান সোবহান: দ্যাটস রাইট।
শৈশবে ওই স্কুল থেকে তারপরে আপনি দার্জিলিংয়ে গেলেন। সেন্ট পলস।
রেহমান সোবহান: সেন্ট পলস।
সেটা কত বছর বয়সে?
রেহমান সোবহান: তারপর সাত বছর বয়সে আমি গেলাম।
সেভেন ইয়ার্স ওল্ড।
রেহমান সোবহান: হুম।
তো খুবই আর্লি স্যার। সো ইউ ডিড নট ক্রাই? আপনি কাঁদেন নাই স্যার?
রেহমান সোবহান: একটু। ওইখানে আমার একটা ছবি আছে, হোয়েন আই ওয়েন্ট টু দেয়ার অ্যাট দ্য এজ অব সেভেন, আমার বাবা হি টুক দ্যাট জাস্ট বিফোর হি পুট মি ইনটু দ্য স্কুল।
স্যার আপনি সুন্দর লিখেছেন সেই স্কুলের বর্ণনা, এগুলো সবার পড়া উচিত। তবু আমরা একটু সংক্ষেপে শুনি। যেমন দার্জিলিংয়ে তো পানির অভাব ছিল। আপনাদের খাওয়াও খুব কম দিত দেখা গেল।
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ হ্যাঁ। আমি যখন গেলাম ইন ১৯৪২, ওইটা তো ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু–এর সময় ছিল।
রাইট, রাইট।
রেহমান সোবহান: জিনিসপত্রের অভাব ছিল। রেশনিংও ছিল। ওই স্কুলের সময় প্রায় তিন বছর চিনি দেয় নাই, সুগার দেয় নাই। চা বিনা সুগারে আমি তিন বছর খেয়েছি ওইখানে। ইনফ্যাক্ট এই কারণে আমার টেস্ট ফর সুগার খুব বেড়ে গেছে। আই বিকেম... ইনফ্যাক্ট আমার তো ডায়াবেটিস হয়ে গেছে। বাট ওই সময় ইতিহাসে… আমার মনে আছে… জেনারেলি খাবার এসবের একটু লিমিটেড কোয়ান্টিটিজ...
তারপরে স্যার গোসল, শাওয়ার। এটা টু ডেইজ ইন এ উইক?
রেহমান সোবহান: টু ডেইজ ইন দ্য উইক। দুই বালতি গরম পানি দিত। ওইটার সঙ্গে ঠান্ডা পানি মিশিয়ে তারপর উই কুড হ্যাভ দ্য বাথ। মনে রাখতে হবে আমার সাত বছর বয়স থেকে উই ওয়্যার দেয়ার ফর নাইন মান্থস কন্টিনিউয়াসলি।
রাইট।
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ। অন্য বোর্ডিং স্কুলে এই রকম নয়। অন্যখানে সামার ব্রেক হচ্ছে, যেখানে পিপল হ্যাভ এ ব্রেক ফর ওয়ান মান্থ অর সিক্স উইকস। আর আমরা কন্টিনিউয়াসলি মার্চ মাস থেকে এন্ড অব নভেম্বর পর্যন্ত স্কুলে ছিলাম।
ওখানে সাত বছর থেকে কত বছর পর্যন্ত থাকলেন? ১৭ বছর?
রেহমান সোবহান: ১৫ বছর। আমি নরমালি ইউ উড বি দেয়ার ফ্রম সেভেন টু সিক্সটিন। এক বছর ডাবল প্রমোশন আমি পেয়েছি। আমি আমার সিনিয়র কেমব্রিজ পরীক্ষা অ্যাট দি এইজ অব ফিফটিন দিয়েছি।
স্যার, আপনি তো খেলাধুলায় খুব আগ্রহী ছিলেন। নিজেও খেলতেন। কী কী খেলতেন স্যার?
রেহমান সোবহান: আমার ফুটবল, হকি, ওই ক্রিকেট। আমার কালারস ছিল ফুটবল অ্যান্ড হকি। তারপর বক্সিংয়ে আমি বেশ অ্যাকটিভ ছিলাম। ওইখানেও আমার কালারস ছিল। তারপর অ্যাথলেটিকস, বিশেষ লং ডিসট্যান্স রানিং, ওইখানেও আমি মেডেলস পেয়েছি।
স্যার, আপনি যখন দার্জিলিংয়ে, ওই সময়টাতেই আপনার আব্বা এবং আম্মার ডিভোর্স হয়ে যায়।
রেহমান সোবহান: হুম।
তো আপনি তো তিন মাস কলকাতায় আসতেন। আপনার আব্বা ছিলেন পুলিশের বড় অফিসার, এসপি।
রেহমান সোবহান: হুম হুম হুম।
রাইট। উনি তো স্যান্ডহার্স্ট থেকে মিলিটারি ট্রেনিং নিয়ে এসেছিলেন, না?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ। ওইখানে অরিজিনালি ওনার ইচ্ছা ছিল টু গো ইনটু দ্য আর্মি।
আর্মি, রাইট।
রেহমান সোবহান: অ্যান্ড ওই স্যান্ডহার্স্টে... দে ইউজড টু হ্যাভ অল ইন্ডিয়া টেস্টস। তো ওইটা কোয়ালিফাই করে হি দেন ওয়েন্ট টু স্যান্ডহার্স্ট। আই থিঙ্ক এক বছর উনি ওইখানে ছিলেন। ওই সময়, যেখানে আইয়ুব খান ওয়াজ দেয়ার। বাট দেন ওই সময় সার্ভিসের জন্য দে ওয়্যার সাফারিং, অনেক অভাব ছিল মুসলমান বাঙালির। অ্যান্ড পার্টিকুলারলি পুলিশ সার্ভিসে। তো তারপর গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া মনে করেছে দ্যাট বেটার দ্যান দ্যাট হি শুড বি ব্রট ব্যাক অ্যান্ড হি শুড বি ইন্ডাক্টেড ইনটু ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস। সো দ্যাট ওই সময় তো দুই-তিনজন লোক ছিলেন, ওই জাকির হোসেন যে গভর্নর ছিলেন, হি ওয়াজ দেয়ার, ওই দোহা... তিনজন এই রকম পিপল অব দ্যাট সিনিয়রিটি ছিলেন।
তাহলে স্যার আমাদের শেরেবাংলা ফজলুল হক বা সোহরাওয়ার্দী যখন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন কলকাতায়, তখন কি আপনার আব্বা পুলিশের সার্ভিসে ছিলেন?
রেহমান সোবহান: ছিলেন।
ছিলেন। স্যার আবার বদলি হয়ে উনি পূর্ববঙ্গেও এসেছিলেন লাইক ফরিদপুর, বাগেরহাট?
রেহমান সোবহান: ওই ফরিদপুর... ওই খুলনার এসপি ছিলেন। যে সময় প্রফেসর নুরুল ইসলামের বাবা ওই খুলনা হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন। তো ওনার বাবার একটা মেমোরি ছিল কি, কোরবানির সময় খুলনার ভেতরে কোরবানি করা সম্ভব ছিল না। তারপর আমার বাবার এসপির লঞ্চ ব্যবহার করে, তারপর বাগেরহাটে গরু জবাই করে দে দেন ব্রট ইট ইনটু খুলনা।
আচ্ছা। আপনার আব্বার নামে বাগেরহাটে একটা স্কুল এখনো আছে।
রেহমান সোবহান: এখনো আছে, হ্যাঁ।
সোবহান সাহেবের নামে।
রেহমান সোবহান: হুম হুম।
জি। আর আপনি লিখেছেন যে আপনার আব্বা যেহেতু পুলিশের বড় কর্তা, বিগ অফিসার, আপনাদের যে গাড়িটা ছিল সবাই রাস্তায় স্যালুট করত...
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ। এইটা নিয়ম ছিল। ট্রাফিক পুলিশ ওনার গাড়ি দেখে দে ইউজড টু স্যালুট। তারপর আমার নরমাল এক্সপেকটেশন হয়ে গেল কি, পুরো জীবন আমাকে স্যালুট করবে।
উনি যখন রিটায়ার করলেন, তারপরে আর সালাম দেয় না।
রেহমান সোবহান: না।
তারপরে আপনি স্যার এই ছোটবেলায় দার্জিলিং থেকে এসে আপনার আব্বার যে কোয়ার্টারটা সেটাতে উঠতেন।
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, দ্যাটস রাইট।
আপনি লিখেছেন যে ওই কোয়ার্টারটার মাঠ, বাগান এগুলো ছোটবেলায় খুব বড় মনে হতো, বিগ। যখন বড় হয়ে আবার গিয়েছিলেন তখন অত বড়...
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, অত বড় মনে হয় নাই। ওইটা ওই শিয়ালদহ, ওই পাশে উত্তর... নর্দার্ন... নর্থ অব শিয়ালদহ ছিল ওই আপার সার্কুলার রোড। আমার ১১৩ আপার সার্কুলার রোড, আমার মনে আছে। ওইটা এই পর্যন্ত আছে। ওইখানে, ওই ডেপুটি কমিশনার ওইখানে আছে।
তারপরে আপনার আম্মা চলে গেলেন তাঁর বাবার বাড়িতে। এটা হচ্ছে ৫৩ এলিয়ট রোড।
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ।
সেইখানে পরে যখন দার্জিলিং থেকে আসতেন, তখন আপনি মায়ের সঙ্গে বেশি থাকতেন, নাকি ভাগ করে থাকতেন?
রেহমান সোবহান: না, সব সময় আমার মায়ের সঙ্গে।
সব সময় মায়ের সঙ্গে থাকতেন।
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ। দ্যাটস রাইট। তো তারপর ফ্রম ১৯৪৪ টু ১৯৫০ আমি সব সময় আমার উইন্টার হলিডেজ ওই এলিয়ট রোডে বাস করেছি। তো রিয়েলি আমার মেইন মেমোরি এলিয়ট রোডে আছে।
তো আপনার সুন্দর সিনেমা দেখার বর্ণনা পাচ্ছি...
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, দ্যাটস রাইট। ওয়েল, ওইটা তো আমার ইনহেরিটেন্স ছিল ফ্রম মাই মাদার। ওনার বেশ সিনেমার পছন্দ ছিল। তো আমার যখন তিন-চার বছর বয়স, শি ইউজড টু টেক মি ফ্রম টাইম টু টাইম টু সিনেমা। তো ওইখান থেকে আমারও এই রকম একটা অভ্যাস হয়ে গেল টু গো টু সিনেমা। এই পর্যন্ত আছে।
এখন পর্যন্ত আপনি এখনো রেগুলার সিনেমা দেখেন?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ। এখন তো আনফরচুনেটলি সিনেমা হলে যাবার সুযোগ কম হয়ে গেছে। বাট আমি তো দেখেছি। একাত্তরের আগে তো গুলিস্তান সিনেমা হল ছিল। ওইখানে উই ইউজড টু গো দেয়ার রেগুলারলি।
নাজ।
রেহমান সোবহান: নাজ… এসব। বাট মাঝখানে তো সিনেমা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন তো দেখছি সিনেপ্লেক্সের মতো নতুন অবস্থা হয়ে গেছে এখানে।
এখন কি স্যার আপনি নেটফ্লিক্সের ছবি দেখেন?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, অনেক দেখি।
অনেক দেখেন। আপনি কি কখনো গান শেখেননি?
রেহমান সোবহান: শিখেছি, কিন্তু আমার ক্যাপাবিলিটি খুব দুর্বল ছিল।
আর নাচের বিষয়ে তো আপনার বিশেষ আগ্রহ ছিল—নৃত্য, ডান্স?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, বাট আমার বাবা হোয়েন হি ওয়াজ ডেপুটি কমিশনার, তখন উদয় শংকরের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি রবিশঙ্করের বড় ভাই। হি ওয়াজ ওয়ান অব দ্য মোস্ট ফেমাস ডান্স ট্রুপস। তো উই ইউজড টু গো রেগুলারলি, ফ্রন্ট রোতে ওনাকে আমাকে বসাত; হোয়েন উই ওয়েন্ট টু দ্য পারফরম্যান্সেস অব উদয় শংকর।
আপনি নিউমার্কেটে বইয়ের দোকানের খুব সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন। অনেক বই কিনতেন। ছোটবেলায় কমিকসের বই বেশি পড়তেন।
রেহমান সোবহান: কমিকস একটু বেশিই পড়তাম। সেগুলো আমেরিকান কমিকস ছিল আর ব্রিটিশ কমিকস ছিল। তো এইটা আমার একটু বেশি পছন্দ ছিল।
স্যার, এরপর তো আপনি পড়াশোনা করার জন্য লাহোরে গেলেন?
রেহমান সোবহান: হুম।
লাহোরের এটা কোন স্কুল স্যার?
রেহমান সোবহান: এইচিসন কলেজ।
এইচিসন কলেজ।
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ। এখানে তো রুলিং ক্লাসের প্রিপারেশন হতো। কয়েকজন প্রাইম মিনিস্টার, মন্ত্রী, একসময় ১৯৮০–এর দশকে, আই থিংক জিয়াউল হক আমলে প্রায় ৪০ জন এইচিসনের লোক পার্লামেন্টে ছিলেন।
স্যার তত দিনে তো ১৯৪৭ হয়ে গেছে। ইন্ডিয়া–পাকিস্তান ভাগ হয়ে গেছে।
রেহমান সোবহান: হুম।
তো আপনাদের ফ্যামিলি কি তখন কলকাতায় থাকল, নাকি ঢাকায় চলে এল? সবাই ঢাকায়...
রেহমান সোবহান: না, না। আমার ফাদার তো রিটায়ার করে হি ওয়াজ দেন গোয়িং ব্যাক অ্যান্ড ফোর্থ বিটুইন কলকাতা অ্যান্ড ঢাকা। উনি তারপর একটা বিজনেস লাইনে ঢুকে গেছেন। আমার নানা স্টেড অন ইন কলকাতা। তো আপ টু ১৯৫০ কলকাতায় ছিলাম। নানা তো পারমানেন্টলি স্টেড দেয়ার অ্যান্ড হি স্টেড দেয়ার টিল হিজ ডেথ ইন ১৯৫৭। তো হি নেভার মুভড, ওইখানেই ছিলেন। যখন আমি এইচিসন কলেজে, আমার ছোট ভাইেকো মা সেখানে দিয়ে চলে গেল, শি ডিসাইডেড দ্যাট এখন তো এখানে তো ভবিষ্যৎ কিছু হবে না, তো আই বেটার মুভ টু পাকিস্তান। উই ওয়েন্ট অফ ফ্রম কলকাতা টু লাহোর। শি ফলোড অ্যাবাউট আ ইয়ার লেটার।
তারপর খাজা নাজিমুদ্দিন যখন প্রধানমন্ত্রী, একসময় গভর্নর জেনারেল, তখন আপনার মা এসে ওই পাকিস্তানে তাঁর বাসায়...
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, দ্যাটস রাইট। আমি যখন গেলাম ইন ফার্স্ট ইন ১৯৫৩...নট ৫৩, ৫১। ওই সময় খাজা নাজিমুদ্দিন গভর্নর জেনারেল ছিলেন। ওই লিয়াকত আলীর অ্যাসাসিনেশনের পর হি বিকেম প্রাইম মিনিস্টার। আর আমার বাবাকে উনি নিয়ে আসলেন টু বিকাম হিজ পলিটিক্যাল সেক্রেটারি। বাট আমার মা যখন...হোয়েন শি কেইম টু পাকিস্তান, তারপর ওনার আঙ্কেল বলেছে, তুমি আমার সঙ্গে একটু বাস করো আনটিল ইউ গেট সাম রেগুলার প্লেস।
তারপর সেখান থেকে আপনি গেলেন লন্ডন?
রেহমান সোবহান: লন্ডন।
এটা কি কেমব্রিজে?
রেহমান সোবহান: কেমব্রিজ...অরিজিনালি তো আমার ফাদারের ইচ্ছা ছিল দ্যাট আমি লেদারের ব্যবসায় ঢুকে যাব।
হ্যাঁ। এর মধ্যে আপনার আব্বা ঢাকায় লেদারের একটা কিছু করা শুরু করেছেন?
রেহমান সোবহান: দ্যাটস রাইট। আর পি সাহার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে ওনার ট্যানারির একটা ব্যবসা করার ইচ্ছা ছিল। বিকজ দিস ওয়াজ দ্য ফার্স্ট মডার্ন ট্যানারি ইন ইস্ট পাকিস্তান। তো আর পি সাহার সঙ্গে উনি ব্যবসা শুরু করেন। ফরিদপুরের শামসুদ্দোহা, হি হ্যাড বিন হিজ কলিগ ইন দ্য পুলিশ সার্ভিস, ওনার সঙ্গে তারপর একটা বড় মডার্ন ট্যানারি করেন, ঢাকা ট্যানারি ওই হাজারীবাগে।
তারপর আপনার আব্বা চাচ্ছিলেন, এটা নিয়েও আপনি একটু পড়াশোনা করেন?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ। এইটা নিয়ে আমি পড়াশোনা করব, তারপর ওনার পক্ষ থেকে ব্যবসা চালাব। কিন্তু আমার তো কোনো ইচ্ছা ছিল না। ওয়ান্স আই ওয়েন্ট দেয়ার, ইভেনচুয়ালি আই ডিসাইডেড—চামড়া ব্যবসায় তো আমার ভবিষ্যৎ কিছু নাই। তো আই টুক দ্য ইনিশিয়েটিভ অন মাই ওন। আমি কেমব্রিজে দরখাস্ত করি। আমার একটা সুবিধা ছিল—খাজা নাজিমুদ্দিন ওই কলেজেই পড়াশোনা করেছেন, অ্যান্ড হি ওয়াজ আ ফেলো অব দ্য কলেজ। তো ওই ফেলো এর সম্মান করার জন্য আমি অ্যাডমিশন পেয়েছি। আমি যখন দরখাস্ত করেছি, তখন টার্ম শুরু হয়ে গেছে। কেমব্রিজে ঢুকবার, অক্সফোর্ডে ঢোকা একটা অসম্ভব জিনিস ছিল। ব্রিটিশের এখন একটা ভদ্রতা ছিল দ্যাট হ্যাড হি (নাজিমুদ্দিন) এপ্লাইড হোয়েন হি ওয়াজ প্রাইম মিনিস্টার, তারা না করে দিতেন। বাট বিকজ দে হ্যাড ইলেক্টেড হিম এ ফেলো হোয়েন হি ওয়াজ দ্য প্রাইম মিনিস্টার... আর এখন উনি প্রাইম মিনিস্টার নাই... তো ওনার সংস্কৃতির মধ্যে বিশ্বাস ছিল যে এইটা তো একটা অভদ্রতা হয়ে যাবে... দ্যাট আমি এক ব্যক্তিকে সম্মান করেছি হোয়েন হি ওয়াজ প্রাইম মিনিস্টার, যখন আমাকে এখন কিছু লিখেছে হোয়েন হি ইজ নো লঙ্গার দেয়ার... ইফ আই ডু নট রেকগনাইজ দিস... ইট উইল রিয়েলি বি সিন এজ একটা অভদ্র। এইটা আমার হাইপোথিসিস। এইরকম কিছু বলে নাই। বাট দ্যাট আই শুড গেট এডমিটেড যেখানে টার্মও শুরু হয়ে গেছে…
তারপর আপনি কেমব্রিজে পড়াশোনা করতে লাগলেন?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, তিন বছর আমি কেমব্রিজে ছিলাম।
তো স্যার ওই যে সাম্বা নাচ—এগুলো কখন শিখলেন, কোথায় শিখলেন?
রেহমান সোবহান: ওই সব কেমব্রিজের সময়।
কেমব্রিজের সময়?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ। তখন তো আমার সব ছাত্রের সোশ্যাল লাইফ খুবই অ্যাকটিভ ছিল। ওই পার্টি হতো, গান–বাজনা হতো, ড্যান্সিং হতো—এইগুলো।
রাইট। পলিটিক্যালি আপনি যে একটু লেফট চিন্তাধারার... প্রগ্রেসিভ বলি আমরা। এইটা কি ওখান থেকে হলো?
রেহমান সোবহান: ওইখানে কেমব্রিজে। আমি যত দিন এইচিসনে ছিলাম, অ্যান্ড বিফোর দ্যাট, দার্জিলিংয়ে, আমার পলিটিক্যাল কনশাসনেস খুবই দুর্বল ছিল, অ্যাওয়ারনেসও খুবই দুর্বল ছিল। হোয়েন আই ওয়েন্ট টু কেমব্রিজ, ওইখানে রিডিং দিয়ে পত্রিকা পড়াশোনা, তারপর মিটিং পিপল, অনেক ক্লাব আছে তো, ওই সোশ্যালিস্ট ক্লাব অ্যান্ড লেবার সোসাইটিতে আমি যোগ দিয়েছি। দেন আই কুড হিয়ার দ্য প্রগ্রেসিভ পিপল, তারপর ওয়ার্ল্ড পলিটিকস, তারপর ডমেস্টিক পলিসিজ—এসবের কী রকম দৃষ্টি ছিল, আই গট এক্সপোজড টু দ্যাট।
তারপর আপনি ফিফটি সেভেনে ঢাকায় চলে এলেন? আপনার এই বইটায় আপনি খুব সুন্দর কতগুলো কথা লিখেছেন, একদম ভূমিকার মধ্যে—১৯৫৭ সালে ২১ বছর বয়সে আপনি এলেন। তখন আপনি বাংলা বলতে পারতেন না। আমি যে পরিবারের মানুষ, বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের পরিচয় ছিল না। ইলিশের রসাস্বাদন তখনো পাননি। রবীন্দ্রসংগীত শোনেন নাই। রবীন্দ্রনাথ–নজরুল ইসলামের কবিতা আপনাকে ইন্সপায়ার করে নাই। কেমব্রিজে তিন বছর কাটিয়ে ঢাকায় যখন এলেন, তখন আপনি একজন ব্রাউন ইংলিশম্যান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ উপন্যাস আপনার মনে আছে?
রেহমান সোবহান: ‘গোরা’ আমি পড়েছি—ইন ট্রান্সলেশন।
রাইট। ও তো আসলে ছিল ইংরেজের আইরিশ বাবার সন্তান। হি থট—সে একটা ব্রাহ্মণ। খুব ব্রাহ্মণ্যবাদ প্রচার করত। জীবনের শেষে এসে জানল—হি ওয়াজ নট আ হিন্দু অ্যাট অল। আপনি তো মুর্শিদাবাদের বাঙালি ফজলে সোবহান সাহেবের ছেলে। কিন্তু আপনার মা তো পুরাই উর্দু স্পিকিং। আপনাদের বাবার বাড়িও উর্দু স্পিকিং ছিল এক অর্থে। বাইরে তো বটেই। ইউ চোজ টু কাম টু বাংলাদেশ, টু ইস্ট বেঙ্গল অ্যান্ড ইউ চোজ টু বি আ বাঙালি। এইটা তো বড় সিদ্ধান্ত, এই সিদ্ধান্ত কেমনে নিলেন স্যার?
রেহমান সোবহান: নিলাম।...আই ওয়াজ অ্যান আইডিয়োলজিক্যাল বাঙালি। এইটা আমার ইচ্ছা করে, আমি এই জাত, এর ওপরে আই ডিসাইডেড টু মেক মাই ফিউচার।
এইটা কি স্যার রেবেল ছিল একধরনের?
রেহমান সোবহান: একটু। বাট আমার যে ওই সময় বামপন্থীর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, ওইটা আমার মনে ছিল যদি ভবিষ্যতে কিছু করা যায় তা হবে এখানে (ইস্ট বেঙ্গলে)। ইট হ্যাজ টু বি রিলেটেড টু সাম প্লেস। অনেকে আমার মতন লোক বিদেশে চলে গেছে। অ্যান্ড দে স্টিল রিমেইন স্ট্রং লেফটিস্টস। বাট আমার ইচ্ছা ছিল, একটা সমাজকে আমার সঙ্গে একটা ট্রান্সফরমেশন প্রসেসের মধ্যে যদি যেতে হয় তো এইটা তো লোকেট করতে হবে ইন সাম গ্রাউন্ড। রাইট। অ্যান্ড আমি সব জায়গা দেখি তো বলি, যেখানে আমার শুধু ফ্যামিলি কোন ট্রেডিশনস আছে, কন্টাক্ট আছে। অ্যান্ড বিশেষ অবজেক্টিভ কন্ডিশনস অ্যাজ উই স ইট অ্যাট দ্যাট টাইম। ওই সময় উই বিলিভড যে কোনো এক জায়গায় যদি একটা লেফটের ভবিষ্যৎ থেকে থাকে, ইট উইল বি ইন হোয়াট ওয়াজ দেন ইস্ট পাকিস্তান। ওইটা আমার ওই সময়ের আমার যাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা হতো এই বিশ্লেষণের মধ্যে দ্যাট ওয়াজ আওয়ার কনক্লুশন।
স্যার, আপনার বইয়ে আপনি লিখেছেন, ড. কামাল হোসেন আপনার ফুফাতো ভাই। আপনি ঢাকায় এসে ওই ফুফুর বাড়িতে উঠলেন বেইলি রোডে?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ।
একসময় কিছুদিন ছিলেন?
রেহমান সোবহান: শুরুতে আমি নানা রকম জায়গায় ছিলাম। বাট ফাইনালি আই কেম অ্যান্ড স্টেড ইন বেইলি রোড।
তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করলেন?
রেহমান সোবহান: ওইটা তো নাইনটিন ফিফটি সেভেন অক্টোবর। আমার সঙ্গে ওই বছর আনিসুর রহমান, মোজাফ্ফর আহমদ, মাহফুজুল হক, মাকসুদ আলী—উই অল জয়েনড টুগেদার।
পড়াতে শুরু করলেন? তারপর কি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে বাসা নিয়েছিলেন, নাকি ওখানেই থাকলেন?
রেহমান সোবহান: না, আমার বাসার সুযোগ হলো অনলি ইন নাইনটিন সিক্সটি ফোর। ওই পর্যন্ত আই কুড নট গেট অ্যানি অ্যালটমেন্ট। তো ওই ভাড়া বাড়িতে ছিলাম। প্রথম তো বেইলি রোডে ছিলাম। তারপর যখন কামালের ফ্যামিলি, ফাদার অ্যান্ড মাদার ফেরত আসল ফ্রম করাচি, তারপর আমার শান্তিনগরে, ৮৩১ বাই ৮৩৩ শান্তিনগর। একটা ঘর ছিল ওইখানে।
তারপর আপনার সেই ফেমাস টু ইকোনমি থিওরি। এইটা কত সালে কোথায় প্রথম লিখলেন স্যার?
রেহমান সোবহান: আমার সিনিয়র কলিগরা ওয়্যার অলসো টকিং অ্যান্ড রাইটিং অ্যাবাউট দিস। আমার মেইন অভিজ্ঞতা হয়েছিল উই বিগ্যান পাবলিসাইজিং দিস— মার্শাল ল–এর সময়। সিনিয়র কলিগস এসব তো ওই সময় ইভেন দো দে হ্যাড রিটেন অ্যান্ড স্পোকেন অ্যাবাউট ইট, মার্শাল ল এর সময় তো একটা পাবলিকলি এইরকম একটা প্রচার করা… দে ওয়্যার নট দ্যাট এনথুজিয়াস্টিক। আই ওয়াজ ইয়াং, আমার কোনো ফ্যামিলিও ছিল না। আই কুড টেক রিস্কস অ্যান্ড সো আই ওয়াজ রাইটিং অ্যান্ড স্পিকিং অ্যাবাউট ইট। ফার্স্ট আলোচনা হলো একটা সেমিনারের মধ্যে ইন ঢাকা ইউনিভার্সিটি। ওই টু ইকোনমিজের ওপরে। আমি আর নুরুল ইসলাম।
এইটা লাইক কত সাল? নাইনটিন সিক্সটি ওয়ান?
রেহমান সোবহান: দিস উড বি ইন রাউন্ড অ্যাবাউট মে নাইনটিন সিক্সটি ওয়ান। ওইটা বাই অ্যাকসিডেন্ট আইয়ুব খান ওয়াজ অলসো দেয়ার ইন ঢাকা। অ্যান্ড তারপর উনি যখন হি ওয়াজ লিভিং, তো জার্নালিস্ট ওনাকে জিজ্ঞেস করেছেন —এখানে তো বলা হচ্ছে পাকিস্তানের দুই অর্থনীতি। আপনি কী মনে করেন? তো উনি খুব গাই গাই করে বলেছেন, পাকিস্তানের ওয়ান ইকোনমি আছে, এইভাবে থাকবে। বাট বাই শিয়ার অ্যাকসিডেন্ট, আমার ওই দিনে সেমিনার ছিল। ওই সেমিনারের মধ্যে আই টকড অ্যাবাউট টু ইকোনমিজ। নেক্সট ডে যখন ওনার হেডলাইন প্রচার হলো, তো সাইড বাই সাইড অবজারভার পাবলিশড—আইয়ুব খান সেজ পাকিস্তান হ্যাজ ওয়ান ইকোনমি, রেহমান সোবহান সেজ পাকিস্তান হ্যাড টু ইকোনমিজ। ওই সময় তো আমার বয়স ছিল টুয়েন্টি সিক্স। আমি সিনিয়র লেকচারার ছিলেন, হি ওয়াজ দ্য প্রেসিডেন্ট অব পাকিস্তান। বাট ওই পরিবেশ এই রকম ছিল বিকজ হোয়েন পলিটিশিয়ানস ওয়্যার নট পারমিটেড টু স্পিক, টিচারের লেখা কথা এসব ওয়াজ গেটিং আ লট অব অ্যাটেনশন। তারপর হোয়েন আই ওয়েন্ট টু দিস বিগ কনফারেন্স ইন ওয়েস্ট পাকিস্তান, তারপর ওইখানে আই মেড দিস পেপার প্রেজেন্টেশন। অ্যান্ড ওই পেপার প্রেজেন্টেশন এই সাবজেক্টের ওপরে ওইখানে যে আমি বলেছি দ্যাট যদি পাকিস্তানকে এক থাকতে হয় দেন ইউ উইল হ্যাভ টু হ্যাভ কমপ্লিট অটোনমি। না হয় তো তারপর ভবিষ্যতে কী হবে বলা যাবে না। সো দিস ওয়াজ অলসো ডিউরিং মার্শাল ল। পাকিস্তান অবজারভার তারপর ওই ভাষণ দুই দিনে ফুল পাবলিশ করেছে পেপারে। ফুল পেপার পাবলিশ করেছে। এইটা খুব একাডেমিক পেপার ছিল। অ্যাকচুয়ালি কোনো রিডারের কী ইন্টারেস্ট থাকবে ওইটা তারা ভাবেননি। বাট দে পাবলিশড দ্য ফুল পেপার ইন টু ইস্যুজ অব দ্য পাকিস্তান অবজারভার।
তাহলে ওই সময়টায় আপনার ২৬ বছর বয়স। কারণ, আমি একটা অন্য প্রসঙ্গে যাচ্ছি, সেটা হচ্ছে নভেরাকে নিয়ে আপনি গাড়ি চালাচ্ছেন, এখানে–ওখানে অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, নাটক দেখতে যাচ্ছেন এবং আপনি লিখেছেন যে আপনার ওনাকে পছন্দই ছিল। কিন্তু ওনার পছন্দ ছিল কি না, শি ওয়াজ অ্যান আর্টিস্ট, ওই রকম মুড তাই না? একটু স্মৃতিচারণা করবেন কি!
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, ওয়েল, আমার তো গুড ফরচুন ছিল যে এস এম আলী, ওই নভেরার সঙ্গে ওনার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। অ্যাট দ্যাট পয়েন্ট হি হ্যাড ডিসাইডেড যে উনি তো মার্শাল ল আমলে থাকবেন না। হি ওয়াজ গোয়িং অফ টু ব্যাংকক। ওই হয়তো ব্যাংকক পোস্টে একটা চাকরি পেয়েছেন, হি ওয়াজ গোয়িং অফ দেয়ার। তো যাওয়ার আগে হি থট দ্যাট নভেরা তো খুব একটা আইসোলেটেড জীবন কাটায়। হি উইল ইন্ট্রোডিউস হার টু সাম পিপল। আই ওয়াজ ওয়ান অব দ্য পিপল। আমার ওই কামাল হোসেনের যে ঘর ছিল ইন বেইলি রোড, ওই নভেরার ঘর মোটামুটি জাস্ট অপোজিট ছিল একটা অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যে। দেন হি টুক মি অ্যান্ড ইন্ট্রোডিউসড মি টু হার। তারপর আই ইউজড টু ড্রপ ইন রেগুলারলি। ওনার এখন ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক বেশ পছন্দ ছিল। তো আই ইউজড টু টেক রেকর্ডস অ্যান্ড উই ইউজড টু লিসেন টু মিউজিক। তারপর ওনাকে ড্রাইভে নিয়ে যেতাম। দেন উই অকেশনালি ওয়েন্ট আউট।
অ্যাকচুয়ালি স্যার আপনি লিখেছেন যে একটা গান যখন বেজে ওঠে উনি একটা রিঅ্যাকশন দেখিয়েছিলেন। অ্যাকচুয়ালি কী ঘটে তখন?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, খুবই ইমোশনাল ছিলেন। ওই আমার মনে পড়ছে বেটোভেনের কোনো সিম্ফনি ছিল। উনি প্রায় অজ্ঞান হয়ে গেলেন জাস্ট লিসনিং টু ইট। অজ্ঞান হয়ে গেল মানে শি ওয়েন্ট ইন টু আ ট্রান্স।
মার্গ...দশা প্রাপ্তি ঘটল।
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ।
তারপরে আপনার স্যার সালমা ভাবির সঙ্গে, সালমা সোবহান। ওনার পুরো নামটা হচ্ছে সালমা রাশিদা আখতার। তাঁর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার আগেই তো আপনার দেখা হয়েছিল নাকি?
রেহমান সোবহান: না, উনি তো কেমব্রিজে ছিলেন।
ও, রাইট রাইট। ইয়েস।
রেহমান সোবহান: ওনার ফাদার ওই সময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ছিলেন। অ্যান্ড শি ওয়াজ টু ইয়ার্স জুনিয়র টু মি। আমরা মজলিশ আয়োজন করতাম। উই ব্রট হার ইনটু দ্য মজলিস। ওই সময় বাট ভালো কিছু পরিচয় হলো না। যখন উনি বিএ করে, ডিগ্রি করে, দেন শি অলসো ডিড দ্য ব্যার ডিগ্রি...ইন ফ্যাক্ট শি ওয়াজ প্রবাবলি দ্য ইয়াঙ্গেস্ট পারসন এভার ফ্রম পাকিস্তান টু ডু দ্য বার ডিগ্রি।
বার।
রেহমান সোবহান: তো ওই বার ডিগ্রি করে তারপর শি কেম টু করাচি…তারপর আই হ্যাড হার্ড দ্যাট শি হ্যাড কাম ব্যাক। তারপর আই ডিসাইডেড লেট মি গো অ্যান্ড মিট হার। ওই সময় তো আই ডিডন্ট নো অ্যানিথিং...আমার ফ্যামিলি পরিচয় ছিল বাট আই ডিডন্ট নো মাচ অ্যাবাউট হার। ওইখানে ওই সময় উই ডিসাইডেড দ্যাট তারপর এখানে তো একটা কিছু ভবিষ্যৎ হতে পারে।
তারপর এটা কি ফ্যামিলি পর্যায়ে বিয়ে হলো নাকি আপনি ডাইরেক্ট তাঁকে বললেন, আই উইল ম্যারি ইউ? ক্যান আই...ক্যান আই...
রেহমান সোবহান: না, ফার্স্ট তো আপোসের মধ্যে ঠিক হলো।
নিজেরা?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ। দেন উই লেট দ্য ফ্যামিলি নো।
তারপর এটা বিয়ের অনুষ্ঠানটা লন্ডনে হলো?
রেহমান সোবহান: লন্ডনে হলো। বিকজ ওই সময় ওনার বাবা হ্যাড রিটায়ার্ড অ্যাজ ফরেন সেক্রেটারি অ্যান্ড দেন হি বিকেম দ্য ফার্স্ট সেক্রেটারি জেনারেল ফর হোয়াট ইজ নাও কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট।
আচ্ছা।
রেহমান সোবহান: উনি তারপর ওই সময় লন্ডনে ছিলেন। ওনার আমার ওয়েডিং রিসেপশন ওয়াজ ইন দ্য কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটে একটা কনফারেন্স রুমে হলো।
রওনক জাহানের সঙ্গে আপনার বিয়ে হলো স্যার কত সালে?
রেহমান সোবহান: ওই হলো টু থাউজেন্ড অ্যান্ড ফাইভ।
টু থাউজেন্ড ফাইভ। পরিচয় তো আগে থেকেই?
রেহমান সোবহান: আগে থেকেই। ওই নাইনটিন সেভেন্টি … রচেস্টার ইউএসএর কনফারেন্সের মধ্যে প্রথম দেখা হলো। অ্যান্ড শি ওয়াজ ওয়ান্টিং টু মি টু ব্রিং অল দিজ কপিস অব ফোরাম পত্রিকা, যেখানে উনি সাবস্ক্রাইব করেছেন। তো ওই সময় থেকে অ্যান্ড আফটার দ্যাট উই ওয়্যার মিটিং। বিকজ ওনার সাবজেক্ট আর আমার সাবজেক্টের মধ্যে মিল আছে। তো উই ওয়্যার অলওয়েজ মিটিং। তারপর উই বিকেম ফ্রেন্ডস। উই উড মিট রেগুলারলি। সালমার সঙ্গে ওনার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল।
জি। গেলে দেখা হতো বা ওনার বাসায় উঠতেন?
রেহমান সোবহান: দ্যাটস রাইট। সো আই মিন হোয়েন উই ওয়্যার ইন নিউইয়র্ক আইদার সালমা উড স্টে উইথ হার, আই উড স্টে উইথ হার। তারপর উই উড মিট রেগুলারলি।
সিক্সটি টুর যে স্টুডেন্ট মুভমেন্ট, ছাত্র আন্দোলন, বাষট্টির ছাত্র আন্দোলন। ওইটা আপনি তো টিচার, আপনি দেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মনে আছে কিছু?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, খুব ভালো। বিকজ ওই সময় তো উই ওয়্যার মাচ মোর অ্যাকটিভলি ইনভলভড। অ্যান্ড ওই স্টুডেন্টের যে আন্দোলন হলো, ইট ওয়াজ ইন্সপায়ারড বাই অ্যারেস্ট অব সোহরাওয়ার্দী।
ইট ওয়াজ দ্য ফার্স্ট...সোহরাওয়ার্দী যে সময় ওই কনস্টিটিউশনের ড্রাফট প্রচার করেছে, দে ওয়্যার ফ্রাইটেন্ড দ্যাট এইটা রিঅ্যাকশন কেমন করে হবে, বিশেষ আমাংস্ট দ্য বেঙ্গলি...বাঙালিজ। অ্যান্ড সো অ্যাজ আ প্রিকশনারি মেজার দ্য অ্যারেস্টেড সোহরাওয়ার্দী। তো আমার মনে হচ্ছে কি ফার্স্ট ডে অ্যারেস্টে আমার কামালের আলোচনা হলো, দ্যাট দেয়ার ইজ নো রিঅ্যাকশন। বিকজ আপ টু দ্যাট টাইম। কোনো আন্দোলন হলো না, ডিউরিং দ্য মার্শাল ল পিরিয়ড। দেন নেক্সট ডে আন্দোলন শুরু হয়ে গেল। অ্যান্ড দেন স্টুডেন্টস বিকেম ভেরি অ্যাকটিভ। আর ওই সময় তো ওই ক্লাসে, এমএ ক্লাসে...এমএ ক্লাসের না আই থিঙ্ক দে ওয়্যার লো...রাশেদ খান মেনন এসব ওইখানে আমার তো ছাত্র ছিলেন এখানে। সো দে ইউজড টু কাম অ্যান্ড ডিসকাস পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক ইস্যুজ উইথ মি। তো ইন্টারেস্টিং কথা হলো এখানে যে আমি এখানে লিখেছি দ্যাট আন্দোলনের মাঝখানে মঞ্জুর কাদের, পাকিস্তানের ফরেন মিনিস্টার, ওয়ান্টেড টু কাম অ্যান্ড অ্যাড্রেস ঢাকা ইউনিভার্সিটি।
মঞ্জুর কাদেরের পরিচয় ছিল দ্যাট হি ওয়াজ দ্য লিডিং ল ইয়ার অব ওয়েস্ট পাকিস্তান। অ্যান্ড উনি আমার...হি ইউজড টু থিঙ্ক দ্যাট, উনি এখন একটা খুব নাম্বার ওয়ান বুদ্ধিজীবী আছেন। অ্যান্ড হি ইজ উইলিং টু এনগেজ ইন ডায়ালগ উইথ ঢাকা ইউনিভার্সিটি পিপল। এইটা ওনার জিদ ছিল।
ডিবেট করে কনভিন্স করতে চেয়েছিল?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ। অ্যাজ আই সেইড আই রিগার্ডেড দ্যাট অ্যাজ আ ভেরি পজিটিভ কোয়ালিটি। আই ক্যান নট থিঙ্ক অব অ্যানি মন্ত্রী ইন রিসেন্ট ইয়ারস হু উইল ওয়ান্ট টু কাম বিফোর স্টুডেন্টস অ্যান্ড এক্সপোজ দেমসেলভস টু আলোচনা লাইক দ্যাট। বাট ওনার ইন দ্য মিডল অব আ রায়োটাস সিচুয়েশন হি কেম টু ঢাকা ইউনিভার্সিটি। ওই ঘটনা টুক অ্যানাদার টার্ন। তারপর ওনাকে আক্রমণ করে। অ্যান্ড উই হ্যাড টু রেসকিউ হিম। বাট দেন ওইটা পরে হি স্টিল ওয়ান্টেড টু ক্যারি অন দ্য আলোচনা।
তো স্টুডেন্টরা শুয়ে পড়ে তাকে বাধা দিল?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ। দেন টিচারের সঙ্গে উই টুক হিম লেটার অন টু দ্য কমন রুম অব দ্যাট ঢাকা ইউনিভার্সিটি টিচার্স। ওইখানে ওনার প্রায় তিন ঘণ্টা ওনার সঙ্গে আলোচনা হলো। হি ওয়াজ উইলিং টু ডিবেট উইথ আস। খুবই গুড আই থিঙ্ক উই গট দ্য বেটার অব দ্য ডিবেট। বাট হি ওয়াজ সাহস ছিল দ্যাট হি কুড ডিবেট।
এরপর স্যার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা যখন দিলেন, ছয় দফা নিয়ে কি আগে আপনাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল?
রেহমান সোবহান: ওয়েল, উই ওয়্যার মিটিং ফর আদার অকেশনস। যখন সোহরাওয়ার্দী সাহেব ইউজড টু কাম টু ঢাকা অ্যাট দ্যাট টাইম, বঙ্গবন্ধু ওয়াজ অলওয়েজ উইথ হিম। সোহরাওয়ার্দী সাহেবের ডাক্তার ছিলেন কামাল হোসেনের ফাদার। অ্যান্ড সো হি ইউজড টু কাম ফর ফিজিওথেরাপি টু ওই বেলি রোডের ঘরে। অ্যান্ড সো বঙ্গবন্ধু উড দেন কাম দেয়ার উইথ সাম অব হিজ ফলোয়ারস অ্যান্ড দেন উই উড মিট অ্যাট দ্যাট টাইম সো হি কেম টু নো মি অ্যান্ড অ্যাজ আই টোল্ড ইউ। আমার তো ওনার সঙ্গে নাইনটিন ফিফটি সেভেনে দুইবার দেখা হলো। ফার্স্ট ইন দ্য রেসিডেন্স অব খাজা নাজিমুদ্দিন, যখন খাজা নাজিমুদ্দিন ওনাকে নিমন্ত্রণ দিয়েছে। অ্যান্ড দেন উইথ মাই ফ্রেন্ডস ফাদার মিয়া ইফতেখারুদ্দিন যার ওই ওনার ওপরে আক্রমণ হলো ফ্রম ছাত্রলীগ বাট হি কেম টু কল অন হিম ইন দ্য হোটেল। তো আবার উনি আমাকে দেখলেন অ্যান্ড...
বইয়ে খুব সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন যে ছাত্রলীগ অ্যাটাক করেছে আবার শেখ মুজিব গিয়ে দেখা করেছেন।
রেহমান সোবহান: দ্যাটস রাইট। ওনার মেমোরি তো খুব ভালো ছিল। হি উড অলওয়েজ রিমেম্বার দিস মিটিংস।
কিন্তু ছয় দফা উনি পাকিস্তানে যখন বলবেন তার আগে আপনাদের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছিলেন?
রেহমান সোবহান: স্পেসিফিক্যালি অন সিক্স পয়েন্টস বলি নাই। বাট ছয় দফায় ইকোনমিক পয়েন্টস আছে। আমাদের সবার লেখা থেকে দিজ ওয়্যার এক্সট্রাক্টেড। তারপর প্রিজুমেবলি দোজ হু ওয়্যার এনগেজড ইন দ্য ড্রাফটিং, এই পর্যন্ত আই হ্যাভ নট ফাউন্ড আউট হু অ্যাকচুয়ালি সাপোজড টু বি দ্য পিপল হু ড্রাফটেড ছয় দফা। সাম পিপল সে ইট ওয়াজ রুহুল কুদ্দুস, সাম পিপল মেনশন তাজউদ্দীন অর সাম অব দেম স্যাট টুগেদার বাট দে ওয়্যার দেন ড্রয়িং অন দ্য আইডিয়াজ দ্যাট উই হ্যাড বিন পুটিং আউট দ্যাট হোয়াট উইল কনস্টিটিউট অটোনমি।
তারপরে সিক্সটি সিক্স থেকে সিক্সটি নাইন, সিক্সটি নাইনে তো গণ–অভ্যুত্থান, তাই না? তো সেই সময় আপনি কী করছিলেন, আপনারা আপনাদেরকে কি...এই যে আনিসুর রহমান বা নুরুল ইসলাম সাহেব আপনারা বাংলাদেশ যদি স্বাধীন হয় বা অটোনমি হয় এইটার যে ব্যাকগ্রাউন্ডগুলো, পেপারওয়ার্কসগুলো একসঙ্গে করছিলেন না?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, করছিলাম। বিকজ, ওই সময় তো আই কেম ব্যাক ফ্রম ইংল্যান্ড। কামাল ও আমার অনেক সুযোগ হলো টু মিট উইথ বঙ্গবন্ধু অ্যান্ড তাজউদ্দীন অ্যান্ড দেন টু ডিসকাস...
সিক্সটি নাইনে আপনি লন্ডনে ছিলেন পিএইচডি করার জন্য, পিএইচডি না করেই আপনি চলে এলেন?
রেহমান সোবহান: দ্যাটস রাইট, আমি আমার পিএইচডিকে অ্যাবান্ডন করে আই কেম ব্যাক টু ঢাকা। অ্যান্ড দেন আমি ইমিডিয়েটলি যুক্ত হয়ে গেলাম অ্যান্ড আই ওয়াজ দেন মিটিং রেগুলারলি উইথ তাজউদ্দীন অ্যান্ড বঙ্গবন্ধু থ্রু কামাল হোসেন অ্যান্ড হি ওয়াজ দেন কনসাল্টিং আস, এখন কোন পয়েন্টে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, হোয়াট আর দ্য ইমিডিয়েট ইস্যুজ। তারপর হোয়েন দে ডিসাইডেড দেন দ্যাট দ্য ইলেকশনস উড বি কামিং। তারপর দেন দে আস্কড আস টু ড্রাফট দ্য ম্যানিফেস্টো। ওই ম্যানিফেস্টো কামালের হাতে দিয়েছে দেন কামাল ড্রু ইন নুরুল ইসলাম, মাইসেলফ অ্যান্ড আনিসুর রহমান। দেন উই মেট ইন ওই নুরুল ইসলাম তো ওই পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকস হেড ছিলেন সো উই মেট ইন করাচি অ্যান্ড স্পেন্ট সেভারেল ডেইজ দেয়ার প্রিপোরিং দ্য ম্যানিফেস্টো।…বামপন্থীরা ওয়্যার ভেরি সাসপিশাস অব বঙ্গবন্ধু। সব সময় একটা বিশ্বাস ছিল উনি তো বাঙালি রাইজিং বুর্জোয়ার নেতৃত্ব দেবেন। এখানে অর ওই টু ইকোনমিকস… ওই সিক্স পয়েন্টসে সব ওই বুর্জোয়ার জন্য সৃষ্টি হয়েছে। লেফট পিপল ইভেন বোথ সাইডস অব লেফট চায়নিজ অ্যান্ড মস্কোবাদিস ওয়্যার ভেরি স্কেপটিক্যাল অ্যাবাউট দিস। তো আমার ইচ্ছা ছিল ইন দ্য ম্যানিফেস্টো টু ডেমনস্ট্রেট বিকজ আমার ওনার সঙ্গে দুটো আরগুমেন্ট ছিল, দ্যাট ইফ দ্য ম্যানিফেস্টো ইফ ইউ ওয়ান্ট টু মোবিলাইজ অল দ্য পিপল নট জাস্ট দ্য মিডল ক্লাস। একটা পলিসি ওরিয়েন্টেশন দিতে হবে, দ্যাট ইউ আর রিচিং আউট টু দেম। অনেক প্রোগ্রেসিভ কম্পোনেন্ট সব উই পুট ইট ইনটু দ্য ম্যানিফেস্টো।
স্যার, দুইটা ঘটনা। একটা হচ্ছে যে ১৯৭০–এর নির্বাচনের আগে শেখ মুজিবুর রহমানের তাজউদ্দীন আহমদের এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল, নারায়ণগঞ্জে নদীর ধারে আপনি তাঁর ওই প্রচারণার সভা দেখতে গেছেন, তখন আপনি দেখেছেন যে কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ, তারা শেখ মুজিবকে একনজর দেখার জন্য পাগল হয়ে গেছে এবং জাহাজ বা লঞ্চ যখন যাচ্ছিল, দুই পাশ থেকে লোকজন ঝাঁপ দিয়ে লঞ্চের দিকে সাঁতরে যাচ্ছিল। তখন আপনি আপনার...
রেহমান সোবহান: আমি ওনার সঙ্গে ছিলাম।
ছিলেন। তখন আপনি একটা লাইন লিখেছেন যে শেখ মুজিবকে সবাই তো বুর্জোয়া বলে, পুঁজিপতিদের প্রতিনিধি বলে বা উনি তো সোহরাওয়ার্দীর শিষ্য, আমেরিকায় বিষয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন। তাহলে কেন এই শ্রমজীবী মানুষ, লেবার শ্রেণি, ওরা কেন তাঁর জন্য এত পাগল? ইউ রোট দ্যাট।
রেহমান সোবহান: দ্যাটস রাইট ইয়েস অ্যান্ড ইট স্ট্রংলি ইনফ্লুয়েন্সড আওয়ার থিঙ্কিং দ্যাট এভাবে এখন উনার তো একটা ম্যাস কন্সটিটিউয়েন্সি হয়ে গেল এন্ড যদি হি হ্যাড টু প্রজেক্ট হিমসেলফ, হি দেন হ্যাড টু রিচ আউট টু দ্যাট কন্সটিটিউয়েন্সি।
আরেকটা জিনিস স্যার মনে হয় আপনি লিখেছেন যে আপনারা অনেক খেটেখুটে ম্যানিফেস্টো তৈরি করলেন, যেটার মধ্যে অনেক লেফ্টিস্ট ইনগ্রেডিয়েন্টস ছিল, উপাদান ছিল, কিন্তু যখন এটা পাস হলো। কোনো আলোচনা ছাড়াই পাস হয়ে গেল?
রেহমান সোবহান: হ্যাঁ, বাট এইটা আনফরচুনেটলি আওয়ামী লীগে অভিজ্ঞতা ছিল। দ্যাট দে ওয়্যার নট উইলিং টু হ্যাভ এনি মেজর ডিসকাশন অন সাবজেক্টস। বঙ্গবন্ধু যখন বলেছে এইটার ওপরে আমার সাপোর্ট আছে। পাস করো, পাস হয়ে গেল। আমার তো এক্সপেক্টেশন ছিল, দ্যাট ইট উইল বি ডিবেটেড ইন দ্য কাউন্সিল মিটিং। অ্যান্ড ওই এম আর সিদ্দিকী এসব তো ব্যবসায়ী ব্যাকগ্রাউন্ডে পার্টিতে ছিলেন তো। তো এইটা ফ্রি পাস হয়ে যাবে, এইটা তো আমার...অ্যান্ড তারপর আমার এখন একটা অ্যাপ্রিহেনশনও হয়ে গেল দ্যাট হাউ ডিপলি ওয়াজ দিস প্রগ্রেসিভ এজেন্ডা রেজিস্টার্ড ইন দ্য মাইন্ডস অব দ্য পার্টি পিপল।
এইটা স্টিল মনে হয় সামটাইমস যে বুদ্ধিজীবীরা পোয়েট রাইটারস, তারা যে প্রগ্রেসিভ সেক্যুলার আওয়ামী লীগকে কল্পনা করে, প্র্যাকটিক্যাল আওয়ামী লীগ ওইটা কি না?
রেহমান সোবহান: না ওয়েল, ওই সময়ের মধ্যে তোমার মতন লোক হু ওয়্যার অল এগেইনস্ট আওয়ামী লীগ। এখন তো অনেক এই পথে চলে গেছে তো ফর হোয়াটএভার রিজন দ্যাট ওয়াজ নট দ্য সিচুয়েশন অ্যাট দ্যাট টাইম। সিক্সটিজে। অ্যান্ড লিডিং আপ টু দ্য ইলেকশন সব সময় এ রকম একটা কনসার্ন ছিল। দ্যাট অল দ্য লিটারেরি পিপল ছাত্র ইউনিয়নের যে চর্চা থেকে তারা বের হন...অল অব দেম ওয়্যার ভেরি স্কেপটিক্যাল। অ্যাটলিস্ট আমার নিজের যে ইচ্ছা ছিল, আমি আর আনিসুর রহমান বিশেষ করে দ্য আইডিয়া ওয়াজ টু ট্রাই টু রিঅ্যাক্ট টু দ্য অবজেক্টিভ কন্ডিশনস দ্যাট যে সমস্যা আছে আর আমার একটা যে ব্যাপার ছিল হুইচ আই ইউজড টু পয়েন্ট আউট টু দেম অ্যাট দ্যাট টাইম দ্যাট, সব তো আমার ইস্ট পাকিস্তানে ব্যবসা সেক্টর অবাঙালির হাতে আছে। যদি তোমার ছয় দফা হয়ে যায় অ্যান্ড তুমি তারপর পলিসিস করতে পারো, অ্যান্ড ইউ ক্যান ব্রিং রিসোর্সেস হিয়ার এভরিথিং উইল স্টিল গো ইনটু দ্য হ্যান্ডস অব দ্য নন-বেঙ্গলি পিপল। তো তুমি যে মনে করছ কী শুধু আমার ওই দুই অর্থনীতির কেন্দ্র করে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, দ্যাট ইজ নট কারেক্ট। সো তোমাকে এখন একটা ওই ইনস্টিটিউশনাল অবস্থা বুঝতে হবে অ্যান্ড তারপর আমার ওই সময় আর্গুমেন্ট ছিল দ্যাট দ্য অনলি ওয়ে ইউ আর গোয়িং টু ডু দিস ইজ প্রাইভেট সেক্টর যে মনোপলাইজড হয়ে অবাঙালির হাতে ওইটাকে তুমি সরকারের ক্ষমতার মধ্যে তুমি নিয়ে আসতে পারবে। ইউ উইল দেন বি অ্যাবল টু গেট ফুল কন্ট্রোল ওভার দ্য ইকোনমি। তো এইটা কেন্দ্রে করে দেন উই পুট ইন দিস প্রোগ্রাম ফর ন্যাশনালাইজেশন হুইচ… দ্য লজিক ওয়াজ ফুলি আন্ডারস্টুড বাই বঙ্গবন্ধু অ্যান্ড তাজউদ্দীন। ওনারা দুজন খুবই ইন্টেলিজেন্ট মানুষ ছিলেন। অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট মানে কী, এমনি তো ইন্টেলিজেন্ট, বাট দে আন্ডারস্টুড ইকোনমিকস অলসো। অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইকোনমি দে আন্ডারস্টুড ভেরি ওয়েল। দে দেন গেভ ফুল সাপোর্ট টু দিস আইডিয়া।
তারপরে স্যার তো সত্তরের নির্বাচন হয়ে গেল। ১৯৭১ সালের মার্চ ৭ মার্চ হলো, আলোচনা হলো ভেঙে গেল, ২৫ মার্চ অনেক আক্রমণ, মারা গেল মানুষ। আপনার টিচাররা মারা গেলেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে অ্যাটাক হলো। এরপর আপনি যে ২৭ মার্চে বেরাইদ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন আগরতলার দিকে। তো আপনার মনে আছে যে আপনি একটা খুব সুন্দর বর্ণনা লিখেছেন। ভেরি গুড ডেসক্রিপশন, নিউ লুঙ্গি, নিউ পাঞ্জাবি পরে আপনি যখন যাচ্ছিলেন, তখন বাঙালিরা আপনাকে তো পাকিস্তানি ভেবে আক্রমণই করতে বসল। আনিসুর রহমান আপনার সঙ্গে ছিলেন। ওইটার ঘটনাটা একটু বলেন, স্যার।
রেহমান সোবহান: ওয়েল, একটু ব্যাক স্টোরি তো আছে দ্যাট আমার নাইভিটি ফুলিশনেস যে কিছু বলা যায়। বাট আমার তো বিশ্বাস ছিল না দ্যাট উই উইল বি রিগার্ডেড অ্যাজ কমব্যাটেন্ট। আমি লিখেছি অনেক কিছু বলেছি। আই ওয়াজ ভেরি ওয়েল নোন ফর দ্যাট, আমার ফোরাম পত্রিকা ছিল। যখন পাকিস্তানি মেজর হু হ্যাড অলসো বিন ইনভলভড ইন অ্যারেস্ট অব বঙ্গবন্ধু কেম উইথ দেয়ার টিম অব সোলজারস টু মাই হাউস ইন দ্য আফটারনুন অব অব টুয়েন্টি সেভেনথ মার্চ নাইনটিন হান্ড্রেড সেভেন্টি ওয়ান। ওই সময় আমার বিশ্বাস হলো দ্যাট দে অলসো থট দ্যাট আই এম অ্যান অ্যাকটিভিস্ট। দেন ইট ওয়াজ সাজেস্টেড দ্যাট …সিন্স দে আর কিলিং অল দ্য অ্যাকটিভিস্টস। তোমাকে যদি কিছু করতে হয় তো বাইরে যেতে হবে। ওই ব্যবস্থা ওয়াজ অ্যারেঞ্জড বাই ওই ভাটারাতে ওই মতিন মিয়া। ওনার যে ছাত্র। আর আমার এসকর্ট ছিল লেটার আওয়ামী লীগ এমপি রহমতউল্লাহ। মনে আছে রহমতউল্লাহকে। ওই গুলশানে এমপি ছিলেন। অ্যান্ড অ্যাট দ্যাট টাইম হি ওয়াজ আ স্টুডেন্ট। উনি আর আরেকজন, আমাকে নিয়ে গেলেন। ওই সময় তো দেন এই অভিজ্ঞতা হলো।
এটা একটা লঞ্চে হলো তো, স্যার?
রেহমান সোবহান: লঞ্চে হলো কী, যখন উই ওয়্যার ক্রসিং দ্য রিভার, ওই সময় ছাত্র সব আমাকে… দে ওয়ান্টেড টু টক টু মি… আমি কিছু বলি নাই। মনে হলো কি একটু কিছু গোলমাল আছে এখানে এন্ড দেন দে স্টপড এট দ্য নেক্সট ল্যান্ডিং পয়েন্ট ও আমাকে আমার সবকে বলে কি আপনি নেমে চলে আসেন ওইখানে। অ্যান্ড তারপর ওইখানে তর্ক শুরু হয়ে গেল। আমার মেইন ভয় ছিল দ্যাট উই ডিড নট ওয়ান্ট টু রিভিল হু উই ওয়্যার। বিকজ আমার বিশ্বাস ছিল, পাকিস্তানের এজেন্ট সব জায়গা ঘুরছে অ্যান্ড সো মিয়ারলি সেইং দ্যাট আমার ঢাকা ইউনিভার্সিটি শিক্ষক। তো দ্যাট ওয়াজ ক্রিয়েটিং মোর প্রবলেমস। আনিস অ্যান্ড মুস্তাফা মনোয়ারের তো কোনো অসুবিধা হলো না। তারপর সৌভাগ্য কী জাস্ট হোয়েন দ্য সিচুয়েশন ওয়াজ গেটিং সিরিয়াস অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের এক কর্মচারী হু ইউজড টু নো মি বিকজ হোয়েন আই ইউজড টু গো ফর দ্য পাবলিকেশন অব মাই বুক। উনি তারপর বললেন, এই ব্যক্তি তো রেহমান সোবহান, ঢাকা ইউনিভার্সিটির টিচার। বাট ওইটাও যথেষ্ট হলো না। তারপর যখন আওয়ামী লীগ লিডারস কেম, ওনার নাম তো শুনেছে, বাট নাম অ্যান্ড চেহারার সঙ্গে তো কোনো মিল ছিল না তো। ফর দ্যাট দেন দে সেন্ট ফর দিজ টু স্টুডেন্ট লিডারস।
গ্রাম থেকে আপনাদের ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্রকে নাকি খুঁজে আনছিল?
রেহমান সোবহান: দ্যাটস রাইট ওই যে প্রফেসর নোমান অব ঢাকা কলেজ, উনার ভাই অ্যান্ড নেফিউ দে কেম রানিং ফ্রম দেয়ার ওই একজন হিস্ট্রির ছাত্র অ্যান্ড একজন আমার ডাইরেক্ট ছাত্র মুক্তাদার যে আইএলওতে চাকরি করেছে দে র্যান প্রায় দুই–তিন মাইল দৌড় দিয়ে থিঙ্কিং দ্যাট কী রকম একটা ঘটনা ঘটে যাবে এখানে। বাট বাই দেন সিচুয়েশন হ্যাড বিন ব্রট আন্ডার কন্ট্রোল।
আনিসুর রহমান স্যারকে কি রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে শোনাতে হয়েছিল?
রেহমান সোবহান: হি হ্যাজ ডিনাইড দ্যাট। তারপর দু–একটা ঘুষি খেয়েছিল আমার পক্ষ থেকে। উনি বলেছে এই রকম তো আমার অবস্থার মধ্যে আমি গান করব কেমন করে। বাট আমার মনে হচ্ছে দ্যাট হি হ্যাড অফার্ড টু ডু দ্যাট।
পরে তো আপনারা আগরতলা দিয়ে বাংলাদেশে সরকারের সঙ্গে যুক্ত হলেন আমাদের...
রেহমান সোবহান: ওইটাও তো খুব অ্যাক্সিডেন্টাল। বিকজ উই ক্রসড অ্যান্ড দেন অ্যাট দ্যাট টাইম আমি লিখেছি ডেপুটি কমিশনার অব আগরতলার সঙ্গে দেখা হলো আর ওই যে একটা পাঞ্জাবি একটা লাল ড্রেসিং গাউনে বসে ছিলাম। ওইখানে চা খাচ্ছি অ্যান্ড থ্রি অব আস টার্নড আপ তো উনি তো বললেন, আমার তো কী অভিজ্ঞতা হচ্ছে। এখানে দ্যাট আই কেম হিয়ার অনলি রিসেন্টলি টু লিড দ্য পিসফুল লাইফ অব আ ডেপুটি কমিশনার; ওইখানে হাজার হাজার লোক চলে আসছে বাংলাদেশ থেকে আমি কী করব… তো আমি বলেছি, দেন হু ইজ গোয়িং, তা বলে কী এখন তো আমার চিফ মিনিস্টার দিল্লিতে যাচ্ছে উইথ সাম বাঙালি লিডারস। এম আর সিদ্দিকী ছিলেন ওইখানে। উই ওয়্যার নট এক্সপেক্টিং টু গো উইথ হিম; হি ওয়াজ গোয়িং উইথ ওই সিরাজুল হক অ্যান্ড তাহেরউদ্দিন ঠাকুর। অ্যান্ড দ্য চিফ মিনিস্টার। তো আমি উনাকে বলেছি, দ্যাট হ্যাভ ইউ এভার বিন টু দিল্লি অ্যান্ড আপনার কোনো জানাশোনা লোক আছে? হি সেইড, নো, আই নো নোবডি ইন দিল্লি। আই সেইড আমার তো কয়েকজন জানাশোনা লোক আছে, হু আর নাউ ইন পজিশনস ক্লোজ টু ইন্দিরা গান্ধী; উই উইল রাইট সাম লেটারস অব ইন্ট্রোডাকশন। উনার সঙ্গে আপনি একটু যোগ করেন। উনি তারপর বলেছেন, তুমি চিঠি কেন লিখব, তোমরা দুজন আমার সঙ্গে চলে আসো। দ্যাট ইজ হাউ উই গট অন টু দ্য প্লেন উইথ হিম অ্যান্ড দেন। তারপর ওইখানে অমর্ত্য সেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারপর অশোক মিত্রর সঙ্গে যোগাযোগ...
আপনি তখন থার্টি সিক্স ইয়ারস ওল্ড। তারপর আপনাদেরকে দিয়ে তাজউদ্দীন আহমদকে আইডেন্টিফাই করিয়েছিল?
রেহমান সোবহান: আমাদের ধারণা ছিল যে দে হ্যাড আ প্রিটি গুড আইডিয়া কে তাজউদ্দীন, বাট এট দ্য এন্ড অব দ্য ডে, হোয়াট উই ডিসকাভার্ড দ্যাট বঙ্গবন্ধু নাম ছাড়া আর ওনার পরিচয় ছাড়া ওনার বাংলাদেশের...
কারও সম্পর্কে কোনো ধারণাই ওদের নাই।
রেহমান সোবহান: কোনো ধারণা নাই। অ্যান্ড এইটা কিছু নামও শুনেছে। তো তাজউদ্দীনকে বিএসএফের লোক সব তো নিয়ে এল অ্যান্ড দে ওয়্যার আইডেন্টিফাইং হিম বাট অ্যাট দ্য এন্ড অব দ্য ডে নো ওয়ান হ্যাড অ্যাকচুয়ালি ফিজিক্যালি সিন তাজউদ্দীন; হুম দে কুড ফুলি রেকগনাইজ দ্যাট এইটা আমার জানাশোনা লোক। ওনার সঙ্গে পরিচয় করছে। আমার থিঙ্কিং হচ্ছে দ্যাট জাস্ট টু মেক শিওর দ্যাট এই সঠিক লোক এখানে, দে টুক আস এলং এন্ড আমার তো জাস্ট বিফোর হি মেট তাজউদ্দীন হাকসারের সঙ্গে যে আমার আলোচনা হলো, হি ওয়ান্টেড টু নো, হু আর দ্য আদার পিপল এপার্ট ফ্রম বঙ্গবন্ধু। আমি তো কোনো লোককে চিনি নাই। সেকেন্ডারি সেকেন্ড র্যাংকের মধ্যে, হু আর দ্য ক্যাপাবল লিডারস।
এটা একটা বিশাল প্রশ্ন যে ইন্ডিয়া কি পেপারওয়ার্ক–হোমওয়ার্ক করে রাখে নাই?
রেহমান সোবহান: সবার বিশ্বাস ছিল, পাকিস্তানে বিশ্বাস ছিল দ্যাট এইটা তো একটা ইন্ডিয়ান কন্সপিরেসি। আই নেভার ফাউন্ড অ্যানি এভিডেন্স অব দ্যাট বিকজ দে ওয়্যার ভেরি আনইনফর্মড অ্যাবাউট হোয়াট ওয়াজ গোয়িং অন। অ্যান্ড জেনারেলি এভরিওয়ান ওয়াজ আনইনফর্মড। হোয়েন উই মেট অল দ্য টপ জার্নালিস্টস প্রফেসর, এসব তো আলাপ–আলোচনা, দে নো নাথিং অ্যাট অল অ্যাবাউট হোয়াট ওয়াজ হ্যাপেনিং ওভার হিয়ার, কিছু কিছু পেপারের মধ্যে উনি দেখেছেন এখানে।
তারপর স্যার নাইনটিন হানড্রেড সেভেনটি ওয়ানে আপনি বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করতে তারপরে পশ্চিমে চলে গেলেন, কোথায় গিয়েছিলেন?
রেহমান সোবহান: না, আমি যখন তাজউদ্দীন সাহেবের বসেছিলাম তো উই হার্ড অন দ্য রেডিও দ্যাট পাকিস্তানের ওই এম এম আহমদ ওই যে টপ ইকোনমিক ম্যান হি ইজ গোয়িং টু ওয়াশিংটন টু গেট এইড ফ্রম ইউএস অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড ব্যাংক। ওনার তো বেশ রাগ হলো দ্যাট এইটা তো হারামজাদা, আমার টাকাপয়সা ওইখান থেকে নিয়ে আমার ওপরে যুদ্ধ করবে; ইউ মাস্ট ইমিডিয়েটলি সেট আউট অ্যান্ড ট্রাই টু স্টপ ইট। ইমিডিয়েটলি সেট আউট। একজন থার্টি সিক্স ইয়ার ওল্ড ইউনিভার্সিটি টিচারকে তুমি বলবে তুমি পাকিস্তান সরকারের ক্যাম্পেইনকে তুমি একটু বাধা দাও এখানে। বাট দেন আই ওয়েন্ট অ্যাট দ্যাট টাইম উইথ হিজ ম্যান্ডেট। অফিশিয়াল ম্যান্ডেট ছিল না বিকজ নো গভর্নমেন্ট হ্যাড বিন ফর্মড সো আই জাস্ট হ্যাড হিজ অথরিটি টু গো। তারপর আমি লন্ডনে গেলাম, তারপর আই ওয়েন্ট টু ওয়াশিংটন। ওই ওয়াশিংটনে ওই সময় তো এম্বাসিজ এসবের ডিফেকশন হলো না তো। সো আই ওয়াজ দ্য ওয়ান হু ওয়াজ আপ দেয়ার ইন দ্য ফ্রন্টলাইন। তো সিনেটরের সঙ্গে দেখা করেছি, মিডিয়ায় কথা বলেছি, আই ওয়েন্ট টু দ্য টপ এডিটরস অব অল দ্য নিউজপেপারস। ওই সময় আই ওয়াজ ভেরি অ্যাকটিভ।
’৭২ সালে সালে আপনি তো প্লানিং কমিশনে যোগ দিলেন। স্যার আপনার কি কোনো রিগ্রেট আছে যে ওই সময় তো পৃথিবীব্যাপী বামপন্থা পপুলার ছিল ইভেন ভুট্টো নিজেকে বামপন্থী দাবি করতেন। তা আমরা যে এই যে ন্যাশনালাইজ করলাম, আমাদের কলকারখানাগুলো যে জাতীয়করণ করা হলো, এটা কি পরে কি আপনার মনে হয়েছে যে কাজটা ভুল হয়েছিল?
রেহমান সোবহান: নো। ওইটা তো নট লিস্ট। বিকজ মেইন ফোর্স বিহাইন্ড দ্য জাতীয়করণ ওয়াজ দ্য ফ্যাক্ট দ্যাট মালিক তো সব পালিয়ে গেছে। আই মিন পিপল নাউ হ্যাভ নো কনসেপশন অব দ্য নেচার অব দি ইকোনমি অ্যাট দ্যাট টাইম। সমস্ত বড় কারখানা, ব্যাংক, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি, দোকানপাট সব বায়তুল মোকাররমের দোকানপাট অ্যান্ড ট্রেড ব্যবসা ইন্টারনাল ব্যবসা সব তো অবাঙালির হাতে ছিল। অ্যান্ড হোয়েন উই কেম দেয়ার ফার্স্ট প্রবলেম ওয়াজ দ্যাট এইটা তো সব তো ফাঁকা হয়ে গেছে এখানে। তো জায়গা জায়গা লুটপাট হচ্ছে। হাউ টু ব্রিং অল দিস আন্ডার কন্ট্রোল। আমার দাবি ছিল এখানে টু ব্রিং অল দিস আন্ডার কন্ট্রোল থ্রু এ প্রসেস অব ন্যাশনালাইজেশন। এইটা তো এইভাবে ন্যাশনালাইজেশন হলো। এখন যে আলাপ–আলোচনা হচ্ছে অ্যাবাউট বাঙালি যে অংশ ছিল, ওনার তো সামান্য অংশ ছিল ইন দ্য জুট অ্যান্ড টেক্সটাইল সেক্টর। সব তো বড় বড় আদমজী বাওয়ানী। সব তো বড় কারখানা। সব ফাঁকা ছিল এখানে। উই টুক দ্য ভিউ দ্যাট যদি তোমাকে এই পথে যেতে হবে তো এইটা পলিসির মধ্যে করতে হবে। তোমার তো একটা এথনিক্যালি তুমি করতে পারো নাই এখানে। আইদার ইউ ওয়ান্ট টু ন্যাশনালাইজ ইট অর ইউ ওয়ান্ট টু প্রাইভেটাইজ ইট। কার হাতে আমি প্রাইভেট দেবেন? আমার তো কোনো বাঙালি ব্যবসা নেই। ছোট ছোট যে কিছু আছে কয়েকটা ছোট বিজনেস আছে শুধু একে খান সাহেব ছিলেন। দ্যাট ওয়াজ দ্য ফাউন্ডিং বেসিস। এই যে লোক যে আজকাল কথা বলে কি তুমি ন্যাশনালাইজ করে সবকিছু আননেসেসারি ছিল ধ্বংস হয়ে গেল; এইটা তো সব একটু আউটরেজাস বাজে কথা।
বাকশাল সম্পর্কে আপনার কোনো সমালোচনা আছে
রেহমান সোবহান: আমার তো বিশ্বাস ছিল ওইটা তো খুবই ভুল কাজ করেছে। বিকজ ইট ওয়াজ ডান উইদাউট প্রিপারেশন ইট ওয়াজ ডান এগেইনস্ট হিজ হিস্টোরিক্যাল ট্র্যাডিশন। অ্যান্ড উই টোল্ড হিম দ্যাট। ইনফ্যাক্ট যে ইন্টারেস্টিং কথা আমার মনে আছে মোস্ট অব দ্য সিনিয়র মেম্বারস অব দ্য পার্টি দে ওয়্যার অলসো এগেইনস্ট দিস। বাট ওই সময় তো কারো সাহস ছিল না টু টেল হিম দ্যাট। তো দে ইউজড টু কাম অ্যান্ড সে আপনি ওনাকে কথা বলেন এখানে।
আপনি বলেছিলেন?
রেহমান সোবহান: নুরুল ইসলাম তো এইটার ওপরে ওনার বইয়ে লিখেছেন দ্যাট শেষ পর্যায় হি অ্যান্ড কামাল হোসেন ট্যাকলড বঙ্গবন্ধু অন দিস— আপনি এই পথে যাচ্ছেন কেন হোয়েন দে ওয়্যার টুগেদার ইন কুয়েত। তারপর ওইখানে উনি খুব এজিটেটেড হয়ে গেলেন, তুমি বোঝো নাই কত খারাপ অবস্থা, উপায় নেই। বাট উই ওয়্যার অল ভেরি আনসার্টেইন অ্যাবাউট একটা ভবিষ্যৎ কী হবে এখানে। আমার বিশ্বাস ছিল দিস উইল বি হেল্ড এগেইনস্ট হিম ভবিষ্যতে।
আচ্ছা স্যার ওই এর পরে সাহাবুদ্দিন সাহেবের নব্বই সালের গণ–অভ্যুত্থানের পরে একানব্বই সালে যে সরকারটা হলো অস্থায়ী সরকার ওইটাতে তো আপনি উপদেষ্টা হলেন। ওইখানে আপনি টাস্কফোর্স করে দিয়েছিলেন অনেকগুলো। যে পেপারগুলো দিয়ে আমরা সংবাদপত্র খুব উপকৃত হয়েছি, কাজে লাগবে বলে ভেবেছি। ওইটা নিয়ে পরে আর কোনো কাজ হয়নি?
রেহমান সোবহান: না। ওইটা আনফরচুনেটলি ব্যাপার ছিল, দ্যাট আপ টু দ্যাট টাইম বিশেষ করে এরশাদের আমলে সব অ্যাডভাইসওয়্যার কামিং থ্রু ফরেন কনসালট্যান্টস। আমার ডমেস্টিক ট্যালেন্ট খুবই কমই ব্যবহার হতো। হোয়েন আই বিকেম অ্যাডভাইজার আই থট দ্যাট একটা নতুন ডেমোক্রেটিক অবস্থা চলে আসছে, এখানে দে শুড অ্যাটলিস্ট বি গিভেন দ্য চান্স টু আন্ডারস্ট্যান্ড হোয়াট আর দ্য প্রবলেমস অ্যান্ড কী করা যাবে। তারপর আই পারেসানালি রিচড আউট টু ওই প্রায় ২৫০ লোককে টু ফর্ম দিস টাস্কফোর্সেস। বাট বিফোর আই ডিড দিস আই মেট শেখ হাসিনা অ্যান্ড খালেদা। অ্যান্ড আই সেইড বিফোর আই স্টার্ট দিস— দিস ইজ হোয়াট আই ওয়ান্ট টু ডু। উই উইল প্রেজেন্ট ইট টু ইউ এখন উই ডোন্ট নো হু উইল বি ইলেকটেড বাট ওয়ান উইল বি গভর্নমেন্ট ওয়ান উইল বি অপজিশন, আপনি ব্যবহার করেন। উই আর নট গিভিং ইট এনি পলিটিক্যাল কালার। একটা নানারকম দৃষ্টির লোককে আমি নিয়ে এসেছি এখানে। সো বোথ অব দেম এন্ডোর্সড দিস; পার্টিকুলারলি খালেদা জিয়া। অ্যান্ড দেন আফটার দ্য টাস্কফোর্স রিপোর্টর্স ওয়্যার প্রিপেয়ার্ড…ওই সময় সাইফুর রহমান যুক্ত হলো… নাও ইউ হ্যাভ বিন ইলেকটেড, উই উইল মেক আ প্রেজেন্টেশন। তারপর হাসিনাকে প্রেজেন্ট করব। ওই সময় দে টুক আ পিকিউলিয়ার পজিশন দ্যাট দুইজনকে তুমি প্রেজেন্ট করতে পারো না। ইউ ক্যান অনলি প্রেজেন্ট ইট টু দ্য ইলেকটেড গভর্নমেন্ট … ভবিষ্যতে কি হবে না হবে। দেন আই সেইড হাউ ক্যান আই বিকজ আমার তো দুই লিডারের সঙ্গে আলোচনা করে আমি এগিয়ে যাচ্ছি। আফটার দ্যাট উই প্রেজেন্টেড ইট টু শাহাবুদ্দিন অ্যান্ড হি সার্কুলেটেড ইট। তারপর যখন পাবলিশ হয়ে গেল চার ভলিউমে, দেন আই ওয়েন্ট অ্যান্ড মেড প্রেজেন্টেশনস টু প্রাইম মিনিস্টার অ্যান্ড লিডার অব দ্য অপজিশন। বাট আনফরচুনেটলি ওই সময় কিছু ব্যবহার করা হয় নাই। দ্যাট ওয়াজ দ্য ট্র্যাজেডি। তারপর সিপিডি ঠিক এই প্রসেসকে রিপিট করেছে প্রায়ার টু দ্য টু থাউজেন্ড অ্যান্ড ওয়ান ইলেকশন। দ্যাট উই উইল প্রিপেয়ার এ সেট অব রিকমেন্ডেশনস কী কী করা আছে, কী সম্ভাবনা আছে; আমার ওল্ড টাস্কফোর্স লোককে জোগাড় করি; সেম এক্সপেরিয়েন্স ওই সময় হয়ে গেল। এই যে এখন যে চর্চা চলছে এখন অ্যাবাউট কমিশনস অ্যান্ড রিপোর্টস, আই রিমেম্বার দোজ টু এক্সপেরিয়েন্সেস অব আওয়ারস।
এখন যে সংস্কার কমিটি।
রেহমান সোবহান: দ্যাটস রাইট দ্যাট আনলেস যে ইনকামিং সরকার ইজ উইলিং টু কমিট ইটসেলফ টু সামথিং অ্যান্ড টু ডু ইট তুমি যদি বাইরে থেকে তুমি ওনার ওপরে যদি কিছু চাপ করতে চাও তো দেন আই অ্যাম নট শিওর ওইটার ভবিষ্যৎ কী হবে।
স্যার এখন বাংলাদেশের নয়া বন্দোবস্ত…এখন বাংলাদেশকে কী দেখেন, বাংলাদেশের বর্তমান ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবেন, দুই–তিন লাইন যদি একটু বলতেন।
রেহমান সোবহান: ওয়েল বন্দোবস্ত … এইটা খুব একটা ননসেন্সিক্যাল কনসেপ্ট। বিকজ বন্দোবস্ত মানে একটা সেটেলমেন্ট হয়ে গেছে; যেখানে অল দ্য প্লেয়ারস আর ইন অ্যাগ্রিমেন্ট। অবভিয়াসলি এখানে তো কোনো বন্দোবস্ত হয় নাই। বিকজ এ মেজর এলিমেন্ট হ্যাজ বিন এক্সক্লুডেড ফ্রম দ্যাট বন্দোবস্ত। সেটেলমেন্ট কখন হবে, কোন সময়ে হবে, বেটার নট ইউজ দিস ওয়ার্ড অ্যাট অল। বাংলাদেশে আনটিল অল দ্য মেজর পলিটিক্যাল প্লেয়ারস ক্যান কাম টু এন অ্যাগ্রিমেন্ট অ্যাজ টু মেক দ্য সিস্টেম ওয়ার্ক আই এম নট শিওর হাউ উই উইল বি অ্যাবল টু হ্যাভ অ্যা স্টেবল ডেমোক্রেটিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল প্রসেস।
সেটার সঙ্গে স্যার কালচারালি নানান মত লেফট–রাইট প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ এই সমাজের মধ্যে পাশাপাশি থাকা বা মিলেমিশে থাকা— এই রাজনৈতিক ব্যবধানটা মনে হচ্ছে সাংস্কৃতিক এবং বিশ্বাসগত ব্যবধান থেকেও উদ্ভূত, উদ্ভূত মানে ডু উই নিড সামথিং টু মিক্স আপ অল দিস থিংস অ্যান্ড...
রেহমান সোবহান: পলিটিকস ছাড়াও এখন আইডেন্টিটি অ্যান্ড কালচারের ওপরে একটা যুদ্ধ চলছে এখানে। তো একটা গভীর অ্যান্ড এক্সটেন্ডেড আলোচনা করতে হবে অ্যারাউন্ড হুইচ উই ক্যান দেন কাম টু অ্যান অ্যাগ্রিমেন্ট দেশের মধ্যে ৫০ বছর পরে যদি উই আর স্টিল ফাইটিং দ্য কালচারাল ওয়ারস তো এই দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে। বিকজ দিস ইজ নট আ সেটেলড ওয়ার।
তাহলে পরের ৫০ বছর আমরা একই জিনিস করে যাব?
রেহমান সোবহান: এই তো আমার ভয়ের কথা। তো অ্যাট দ্য এন্ড অব দ্য ডে সামওয়ান সাম লিডারশিপ উইল হ্যাভ টু গো থ্রু এ প্রসেস অব ক্রিয়েটিং বোথ এ ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অ্যাট এ লেভেল অব পলিটিকস অ্যান্ড এ লেভেল অব কালচার।
সেটা দিয়েই তাহলে আজকে আমরা শেষ করি আলোচনাটা। এতক্ষণ আমরা অধ্যাপক রেহমান সোবহানের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা শুনলাম, যেটা বাংলাদেশেরই অভিজ্ঞতা। তার জীবনের ইতিহাসের সঙ্গে বাংলাদেশের জীবনের ইতিহাসের অনেক মিল আছে এবং মানে সমান্তরালে চলা আছে। এই আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চয়ই উপকৃত হব। স্যার আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এবং দর্শকমণ্ডলী আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।