
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৩০ এপ্রিল তিনি সিলেটে এসে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’–এর উদ্বোধন করবেন।
আজ বুধবার দুপুরে সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকার জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ স্টেডিয়ামেই প্রথমবারের মতো আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন হবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সশরীর সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করবেন। একই সময়ে সারা দেশে সব জেলায় একসঙ্গে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হবে। এ সময় প্রতিযোগিতায় ফুটবল, ক্রিকেটসহ সাতটি ইভেন্ট থাকবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন।
আমিনুল হক বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়াকে বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্রীড়াবৃত্তি প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যে ক্রীড়া ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে। ৫০০ খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের নামে গত ফ্যাসিস্ট সরকার মেগা লুটপাট করেছে। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের জীর্ণ দশাই তার প্রমাণ। পূর্ববর্তী সময়ে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতায় থেকে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে। এর ফলেই স্টেডিয়ামের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেলা স্টেডিয়াম সংস্কার করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলেছি।’
আমিনুল হক বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ায় সম্পৃক্ত করা এবং তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে আনাই এ প্রতিযোগিতার লক্ষ্য।
স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার চৌধুরী যাবের সাদেক, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে যোগাযোগ করলে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাতীয় একটি কর্মসূচির উদ্বোধন সিলেটে করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিলেটবাসী কৃতজ্ঞ। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নসহ যাবতীয় কাজ শুরু করেছেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর সফল করতে আমরা প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছি।’
এদিকে বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ সময় তিনি বলেন, দেশের খেলাধুলাকে সংগঠিত ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার একটি সমন্বিত ক্রীড়াকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে জাতীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতি গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের অধিকাংশ খেলোয়াড় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে। তাই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।