গ্রেপ্তার পবিত্র কুমার বড়ুয়া। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
গ্রেপ্তার পবিত্র কুমার বড়ুয়া। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে

নয়াপল্টনে শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্কুলের ব্যবস্থাপক কারাগারে

রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি স্কুলে চার বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ওই বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। সেই আবেদনের শুনানি হবে আগামী মঙ্গলবার।

নির্যাতনের ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর শিশুটির মায়ের করা মামলায় আজ শুক্রবার ভোরে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের একটি বাসা থেকে পল্টন থানার পুলিশ পবিত্র বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে। এরপর রিমান্ডের আবেদনসহ তাঁকে পাঠানো হয় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে।

নয়াপল্টন এলাকার মসজিদ রোডে শারমিন একাডেমি

পবিত্র বড়ুয়া নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের স্বামী। গ্রেপ্তারের পর আজ বিকেলে আদালতে হাজির করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক মো. নুর ইসলাম আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন জানিয়ে রোকনুজ্জামান বলেন, শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দিন ধার্য করেন এবং পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এই আসামিসহ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে ঘটনা ঘটানোর পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তা যাচাই–বাছাই করে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে রিমান্ডে আনা প্রয়োজন।

মামলার আসামি শারমিন একাডেমির প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এখনো পলাতক রয়েছেন।

শিশুটির মা গতকাল রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি করেন। এ বছরই শারমিন একাডেমিতে নিজের চার বছরের ছেলেটিকে প্লে শ্রেণিতে ভর্তি করেন তিনি। ১১ জানুয়ারি ক্লাস শুরু হয়, তার এক সপ্তাহ পর নির্যাতনের শিকার হয় তাঁর ছেলে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১৮ জানুয়ারি সকালে ছেলেকে স্কুলে দিয়ে আসেন বাদী। বেলা ১টার দিকে আনতে গিয়ে দেখেন, শারমিন জাহান শিশুটির হাত জোর করে চেপে ধরে আছেন। তাঁর স্বামী পবিত্র বড়ুয়া চেয়ারে বসে আছেন। তখন বাদী তাঁর সন্তানকে বিবর্ণ, ভীতসন্ত্রস্ত ও কান্নারত অবস্থায় দেখেন। এরপর শিশুটিকে বাসায় নিয়ে যান। বাসায় নেওয়ার পর শিশুটি বারবার কান্না করে বলছিল, ‘মা, মিস আমাকে মেরেছে, আঙ্কেল মারছে, আমি কিছু করি নাই, আমি তোমাদের বলে দিলে গলায় পাড়া দেবে এবং মুখ সেলাই করে দেবে।’

শিশুটিকে ধরে রেখেছেন প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান। আর মারধর করছেন স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার

এরপর বাদী তাঁর স্বামীসহ স্কুলে গিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেন। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, শারমিন জাহান শিশুটির হাত ধরে অফিসে নিয়ে যান। এ সময় শিশুটির মুখে ও গালে অনবরত আঘাত করেন। নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য শিশুটি চিৎকার করলে তার মুখে স্ট্যাপলার ঢুকিয়ে দেন পবিত্র বড়ুয়া। সোফায় চেপে ধরে মারধরও করেন।

এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এর মধ্যে শিশুটির মা গতকাল পল্টন থানায় শারমিন এবং তাঁর স্বামীকে আসামি করে মামলা করেন।