ঢাকা অটো শো শুরু

বৈদ্যুতিক গাড়ি ও মোটরসাইকেলে তরুণদের আগ্রহ, দাম কেমন

রাজধানীতে আয়োজিত হচ্ছে ১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন। সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে সব নতুন মডেলের বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বিভিন্ন নকশার বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল (ই-বাইক)। দেশে জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি। তাই দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি ও মোটরসাইকেলের স্টলগুলোতে। বিশেষ করে তরুণ দর্শনার্থীদের বেশি আকর্ষণ বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের স্টলে।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) আজ শুরু হয়েছে এই প্রদর্শনী। আজ দুপুরের দিকে প্রদর্শনীতে আসেন রাজধানী বাড্ডার বাসিন্দা ফাহিম আহসান। প্রদর্শনীতে এসে বিভিন্ন স্টল ঘুরে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল খোঁজখবর নিচ্ছেন। এ সময় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় এই তরুণের। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল কেনার পরিকল্পনা করছি। দেশে চলমান জ্বালানিসংকটে ই-বাইক কেনার আগ্রহ আরও বেড়েছে।’

প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড ‘ভি মোটো’। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে এই ই-বাইক ব্র্যান্ড। বাংলাদেশে এই ব্র্যান্ডের আনুষ্ঠানিক পরিবেশক সিমবা মোটরস। মোট সাতটি মডেলের ই-বাইক নিয়ে প্রদর্শনীতে এসেছে ভি মোটো। এসব ই-বাইকের দাম শুরু হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার টাকা থেকে। তবে এই ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ মডেল ‘স্ট্যাশ’ ঘিরে মূল আকর্ষণ। ১৪ দশমিক ৪ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই ই-বাইক এক চার্জে চলে ১৮০ কিলোমিটার।

সিমবা মোটরসের চেয়ারম্যান সোহেল বিন আজাদ বলেন, ‘এক বছর ধরে এই ব্র্যান্ডটি দেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। নকশা ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এসব ই-বাইক ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়বে। এ ছাড়া ব্যাটারির স্থায়িত্ব ও পারফরম্যান্সের জন্য ব্র্যান্ডটির গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস রয়েছে।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন। আইসিসিবিতে একই ছাদের নিচে অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘১৯তম ঢাকা মোটর শো’, ‘১০ম ঢাকা বাইক শো’, ‘৯ম ঢাকা অটো পার্টস শো’, ‘৮ম ঢাকা কমার্শিয়াল অটোমোটিভ শো’ এবং ‘৩য় ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) বাংলাদেশ এক্সপো’। এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস (সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ)।

প্রদর্শনীটি সবার জন্য প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। তবে প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ৫০ টাকা দিয়ে টিকিটও কাটতে হবে।

প্রদর্শনীতে অংশ নেয় চীনের মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিএফ মটো বাংলাদেশ। দেশে এই ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল সংযোজন করে বাজারজাত করে নিউ গ্রামীণ মোটরস। প্রদর্শনীতে মোট ৭টি প্রচলিত জ্বালানিচালিত মোটরসাইকেল ও ৪টি বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল নিয়ে অংশ নেয় ব্র্যান্ডটি। এই ব্র্যান্ডের জ্বালানিচালিত মোটরসাইকেলের দাম মডেলভেদে ২ লাখ ৮৭ হাজার থেকে ৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর মডেলভেদে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।

নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি এনেছে র‍্যানকন

চীনের গাড়ি তৈরির ব্র্যান্ড উলিং। বাংলাদেশে এই গাড়ি বাজারজাত করছে র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ। এই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে দেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ব্র্যান্ডটি। প্রদর্শনীতে এই ব্র্যান্ডের তিনটি মডেল পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে প্লাগইন হাইব্রিড (পিএইচইভি) ধরনের বৈদ্যুতিক গাড়ির মডেল ‘ড্যারিয়ন’ সরাসরি আমদানি করা হলেও বাকি দুটি জ্বালানিচালিত গাড়ির মডেল ‘আলমাজ আরএস’ ও ‘কর্টেজ’ দেশেই সংযোজন করা হয়।

মেলা উপলক্ষে কর্টেজ মডেলের গাড়িটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। আর আলমাজ আরএস মডেলের দাম নির্ধারণ করা হয় ৩২ লাখ টাকা। এ ছাড়া পিএইউভি ধরনের গাড়ির মডেল ড্যারিয়নের দাম নির্ধারণ করা হয় ৪৩ লাখ টাকা। এই তিনটি গাড়ি সাত সিটের।

র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, পিএইচইভি ধরনের গাড়ি ড্যারিয়ন শুধু ব্যাটারি ব্যবহার করে চলবে ১২৫ কিলোমিটার। আর পূর্ণ জ্বালানি ও চার্জে চলবে ১ হাজার কিলোমিটার।

প্রদর্শনীতে মিতসুবিশি মোটরসের নতুন মডেলের গাড়ি ‘ডেস্টিনেটর’ আনা হয়। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশে এই গাড়ির আনুষ্ঠানিক বাজারজাতের ঘোষণা করা হয়। দেড় হাজার সিসির ওই গাড়ির দাম নির্ধারণ করা হয় ৬৫ লাখ টাকা।

দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির লক্ষ্যে ২০২২ সালে কারখানা তৈরির কাজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠান তাদের গাড়ির প্রাথমিক মডেল (প্রোটোটাইপ) প্রদর্শন করছে। ভবিষ্যতে দেশে এই গাড়ি তৈরি হবে এমইভি ব্র্যান্ডের নামে। প্রদর্শনীতে আনা এই গাড়ির মডেলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সার্জ জেড’। এই গাড়িটি পিএইচইভি ও পুরোপুরি বৈদ্যুতিক—দুই ধরনের পাওয়া যাবে। দাবি করা হচ্ছে, এই মডেলের পুরোপুরি বৈদ্যুতিক গাড়িটি এক চার্জে চলবে ৩৫০-৪৫০ কিলোমিটার।

বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবীর বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশে এই গাড়ি সংযোজন করা হবে। প্রাথমিকভাবে এই গাড়িটির দাম ৪০-৪৫ লাখ টাকার মধ্যে হবে। বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমানো হলে দাম আরও কমবে।

এবারের প্রদর্শনীতে জাপান, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ৭০টিরও বেশি কোম্পানি অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীতে মিতসুবিশি, টয়োটা, মার্সিডিজ বেঞ্জ, হোন্ডা, এমজি, প্রোটন, চাঙ্গান, গ্যাক মোটরস, ডংফেন প্রভৃতি ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়িও প্রদর্শনীর জন্য আনা হয়েছে। এ ছাড়া টু-হুইলার ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে আছে জিহো বাংলাদেশ, সিএফ মটো বাংলাদেশ, লংজিয়া, ভিমোটো প্রভৃতি। বাণিজ্যিক যানের মধ্যে আছে ফোটন, ফোরল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড।

এর আগে দুপুরে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেমস-গ্লোবালের (ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিক) প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন ইসলাম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক অনুপম সাহা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ প্রমুখ।