
যুদ্ধের পাশাপাশি এবার শুল্কেও নজর দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর এবার তিনি ওষুধের দিকে নজর দিয়েছেন। তবে এখনই শুল্ক বসছে না ওষুধে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে দুই বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব ধরনের জেনেরিক ওষুধে শুল্ক দিতে হবে না। দিতে হবে তার পর। খবর রয়টার্সের
এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ২০২৮ সালে এক বছরের জন্য শুল্ক ১০০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এরপর তা আরও বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করা হবে।
২১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন ফিরিয়ে আনতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা ও উৎপাদনকাঠামো গড়ে তুলতে পারবে না, তাদের জন্য এটি হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ‘মোস্ট-ফেভারড-নেশন’ বা সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশভিত্তিক ওষুধের মূল্যনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওষুধ প্রস্তুতকারকদের চাপ দিয়ে আসছেন। তাঁর লক্ষ্য, উচ্চ আয়ের অন্যান্য দেশে যে দামে ওষুধ বিক্রি হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারাও যেন একই বা তার চেয়ে কম দামে ওষুধ কিনতে পারেন।
মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া ওষুধের ৯০ শতাংশের বেশি জেনেরিক। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, পেটেন্ট-সুরক্ষিত, ব্র্যান্ডেড ও উদ্ভাবনী ওষুধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিতে পরিবর্তন আসছে না।
গত বছর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্কিন সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। ফলে শত শত কোটি ডলার মূল্যের ওষুধ শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়।
এর আগে গত এপ্রিলে নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমদানি করা ব্র্যান্ডেড ওষুধ কোম্পানিগুলো যদি সরকার নির্ধারিত দামে ওষুধ বিক্রি করতে রাজি না হয় বা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি না দেয়, তাহলে তাদের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কম দামের জেনেরিক ওষুধের দাম বেড়ে যেতে পারে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত প্রেসক্রাইবড ওষুধের প্রায় ৯০ শতাংশই জেনেরিক এবং তার ৭০ শতাংশ আসে বিদেশ থেকে।
এখন ট্রাম্প কোম্পানিগুলোকে চাপ দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্রুত উৎপাদন সরিয়ে আনা বা অতিরিক্ত শুল্কের ব্যয় বহন করা কোম্পানিগুলোর জন্য কঠিন হবে। ব্র্যান্ডের ওষুধের ক্ষেত্রে যত মুনাফা হয়, জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে ততটা হয় না।
সে কারণে ওয়াশিংটন পোস্টের আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত বাড়তি খরচের বোঝা ভোক্তাদের ওপরই পড়বে।