দিনাজপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন হানিফ সরকার (২৫)। সেখানেই আইটি সাপোর্ট বিষয়ে তিন মাস মেয়াদি একটি কোর্সও করেন। পড়ালেখা শেষে দুই বছর ধরে কোনো কাজ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। আজ শনিবার চাকরি মেলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সার্ভিস প্রশিক্ষক হিসেবে তাৎক্ষণিক বায়োডাটা জমা দিয়ে কাজের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এভাবে কাজের সুযোগ পেয়ে দারুণ আনন্দিত হানিফ। তিনি বলেন, ‘অন্তত আর কেউ বেকার বলতে পারবে না। যা বেতন পাব, কৃষক বাবার সংসারে কিছুটা হলেও সহযোগিতা করতে পারব।’
আজ শনিবার সকালে এই চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে দিনাজপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে। প্রতিষ্ঠান থেকেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। হানিফ সরকারের মতো তাৎক্ষণিক বায়োডাটা জমা দিয়ে কাজের সুযোগ পেয়েছেন ৩০ চাকরিপ্রত্যাশী। আয়োজকেরা জানান, মেলায় ওয়ালটন, রোলেক্স মেটাল ইন্ডাস্ট্রি, জনতা ইলেকট্রিকসহ স্থানীয় ১২টি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বিকেল পর্যন্ত ৩৮৮ চাকরিপ্রত্যাশী তাঁদের বায়োডাটা জমা দেন। বিকেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী যোগ্যতার ভিত্তিতে ৩০ জন চাকরি পান।
আজ সকালে এই চাকরি মেলার উদ্বোধন করেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুরের আঞ্চলিক পরিচালক খন্দকার মো. নাহিদ হাসান (উপসচিব)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অরবিন্দ কুমার বর্দ্ধন ও সৈয়দপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. জসিমউদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নাহিদ হাসান বলেন, ‘এ ধরনের চাকরি মেলার ধারাবাহিক আয়োজনের উদ্যোগ বেকার সমস্যা সমাধানে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। মেলায় এসে এভাবে চাকরি পাওয়া একটি দারুণ অভিজ্ঞতা। তবে এ জন্য আমাদের শিক্ষার্থীদের নিজেকে তৈরি করতে হবে। কারণ, সামনের দিনগুলোয় কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটছে।’ এ সময় প্রযুক্তিজ্ঞান ও ভাষার দক্ষতা বাড়ানোর জন্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন তিনি।
মেলায় অংশ নেওয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ওয়ালটন স্টলে মোট বায়োডাটা জমা পড়েছে ৬০টি। প্রাথমিক বাছাই ও সাক্ষাৎকার গ্রহণে ১৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। মূলত ওয়ালটনে টিভি, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন পণ্য মেরামতে টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। বাছাই করা ১৯ জনের বায়োডাটা ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে আরেকটি সাক্ষাৎকার ও হাতে–কলমে দক্ষতা যাচাই শেষে চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদান করা হবে।’
মেলা শেষে দিনাজপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী অধিকাংশই আমাদের শিক্ষার্থী, যারা পাস করে চলে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর বিভিন্ন ট্রেড থেকে শিক্ষার্থীরা পাস করে বের হচ্ছে। আমরা তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের চাকরি মেলার আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’