দীর্ঘস্থায়ী কর্মক্লান্তি বা বার্নআউট এখন একটি বৈশ্বিক সংকট। মুডলের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬৬ শতাংশ কর্মী বার্নআউটে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা কেবল অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে নয়, ক্যারিয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ পদ্ধতির ফল, যা মানবিক না, বরং যান্ত্রিক।
আগের দিনের ক্যারিয়ার কাঠামোতে স্মার্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম ও পিছিয়ে পড়লে আরও বেশি কাজ করার সংস্কৃতি ছিল কার্যকর। কিন্তু বর্তমান অনিশ্চিত ও দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মজগতে এই পদ্ধতি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের মধ্যেই বেশি বার্নআউট তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যারিয়ার লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন স্মার্ট ও মানবিক পদ্ধতি—যেখানে অগ্রগতি হবে, কিন্তু শক্তি নিঃশেষ হবে না।
অনেকেই সমাজ বা অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে এমন লক্ষ্য ঠিক করেন, যা নিজের কাছে অর্থবহ নয়। ফলে অর্জনের পরও তৃপ্তি আসে না। Journal of Applied Psychology-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা শেখা ও দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেন, তাঁদের মধ্যে বার্নআউটের হার তুলনামূলক কম।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—কোনো লক্ষ্য নেওয়ার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘এই অর্জনের কথা কেউ না জানলেও কি আমি এটা চাইব?’ উত্তর যদি না হয়, তাহলে সেটি হয়তো নিজের নয়, অন্যের সাফল্যের সংজ্ঞা।
২০২৬ সালে সফল পেশাজীবীরা শুধু কী অর্জন করবেন তা নয়, বরং কোন কাজ তাঁদের শক্তি বাড়ায় বা কমায়—সেটাও বিবেচনায় নিচ্ছেন। কোন কাজ আপনাকে উদ্দীপ্ত করে আর কোন কাজ দ্রুত ক্লান্ত করে—এ বিশ্লেষণই টেকসই সাফল্যের চাবিকাঠি।
একসঙ্গে অনেক লক্ষ্য নিলে মনোযোগ ছড়িয়ে পড়ে। গবেষণা বলছে, সীমিত কিন্তু নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব। তাই বছরে একটি প্রধান ক্যারিয়ার লক্ষ্য ঠিক করে তার সঙ্গে এক বা দুটি সহায়ক লক্ষ্য রাখাই বেশি কার্যকর।
লিংকডইনে পোস্টযোগ্য অর্জনই সব নয়। নীরবে দক্ষতা গড়া, সম্পর্ক তৈরি করা বা জ্ঞান সঞ্চয়—এসবই ভবিষ্যতে বড় সুযোগ তৈরি করে। তাই আউটপুট নয়, ‘ট্র্যাকশন’ বা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: ফোর্বস