১৩৫৯৯ অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ-প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে আবেদন পেছাল

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহকারী সুপার পদে নিয়োগের আবেদন শুরুর সময় পিছেয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) থেকে এ আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) থেকে এ আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হবে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে মাদরাসা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ প্রকাশ করেছে। জারি করা নীতিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী এনটিআরসিএর অষ্টম এনটিআরসিএ নিয়োগ (প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান) পরীক্ষা-২০২৬-এর আবেদন অনলাইনে গ্রহণের প্ল্যাটফর্মটি হালনাগাদের কার্যক্রম চলছে। এরই প্রেক্ষিতে অনিবার্য কারণে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ হবে পরীক্ষার মাধ্যমে। এনটিআরসিএ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে তিন অধিদপ্তরের আওতায় থাকা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধানদের (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট) শূন্য পদের তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় শূন্য পদ ১৪০টি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় শূন্য পদ রয়েছে ৩ হাজার ১৩১টি। তিন অধিদপ্তরের সর্বমোট শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫৯৯।

আবেদন কীভাবে

বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার আবেদনপত্রের লিংক দেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটে ফরম পূরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটিওয়েবসাইটে পাবেন আবেদনকারীরা। আবেদন শুরু হবে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চলবে আবেদন। ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ পর্যন্ত টাকা জমা দেওয়া যাবে।

নিয়োগ পরীক্ষার নম্বর বণ্টন ও সময়

এমসিকিউ পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা। এমসিকিউ পরীক্ষা হবে ৮০ নম্বরে। বাকি ২০ নম্বরের মধ্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের জন্য বরাদ্দ ১২ এবং মৌখিক পরীক্ষা হবে ৮ নম্বরে। মোট ১০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় পাসের ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে আলাদাভাবে।

মোট ৮০টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর, তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ (দশমিক দুই পাঁচ) নম্বর বিয়োগ হবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।\B

পরীক্ষার বিষয়

বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি), প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা (আইন, বিধি-প্রবিধি, নীতিমালা, পরিপত্র ও আদেশগুলো), আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং অধিদপ্তর অনুসার উল্লিখিত বিষয়গুলো।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থাপনা। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট মৌলিক জ্ঞান, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, আল কোরআন, হাদিস, ফিকাহ, আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষা।

আবেদনে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

তিন অধিদপ্তরের সর্বশেষ জারিকৃত জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা মোতাবেক কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রযোজ্য।\B

নিয়োগ সুপারিশ প্রক্রিয়া\B

এমসিকিউ ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম ও প্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম অনুসারে টেলিটকের তত্ত্বাবধানে সফটওয়্যারের সাহায্যে শতভাগ অটোমেশন-স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম সম্পাদন করা হবে।

কোন অধিদপ্তরে কত পদ

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় স্নাতক পাস কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮৪টি, উপাধ্যক্ষ ৬২৭টি। উচ্চমাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ ৭৬৮টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ৩ হাজার ৯২৩টি, সহকারী প্রধান শিক্ষক ৩ হাজার ৮৭২টি। নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ৫০৪টি শূন্য পদ রয়েছে। মোট শূন্য পদ রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা অধ্যক্ষ ১১০টি। ভোকেশনালের সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টিসহ মোট শূন্য পদ রয়েছে ১৫০টি।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় কামিল পর্যায়ের অধ্যক্ষ ৩৪, উপাধ্যক্ষ ৫৩টি। ফাজিল পর্যায়ের অধ্যক্ষ ২০২টি, উপাধ্যক্ষ ৩৪৩টি। আলিম অধ্যক্ষ ২১৯টি, উপাধ্যক্ষ ৩৭৭টি। দাখিলের সুপারিনটেনডেন্ট ৮৯৯টি, সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ১ হাজার ৪টিসহ মোট শূন্য পদ ৩ হাজার ১৩১টি।