ফলাফল না দিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি: ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের নিয়োগে আইনি জটিলতা

ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)–এর জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া নিয়োগপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না করে উল্টো নতুন বিজ্ঞপ্তি দেওয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ওপর ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগের নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ না করা ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর ১৫টি ক্যাটাগরিতে ৫৭টি শূন্য পদের বিপরীতে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ২০২৪ সালের মে মাসে লিখিত এবং ডিসেম্বরে মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক বছর পার হলেও ফলাফল প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলাফলপ্রত্যাশী প্রার্থীদের অভিযোগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনৈতিক ও অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে এফআরসি কর্তৃপক্ষ ফলাফল আটকে রেখেছে।

এফআরসির নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাই বিধি ভেঙে কাউকে স্থায়ী করার অভিযোগটি সঠিক নয়। যেহেতু বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন, তাই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এফআরসিতে বর্তমানে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের একটি অংশ নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চাকরিপ্রার্থী প্রথম আলোকে বলেন, ‘অসৎ উদ্দেশ্যে ২০২৩ সালের নিয়োগ নিয়ে এফআরসি কর্তৃপক্ষের কাছে বেনামে একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো তদন্ত ছাড়াই নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ দেয়। এফআরসি কর্তৃপক্ষও স্বায়ত্তশাসনের নিয়ম তোয়াক্কা না করে আগের প্রক্রিয়া অসমাপ্ত রেখে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দেয়, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও আইনের ব্যত্যয়।’

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো স্থায়ী কর্মী নেই। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এবার স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রেও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে চাকরিপ্রার্থীরা মনে করছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পাওয়ার পর গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ আগের নিয়োগের প্রক্রিয়া অসমাপ্ত রেখে আবার নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এফআরসি। এর বিরুদ্ধে আগের নিয়োগে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা হাইকোর্টে রিট দাখিল করলে আদালত নতুন বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি রুল জারি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এফআরসির নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাই বিধি ভেঙে কাউকে স্থায়ী করার অভিযোগটি সঠিক নয়। যেহেতু বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন, তাই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্টের অধীনে গঠিত এ সংস্থাটি দেশের নিরীক্ষা পেশার মানদণ্ড নির্ধারণে কাজ করে। তবে নিয়মিত জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াটি আইনি জালে আটকে পড়ায় বর্তমানে চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।