এআই/ প্রথম আলো
এআই/ প্রথম আলো

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া বদলে যাচ্ছে, থাকছে না গণবিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষা ২২০ নম্বরে

বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন পরীক্ষার পরিবর্তে এখন থেকে শিক্ষক সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। বদলে যাওয়া নিয়োগপদ্ধতিতে শিক্ষক নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে নয়, বরং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে দেওয়া হবে শিক্ষক নিয়োগ। ২০২৫ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এনটিআরসিএ সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক।

নতুন নিয়মে শিক্ষক নিয়োগ—

পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিরা সনদপ্রাপ্ত হতেন। পরবর্তীকালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁরা আবেদন করতে পারতেন। আবেদন যাচাই–বাছাই শেষে এনটিআরসিএ নিয়োগ সুপারিশ প্রদান করত।

নতুন নিয়মে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সনদ এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে সুপারিশ প্রদান করা হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে এবং জটিলতা কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনটিআরসিএ।

প্রতিষ্ঠানটির সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, আগে যাঁরা সনদ পেতেন, তাঁরা সবাই নিয়োগ পেতেন না। এতে করে তাঁরা নিজেদের বঞ্চিত মনে করতেন। নতুন পদ্ধতিতে এ জটিলতা আর থাকবে না। সরাসরি নিয়োগ হওয়ায় এখন থেকে আর গণবিজ্ঞপ্তি পদ্ধতি থাকছে না।

৭৭ হাজার ৭৯৯ শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগ

প্রথমবারের মতো সরাসরি শিক্ষক নিয়োগে শূন্য পদের তালিকা প্রস্তুত করেছে এনটিআরসিএ। মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

নিয়োগ পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ ও ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পাস করতে পেতে হবে ৪০ শতাংশ নম্বর।

এদিকে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্য (৭৭ হাজার ৭৯৯টি) পদে সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ সহকারী শিক্ষকের, ৪৪ হাজার ৬৯১টি।

ছবি: এআই/প্রথম আলো

পদ অনুযায়ী শূন্য পদের সংখ্যা—

১. সহকারী শিক্ষক: ৪৪,৬৯১

২. সহকারী শিক্ষক (ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা): ৯২৮

৩. সহকারী শিক্ষক/শরীরচর্চা প্রশিক্ষক: ৪,০১৪

৪. সহকারী মৌলভি: ১১,০৬৯

৫. কম্পিউটার ব্যবহারিক নির্দেশক: ১২৯

৬. ব্যবহারিক নির্দেশক: ১,৬১৬

৭. ইবতেদায়ি কারি: ২,৫৬৩

৮. ইবতেদায়ি মৌলভি: ৬,১৬৬

৯. ইবতেদায়ি শিক্ষক: ৪৪৪

১০. প্রশিক্ষক: ৫১

১১. প্রভাষক: ৫,৮৫২

১২. শারীরিক শিক্ষা প্রশিক্ষক: ১২৫

১৩. বাণিজ্য প্রশিক্ষক: ২৫১।

‎২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দেওয়া শুরু করে। ২০১৫ সাল থেকে সনদের পাশাপাশি নিয়োগ সুপারিশ করে আসছে এনটিআরসিএ। এখন পর্যন্ত ৭টি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৮ জন শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে এনটিআরসিএ।