আপনার সব কারিগরি দক্ষতা আছে, ফলাফলও দারুণ। কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে গিয়ে যেই ইংরেজিতে কথা বলার সময় আসে, অমনি বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। জানা উত্তরগুলোও তখন তালগোল পাকিয়ে যায়। আমাদের দেশের অনেক মেধাবী চাকরিপ্রার্থীর কাছে চাকরির সাক্ষাৎকারের (ইন্টারভিউ) ভয় মানেই আসলে ইংরেজি বলার ভয়। অথচ বাস্তবতা হলো, নিয়োগকর্তারা আপনার কাছে নিখুঁত ইংরেজি শব্দ প্রত্যাশা করেন না। তাঁরা শুধু দেখতে চান আপনি আপনার ধারণাগুলো পরিষ্কারভাবে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বুঝিয়ে বলতে পারছেন কি না। এই জড়তা কাটিয়ে ইংরেজিতে সাবলীল হওয়ার কৌশলগুলো আসলে বেশ সহজ।
অনেকের ধারণা, অনেক কঠিন শব্দ ব্যবহার করলে নিয়োগকর্তারা মুগ্ধ হবেন। এটি একটি ভুল ধারণা। আসলে কঠিন শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করলে আপনি আরও বেশি নার্ভাস হয়ে পড়তে পারেন এবং ভুলের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তার চেয়ে সহজ ও ছোট ছোট বাক্যে নিজের কথা প্রকাশ করুন। নিজের পরিচয়, পড়াশোনা এবং কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ছোট ছোট বাক্য সাজান। যেমন ‘আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন’ বা ‘কেন আমরা আপনাকে নিয়োগ দেব?’—এ ধরনের সাধারণ প্রশ্নগুলোর উত্তর আগেভাগেই সহজ ইংরেজিতে তৈরি করে নিন। সেগুলো বারবার জোরে জোরে পড়ার অভ্যাস করুন। তবে সাবধান, উত্তরগুলো মুখস্থ করবেন না। শুধু কোন পয়েন্টের পর কোনটা বলবেন, তার একটি পরিষ্কার ধারণা মাথায় রাখুন। এতে কথা বলার সময় জড়তা কমবে।
ইংরেজি বলতে গিয়ে আমরা বড় যে ভুলটি করি, তা হলো মনে মনে আগে বাংলা বাক্য সাজাই এবং তারপর সেটিকে মনে মনেই ইংরেজিতে অনুবাদ করি। এই বাড়তি ধাপটি আপনার কথা বলার গতি কমিয়ে দেয় এবং আপনি মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলেন। এর সমাধান হলো সরাসরি ইংরেজিতে চিন্তা করার অভ্যাস করা। এটি শুরুতে একটু কঠিন মনে হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়। আপনার প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজগুলো মনে মনে ইংরেজিতে আওড়ান। এভাবে ভাবতে থাকলে আপনার মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ইংরেজি গঠনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। ইন্টারভিউর সময় তখন আপনাকে আর অনুবাদের পেছনে সময় নষ্ট করতে হবে না, উত্তরগুলো স্বাভাবিকভাবেই আপনি বলতে পারবেন।
ভাষা শেখার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো শ্রবণ। অন্যরা কীভাবে কথা বলছে, তা মন দিয়ে শুনুন। ইন্টারনেটে বিভিন্ন ‘মক ইন্টারভিউ’ দেখার অভ্যাস করুন। লক্ষ করুন তারা কীভাবে কথা শুরু করছে, কোথায় থামছে এবং কণ্ঠস্বরের ওঠানামা কেমন হচ্ছে। প্রয়োজনে ভিডিওটি থামিয়ে কোনো নির্দিষ্ট বাক্য বারবার বলার চেষ্টা করুন। তাদের বলার ভঙ্গি এবং উচ্চারণ অনুসরণ করলে আপনার মধ্যে একধরনের সাবলীলতা তৈরি হবে। এটি আপনাকে আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করবে এবং ইন্টারভিউ বোর্ডের গুমোট পরিবেশে কথা বলার সাহস জোগাবে।
বলা হয়ে থাকে, ‘প্র্যাকটিস মেকস পারফেক্ট’। কিন্তু ইংরেজিতে কথা বলার ক্ষেত্রে শুধু পড়লে বা লিখলে চলে না, সরাসরি বলতে হয়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস করুন। কথা বলার সময় নিজের কণ্ঠ ফোনে রেকর্ড করুন। পরে সেই রেকর্ডিং শুনলে আপনি নিজেই নিজের ভুলগুলো ধরতে পারবেন। লক্ষ করুন, কোথায় আপনি বেশি থামছেন কিংবা কোন শব্দটি বলতে গিয়ে আপনার সমস্যা হচ্ছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার চর্চা করুন। এটি আপনার শারীরিক ভাষা উন্নত করবে। বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় কিছু সময় ইংরেজিতে কথা বলুন। ভুল হবে জেনেও কথা বলা চালিয়ে যাওয়াই হলো শেখার মূলমন্ত্র।
ইন্টারভিউ বোর্ডে কথা বলার সময় ছোটখাটো ব্যাকরণগত ভুল হওয়া খুব স্বাভাবিক। এমনকি যাঁরা ইংরেজিতে দক্ষ, তাঁরাও অনেক সময় ভুল করেন। কিন্তু আপনার আত্মবিশ্বাস যদি ঠিক থাকে, তবে সেই ভুলগুলো নিয়োগকর্তার চোখে পড়ে না। মনে রাখবেন, ইংরেজি কেবল যোগাযোগের একটি মাধ্যম মাত্র। কথা বলার সময় মাঝেমধ্যে থামা বা নিজেকে সংশোধন করে নেওয়া কোনো দুর্বলতা নয়। আসল লক্ষ্য হলো, নিয়োগকর্তাকে আপনার কথাগুলো বুঝিয়ে বলা। যখন আপনি ভুল করার ভয় ঝেড়ে ফেলবেন, তখনই আপনার ভেতরে সত্যিকারের আত্মবিশ্বাস জন্ম নেবে।
চাকরির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ইংরেজি বলাটা এখন আর বাড়তি কোনো যোগ্যতা নয়; বরং এটি একটি প্রয়োজনীয় মাধ্যম। নিয়মিত চর্চা আর সঠিক পরিকল্পনাই পারে আপনার এই জড়তা দূর করতে। আজ থেকেই অল্প অল্প করে কথা বলা শুরু করুন। মনে রাখবেন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা ভুল ইংরেজিও অনেক সময় জড়তা নিয়ে বলা শুদ্ধ ইংরেজির চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে।