বাংলা ২য় পত্র: অনুচ্ছেদ
প্রিয় পরীক্ষার্থী, এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্রে অনুচ্ছেদ লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনুচ্ছেদে নম্বর থাকবে ১০। পরীক্ষার সময় অনুচ্ছেদটি অনধিক ২০ মিনিটের মধ্যে লেখার চেষ্টা করলে ভালো হয়। এ জন্য আগে থেকে সময় ধরে অনুশীলনের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
অনুচ্ছেদ সাধারণত একটি অনুচ্ছেদের মধ্যেই লেখা হয়। অনেক সময় যৌক্তিক কারণে অনুচ্ছেদ দীর্ঘতর হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভাব বা বিষয়ের সূক্ষ্মতর বিভাজন বিবেচনায় নিয়ে একটি অনুচ্ছেদকে একাধিক অনুচ্ছেদে বিভক্ত করা যায়। অনুচ্ছেদ লেখার সময় বিষয়ের মূল ভাবটি স্পষ্টভাবে বুঝে নিয়ে সাজানো ও গোছানো বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কথা পরিহার করে ভূমিকা, মূল বক্তব্য ও উপসংহার—এই তিন অংশে ভাব প্রকাশ করলে লেখাটি সুসংবদ্ধ ও প্রাঞ্জল হয়। পাশাপাশি পরিষ্কার ও সুন্দর হাতের লেখা পরীক্ষকের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সৃজনশীল চিন্তা, সাবলীল ভাষা ও যুক্তিসংগত বক্তব্যের সমন্বয়ে লেখা অনুচ্ছেদ থেকে ভালো নম্বর অর্জন করা সম্ভব।
একাধিক বাক্যের সমন্বয়ে অনুচ্ছেদ গঠিত হয় এবং বহু অনুচ্ছেদ মিলেই প্রবন্ধ, গল্পসহ নানা গদ্য রচনা সৃষ্টি হয়। এই দিক থেকে অনুচ্ছেদ গদ্য রচনার মৌলিক একক। একটি অনুচ্ছেদের ভেতরে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ভাব বা বিষয় সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। তাই অনুচ্ছেদের প্রতিটি বাক্য ভাব ও বিষয়ের দিক থেকে পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত থাকে। সুগঠিত ও অর্থবহ অনুচ্ছেদই একটি গদ্য রচনাকে আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ভালো অনুচ্ছেদ রচনার জন্য নিচের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি—
১. অনুচ্ছেদে সব সময় একটি নির্দিষ্ট ভাব বা বিষয়ের প্রাধান্য থাকতে হবে, যাতে লেখার লক্ষ্য স্পষ্ট থাকে।
২. একটি অনুচ্ছেদের মধ্যে একাধিক ভিন্ন ভাব বা বিষয়ের অবতারণা বা বিশ্লেষণ করা উচিত নয়। এতে বক্তব্য অসংলগ্ন হয়ে পড়ে।
৩. সাধারণভাবে একটি আদর্শ অনুচ্ছেদ ২০০ থেকে ২৫০ শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, যাতে অনুচ্ছেদের বিষয়টি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।
৪. ভাব বা বিষয়ের সূক্ষ্ম বিভাজন প্রয়োজন হলে একটি অনুচ্ছেদকে একাধিক অনুচ্ছেদেও ভাগ করা যেতে পারে। এতে লেখার গতি ও স্পষ্টতা বাড়ে।
৫. অনুচ্ছেদের প্রথম বাক্যেই মূল ভাব বা বিষয়ের সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট ধারণা তুলে ধরতে হয়।
৬. পরবর্তী বাক্যগুলোয় প্রথম বাক্যে উল্লিখিত ভাব বা বিষয়ের যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও উদাহরণ প্রদান করতে হয়।
৭. অনুচ্ছেদের প্রতিটি বাক্য পরস্পরের সঙ্গে অর্থ ও ভাবের দিক থেকে সংযুক্ত থাকবে—এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
৮. ভাষা হতে হবে সহজ, শুদ্ধ ও প্রাঞ্জল, যাতে পাঠক সহজেই লেখকের বক্তব্য বুঝতে পারে।
৯. অপ্রয়োজনীয় শব্দ, পুনরুক্তি ও বিচ্যুত ভাব পরিহার করতে হবে। লেখার বিষয়টি গোছানো বক্তব্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করা উচিত।
১০. অনুচ্ছেদের শেষ বাক্যে মূল ভাব বা বিষয়ের একটি যৌক্তিক সমাপ্তি বা সারসংক্ষেপের ইঙ্গিত থাকতে হবে, যাতে অনুচ্ছেদটি পরিপূর্ণ রূপ পায়।
সঠিক নির্দেশনা মেনে নিয়মিত চর্চা করলে যেকোনো বিষয়ই সহজ হয়ে ওঠে। অনুচ্ছেদ লেখাও তার ব্যতিক্রম নয়। অনুচ্ছেদ লেখার নিয়ম ও কৌশলগুলো বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করতে পারলে তোমার লেখায় আসবে পরিশীলিত সৌন্দর্য ও সৃজনশীলতা। তাই ধারাবাহিক অনুশীলনের মাধ্যমে ভালো অনুচ্ছেদ রচনায় দক্ষ হলে ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব।
জাহেদ হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক
বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা