শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার

দক্ষ ও প্রযুক্তি–সচেতন মানবসম্পদ তৈরিই বর্তমান শিক্ষার মূল লক্ষ্য: শিক্ষা উপদেষ্টা

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, শুধু ডিগ্রি প্রদান করা না হয়ে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তি–সচেতন মানবসম্পদ গড়ে তোলাই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত। আজ বৃহস্পতিবার বুয়েট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ‘এনডব্লিউপিজিসিএল বুয়েট রোবো কার্নিভ্যাল ২০২৬’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘বিশ্ব বর্তমানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ ও স্বয়ংক্রিয়করণ প্রক্রিয়া আমাদের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।’
সি আর আবরার বলেন, রোবো কার্নিভ্যাল শুধু একটি প্রদর্শনী নয়। এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণার সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে গবেষণা ও শিল্প খাতের বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ‘ভবিষ্যতের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত রোবোটিকস’ প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শক্তি ও বিদ্যুৎ খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানো, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমাদের নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিল্প খাতের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা জরুরি।’

বুয়েট ও নর্থ–ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের এই যৌথ উদ্যোগকে দৃষ্টান্তমূলক উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, এই আয়োজন থেকে ভবিষ্যতের প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা উঠে আসবেন, যাঁরা দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন।

অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য, সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন, এনডব্লিউপিজিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।