
মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ সিনেমা দিয়ে দর্শকের নজরে এসেছিলেন নাজিফা তুষি। তার আগে রেদওয়ান রনির ‘আইসক্রিম’ দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু হলেও ‘হাওয়া’ই তাঁকে এনে দেয় ভিন্ন পরিচিতি। এরপর অনেকটা বেছে বেছে কাজ করছেন এ অভিনেত্রী। সিনেমা মুক্তির আগে কিছু প্রচারণা ছাড়া গণমাধ্যমেও তাঁর উপস্থিতি ছিল কম। এবারের ঈদের সিনেমা ‘রইদ’ মুক্তির প্রথম দিনে স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখা মিলল তাঁর। তুষি বললেন ‘রইদ’ সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, নিজের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ‘রইদ’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাধুর বউ ‘পাগলি’র চরিত্রে তাঁর সংযত অভিনয়, চোখের ভাষা ও গ্রামীণ নারীর আবহ ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি নিয়ে প্রশংসা করছেন অনেকে। ফেসবুকে দর্শকদের কেউ কেউ লিখছেন, ‘“হাওয়া”র পর আবারও তুষি চমকে দিলেন’, আবার কেউ বলছেন, ‘এ ধরনের চরিত্রে তুষিকে আলাদা মানায়।’ সিনেমাপ্রেমীদের অনেকের মতে, তুষি এখন মূলধারার প্রচলিত নায়িকার ছক ভেঙে নিজস্ব অভিনয়ধারা তৈরি করছেন।
তুষির ভাষায়, পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের সঙ্গে কাজ করা যেকোনো অভিনয়শিল্পীর জন্যই বিশেষ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘উনার সঙ্গে কাজের প্রসেসটাই আলাদা। পুরোটা খুব রিয়েল ওয়ার্ল্ডের মতো। ক্যারেক্টারকে জোর করে কিছু করতে হয় না। উনি অভিনেতাদের এমন একটা জায়গায় নিয়ে যান, এরপর ছেড়ে দেন। তখন সবকিছু খুব স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে আসে।’
এই সিনেমার জন্য নিজেকে তৈরি করতে গিয়ে বাহ্যিক রূপ বদলের চেয়ে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন চরিত্রের মনস্তত্ত্বে। তুষি জানান, গ্রামীণ নারীর আবহ তৈরি করতে লোকাল বাজার থেকে ব্যবহৃত কাপড় কিনে পরতেন তাঁরা। শুটিংয়ের সময় নিজের ব্যক্তিগত কোনো পোশাক বা অনুষঙ্গ ব্যবহার করেননি। তবে তাঁর মতে, কস্টিউম বা লুক আসলে খুব ছোট একটি অংশ।
তুষি বলেন, ‘আসলে এই লুক, কালো হওয়া বা অসুন্দর লাগা—এগুলো খুব সহজ ব্যাপার। আসল মজা হচ্ছে চরিত্রের মানসিক জায়গাটা ধরতে পারা। আমরা যে জগতের মধ্যে বিচরণ করছি, সেই অনুভূতিটা ধরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
মুক্তির আগে ‘রইদ’ নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে তুষির মন্তব্য, এটি একেবারেই প্রচলিত ‘মাসালা’ ধরনের সিনেমা নয়। তাঁর ভাষ্যে, ‘“হাওয়া”র মতো সিনেমা আশা করলে আমি বলব, এটা একটু বেশি অনুভব করার মতো সিনেমা। এখানে প্রতিটি অনুভূতির আলাদা সৌন্দর্য আছে। এটা একটু থেমে গিয়ে দেখার মতো, গভীর অনুভূতির সিনেমা। গানগুলোও ঠিক সেই আবহে তৈরি।’
অভিনয়ের পাশাপাশি এই সিনেমায় কণ্ঠও দিয়েছেন তুষি। ‘পাগলির প্রেম জ্বালা’ শিরোনামের গানটি ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছে। নিজের কণ্ঠে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মূলত অভিনয়ের মানুষ। কিন্তু গান সব সময় আমার ভেতরের একটা ভালোবাসার জায়গা ছিল। যখন আমাকে গানটি গাওয়ার কথা বলা হলো, তখন ভয়ও কাজ করছিল—দর্শক আমাকে গায়িকা হিসেবে নেবে কি না।’
তবে গানটি প্রকাশের পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া তাঁকে অভিভূত করেছে। বিশেষ করে রবীন্দ্রসরোবরে গানটি পরিবেশনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তুষি বলেন, ‘দর্শকদের ভালোবাসা আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছে। মনে হয়েছে, গানটি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে পেরেছে।’ তিনি মনে করেন, ‘রইদ’-এর গল্প, আবহ ও গান—সবকিছুই মাটির কাছাকাছি। সেই অনুভূতি থেকেই গানটিও গাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
কেবল ‘রইদ’ই নয়, নতুন নতুন ব্যতিক্রমী প্রকল্পে চমকে দিচ্ছেন তিনি। গত ঈদে রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার কথা না বললেই নয়। রেশমা চরিত্রটিতে তাঁর সংযত অভিনয়, অভিব্যক্তি আর চরিত্রের ভেতরের চাপ ও ভাঙন ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে। তবে ‘রইদ’–এ তিনি আগের সিনেমাকেও ছাড়িয়ে গেছেন।
তুষি এখন ব্যস্ত শিবব্রত বর্মনের ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিতব্য রবিউল আলম রবির ‘সুরাইয়া’ সিনেমার শুটিংয়ে। অন্যদিকে পাঁচ বছর বিরতির পর নতুন কাজ নিয়ে ফিরছেন নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। তাঁর সিরিজ ‘অ্যানি’তেও আছেন তুষি। সিরিজটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এর ‘উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
তুষি জানান, ‘আন্ধার’ ও ‘সখী রঙ্গমালা’সহ তাঁর আরও কয়েকটি কাজ রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। পাশাপাশি নতুন আরও একটি সিনেমার কাজও শুরু করেছেন তিনি। তবে আপাতত তাঁর পুরো মনোযোগ ‘রইদ’কে ঘিরেই।