
ব্রিটিশ তরুণ অভিনেত্রী স্যাডি সোভেরল। ১০ জুনের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিনোদন জগতে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জনপ্রিয় রোমান্টিক সিরিজ ‘এভরি ইয়ার আফটার’–এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিরিজটির মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে আরও বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছেন। আইএমডিবিতে শীর্ষে থাকা এই অভিনেত্রীর সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।
স্যাডি সোভেরল জন্মগ্রহণ করেন ১৭ জানুয়ারি ২০০২ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। ছোটবেলা থেকেই তিনি অভিনয় ও থিয়েটারের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। স্কুল পর্যায়ে তিনি নিয়মিত নাট্য প্রযোজনায় অংশ নিতেন এবং সেখান থেকেই তাঁর অভিনয়ের ভিত্তি তৈরি হয়।
একটি স্কুল থিয়েটার প্রোডাকশন ‘টুয়েলভথ নাইট’-এ অভিনয়ের সময়ই একজন ট্যালেন্ট এজেন্টের নজরে আসেন তিনি, যা তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই থেকেই শিশু চরিত্রে অভিনয় করেন। বেশির ভাগই তাঁকে নাটকে দেখা যেত।
স্যাডি সোভেরলের বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে ২০১৯ সালে ‘রোজ প্লেস জুলি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই ছবিতে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তিনি দ্রুত পরবর্তী বড় প্রকল্পে কাজের সুযোগ পান। সেই সময় তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্রেক–থ্রু আসে নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘ফেট: দ্য উইং সাগা’–এর মাধ্যমে।
এই চরিত্রে স্যাডি সোভেরল ছিলেন একধরনের জটিল, শক্তিশালী ও বিদ্রোহী ফেয়ারি। যাঁর আচরণ ও আবেগ দর্শকের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। এই সিরিজও তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে।
স্যাডি সোভেরল নিয়মিত হলিউডে অভিনয় করতে থাকেন। ২০২৫ সালে তিনি ঘোষণা দেন বড় পরিসরে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর তাঁকে ‘এভরি ইয়ার আফটার’–এ দেখা যায়। সিরিজের গল্পে তাঁকে দেখা যায়, ‘দীর্ঘদিনের প্রেম, বিচ্ছেদ ও স্মৃতির টানাপোড়েনের গল্পে এবং বহু বছর পর সম্পর্কের আবার মুখোমুখি হওয়া। যে কারণে রোমান্টিক এই সিরিজে খোলামেলা চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। চরিত্রটির অভিনয়েই দর্শকদের নজর কাড়েন। চরিত্রটি নিয়ে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার জীবনে অবশ্যই অতীতে ভালোবাসা এসেছে, তবে এবারের অনুভূতিটা অনেক বেশি ব্যাপক এবং জোরালো।’
সিরিজে একাধিকবার তাঁকে চুমুর দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছে। প্রথম চুমুর অভিজ্ঞতা নিয়ে ডব্লিউ ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার প্রথম চুম্বনের মুহূর্তটা মোটেও রোমান্টিক ছিল না। একটা হাউস পার্টিতে আমার খুব প্রিয় বন্ধু এডেনের সঙ্গে সেটি ঘটেছিল। মুহূর্তে হুট করেই যেন সব ঠিকঠাক হয়ে গেল। একদম পলকের মধ্যে ঘটেছিল সবকিছু। আমাদের দাঁতে দাঁত ঠুকে গিয়েছিল এবং পুরো ব্যাপারটা বেশ অস্বস্তিকর ছিল।’
তবে এ ঘটনা এখন স্যাডি সোভেরলের কাছে শুধুই স্মৃতি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুব খুশি যে মুহূর্তটা অন্য কারও সঙ্গে হয়নি। এডেনের সঙ্গেই হয়েছিল। ও কয়েক বছর আগে মারা গেছে, তাই ওর সঙ্গে কাটানো ওই মুহূর্তটা আমার কাছে এখন অমূল্য স্মৃতি।’