কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটারে মানব পাচারবিরোধী রোড মার্চ হবে ২৬ নভেম্বর। ‘নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করো—মানবপাচার প্রতিরোধ করো’ প্রতিপাদ্য নিয়ে মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সরকারি কার্যকর পদক্ষেপের লক্ষ্যে এই রোডমার্চের আয়োজন করছে মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরাম (এইচআরডিএফ) কক্সবাজার এবং আইন ও সালিস কেন্দ্র।
এইচআরডির সদস্যসচিব মিজানুর রহমান বলেন, রোড মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। এরপর মানব পাচারবিরোধী গণসংগীতের মধ্য দিয়ে টেকনাফের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হবে। পথিমধ্যে কোটবাজার, উখিয়া, খারাংখালীতে একাধিক মানব পাচারবিরোধী পথসভা এবং টেকনাফ বাসস্টেশনে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি মানব পাচারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ২০ নভেম্বর বিকেলে শহরের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরাম কক্সবাজারের আহ্বায়ক অরুপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য দেন কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সহসভাপতি কানন পাল, এইচআরডিএফ যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল শুক্কুর, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নোঙ্গরের নির্বাহী পরিচালক দিদারুল আলম, মানবাধিকার কমিশন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান, কর্মজীবী নারী সংস্থার সভাপতি রিজিয়া বেগম, খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ, আদিবাসী ফোরামের প্রতিনিধি ক্যজ অং, মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রকল্প কর্মকর্তা রুবিনা আক্তার, প্রদীপ দাশ, এইচআরডিএফ সদস্য আবদুর রশিদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হিসেবে বসবাস করছেন। তাঁদের কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত কোটি কোটি টাকা দেশে আসছে। অথচ এই অভিবাসী শ্রমিকেরা নানাভাবে অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। দেশ থেকে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে শুরু হয়ে পদে পদে অভিবাসী শ্রমিকদের পোহাতে হয় ভোগান্তি। তার ওপর আছে নির্যাতনের কাহিনি। কিছু অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের খপ্পরে পড়ে সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বা তারও বেশি টাকা জোগাতে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা জমিজমা, সহায়সম্বল বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েন।
বক্তারা আরও বলেন, বৈধপথে বিদেশে যাওয়ার সুযোগের অভাবে এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কারণে একশ্রেণির দালাল ও প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা সমুদ্রপথে বা অন্যান্যভাবে বিদেেশ পাড়ি দিতে গিয়ে মানব পাচারের শিকার হন। গত বছর ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথে জাহাজ বা ট্রলারে করে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী শ্রমিক বিভিন্ন দেশের সীমান্তবর্তী জঙ্গল ক্যাম্পে, কারাগারে বা বন্দীশিবিরে আটক অবস্থায় নির্যাতিত হয়েছেন।