যে ৮ বৈশিষ্ট্য দেখে বুঝবেন, কারও ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স কম কি না

সফল ও সুস্থ সম্পর্কের জন্য শুধু আইকিউ নয়, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সও (ইকিউ) খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিজের আবেগ বোঝা ও নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যের অনুভূতি উপলব্ধি করার ক্ষমতাই ইকিউ-এর মূল কথা। কিন্তু অনেক সময় সহজে রেগে যাওয়া, সমালোচনা মেনে নিতে না পারা বা অন্যের অনুভূতি বুঝতে না পারা—এসব আচরণ কম ইকিউ-এর ইঙ্গিত দেয়। চট করে জেনে নেওয়া যাক কম ইকিউ থাকার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো।

গবেষণায় দেখা যায়, কৌতূহল, নতুন কিছু শেখার আগ্রহের সঙ্গে সৃজনশীলতার সরাসরি সম্পর্ক আছে
ছবি: সুমন ইউসুফ

১. কৌতূহলী মন না থাকা

গবেষণায় দেখা যায়, কৌতূহল কমে যাওয়া, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ না থাকা কগনিটিভ ডিজঅ্যাবিলিটি বা সৃজনশীলতা না থাকা বা কমে যাওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তবে হতাশা, ক্লান্তি, সুযোগের অভাব, ব্যক্তিগত ট্রমা বা অনুপ্রেরণার অভাবেও অনেক সময় সাময়িকভাবে মানুষের কৌতূহল কমে যায়।

২. ডানিং–ক্রুগার ইফেক্ট বা সবজান্তা ভাব

১৯৯৯ সালে মনোবিজ্ঞানী ডেভিড ডানিং ও জাস্টিন ক্রুগার সর্বপ্রথম এই ধারণা ব্যাখ্যা করেন। কিছু ব্যক্তি মনে করেন, তাঁরা অন্যদের চেয়ে বেশি জানেন বা নিজের ভেতর এমন একটা ‘সুপিরিওরিটি কপমপ্লেক্স’ বহন করে চলেন। ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে তিনি নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অসচেতন হয়ে পড়েন আর মুক্তভাবে শেখার সক্ষমতা হারাতে থাকেন।

৩. সাদা-কালো চিন্তা

উচ্চ কগনিটিভ অ্যাবিলিটির মানুষেরা সাধারণত ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং বা জটিল চিন্তা করতে পারেন। যেকোনো বিষয়ের ওপর বিভিন্নভাবে আলো ফেলে দেখতে জানেন।

৪. হুট করে রেগে যাওয়া

নিজের অনুভূতির ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো হুট করে রেগে যাওয়া। রাগের মাথায় বা আবেগের বশেই মূলত আমরা ভুল সিদ্ধান্ত নিই। এটি কম ইকিউয়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

ভুল থেকে শেখার সঙ্গে ইমোশোনাল ইন্টেলিজেন্সের সম্পর্ক আছে

৫. ভুল থেকে না শেখা

এটি মেটাকগনিশনের সঙ্গে (নিজেকে মূল্যায়ন করার ক্ষমতা) সঙ্গে সম্পর্কিত বুদ্ধিমত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আপনি যদি গঠনমূলক সমালোচনাকে সমাদরে, সহজভাবে গ্রহণ করে নিজেকে শুধরে নিতে না জানেন, তাহলে আপনার আত্মোন্নয়নের গতি কমে গেল বা আটকে গেল।

৬. সরল ব্যাখ্যায় বিশ্বাস

জটিলভাবে চিন্তার অভাব কগনিটিভ লেজিনেসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে আগে থেকেই জটিল চিন্তা না করার অভ্যাস বা পরিবেশগত কারণে, তথ্যের অভাবেও মানুষ সরল ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করতে পারে।

৭. বেশি বলা, কম শোনা

এটি কম ইকিউয়ের আরেকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। গবেষণায় দেখা যায়, ‘অ্যাকটিভ লিসনিং’ উচ্চ সামাজিক ও ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। তাই গড়ে আমরা যেটুকু বলি, তার দ্বিগুণ শোনা ভালো।

৮. অন্যের সুখে ঈর্ষা করা

অন্যের মতামতকে সহ্য করতে না পারা, শ্রদ্ধা করতে না পারা, অন্যের সুখ বা সফলতায় ঈর্ষান্বিত হওয়া আর অপরের দুঃখে দুঃখী হতে না পারা কম ইকিউয়ের বৈশিষ্ট্য।

সফল ও সুস্থ সম্পর্কের জন্য শুধু আইকিউ নয়, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সও (ইকিউ) খুব গুরুত্বপূর্ণ

গুত্বপূর্ণ সতর্কতা

এসব লক্ষণ থাকলেই কেউ ‘কম বুদ্ধিমান’, এমন বলার সুযোগ নেই। কেননা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আইকিউ সরাসরি যুক্ত, ইকিউ নয়। আবার হুট করে কারও ভেতর এসবের কোনো এক বা একাধিক লক্ষণ দেখেই তাঁকে কম ইকিউয়ের মানুষ হিসেবে বিচার করা যাবে না। কেননা মানসিক চাপ বা বার্নআউট, এডিএইচডি, খারাপ পরিবেশ বা শিক্ষা, সাময়িক মানসিক অবস্থার কারণেও এসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

সূত্র: ভেরি ওয়েল মাইন্ড