শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য অফিসে যে ৩টি নিয়ম আপনাকে মানতেই হবে

শান্তিপূর্ণ জীবন ও ভালো ‘ওয়ার্ক–লাইফ ব্যালান্স’ বজায় রাখার জন্য কিছু মৌলিক ‘অফিস রুল’ বা কর্মক্ষেত্রের নিয়ম আছে। এসব আপনার মানসিক চাপ কমিয়ে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য আনবে।

১. অফিসকে নিজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব নয়

অনেকে ক্যারিয়ার বা পেশাজীবনে উন্নতি করতে যতটা মনোযোগ দেন, আত্মোন্নয়নে ততটা দেন না
ছবি: পেক্সেলস

অনেকে ক্যারিয়ার বা পেশাজীবনে উন্নতি করতে যতটা মনোযোগ দেন, আত্মোন্নয়নে ততটা দেন না। দেখা যায়, অফিসে ‘যথেষ্ট সময় দেওয়ার পর’ ব্যক্তিগত উন্নয়ন, পারিবারিক বা সামাজিক জীবনের জন্য সময় অবশিষ্ট থাকে খুবই কম।

যেটুকু সময় পাওয়া যায়, তা নিজেকে আবার অফিসের জন্য রিচার্জ করতেই ফুরিয়ে যায়। ফলে পেশাজীবনে তিনি ভালো করেন বটে, কিন্তু জীবনের স্রোতে ব্যক্তিগতভাবে পিছিয়ে পড়েন।

আত্মোন্নয়ন, বোধোদয়—এসবের ভেতর দিয়ে প্রতিনিয়ত পরিণত ও সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার যাত্রা থেকে তিনি ছিটকে পরেন। ফলে তিনি যত ভালো কর্মী হিসেবে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারেন, মানুষ হিসেবে তত সুন্দরভাবে নিজেকে বিকশিত করতে পারেন না।

২. সহকর্মীদের সঙ্গে সংবেদনশীল বিষয় শেয়ার করার আগে সাবধান

পেশাজীবন আর ব্যক্তিজীবনকে আলাদা করতে চেষ্টা করুন

অফিসে অনুভূতি বা ব্যক্তিগত বিষয় খুব প্রবলভাবে শেয়ার করবেন না। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য, আবেগ সঠিকভাবে বের করার জন্য শেয়ার করা বা সংবেদনা পাওয়া জরুরি। তবে অনেক সময় সহকর্মীরা উপযুক্ত ব্যক্তি নন। এতে ভুল–বোঝাবুঝির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আপনার গোপনীয়তাও নষ্ট হতে পারে। ফলে কিছু একটা সংবেদনশীল বিষয় শেয়ার করে আপনার মানসিক চাপ কমার বদলে উল্টো বেড়ে যেতে পারে। ব্যক্তিগত জীবনে সহকর্মীর সঙ্গে শেয়ার করবেন না কেন, করবেন, তবে মানুষ বুঝে, শতভাগ নিশ্চিত হয়ে।

বেশির ভাগ সহকর্মীই আপনার বন্ধু নন (অবশ্য সবার ক্ষেত্রে বা সব পেশাগত বন্ধুত্বের বেলায় এ কথা খাটে না)। সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর সীমানা বজায় রেখে পেশাগত সম্পর্ক রাখা নিরাপদ। একইভাবে মানবসম্পদ বা এইচআরকে আবেগীয় অনুভূতির সমর্থনকেন্দ্র ভাববেন না।

মানবসম্পদ বিভাগ প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও স্বার্থ রক্ষা করে। যেকোনো বিবাদ, সমস্যা বা অভিযোগ থাকলেই এইচআরের কাছে ছুটে যাবেন না। প্রয়োজনে সময় নিয়ে, শান্তভাবে পর্যালোচনা করে, বুঝে, বাস্তব ভিত্তি ও তথ্য জড়ো করে লিখিতভাবে অফিসের নিয়ম মেনে মানবসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

৩. অফিস বাড়ি নয়

বাস্তবতা হলো, আপনি যতই অফিসকে বাড়ি হিসেবে দেখেন না কেন, অফিস কিন্তু আপনাকে কর্মী হিসেবেই দেখে

অনেকেই অফিসকে বলেন ‘সেকেন্ড হোম’। কেউ কেউ তো আরও এক কাঠি সরেস। তাঁদের কাছে অফিসই মূলত বাড়ি। আর বাড়িটা হলো ‘রেস্টিং প্লেস’ বা ‘নিজেকে চার্জ করার জায়গা’।

এ ধরনের মানুষের যুক্তি হলো, বাড়ির চেয়ে অফিসেই বেশি সময় কাটানো হয়। তাই অফিসই মূলত আসল বাড়ি। কিন্তু এভাবে কেবল ‘কোয়ান্টিটি’ দিয়ে বিচার করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

বাস্তবতা হলো, আপনি যতই অফিসকে বাড়ি হিসেবে দেখেন না কেন, অফিস কিন্তু আপনাকে কর্মী হিসেবেই দেখে। আর করপোরেট চাকরির বাস্তবতা হলো, আপনি যতই চাপ নেবেন, ততই চাপ আপনাকে ঘিরে ধরবে। প্রচুর চাপ নিয়ে আপনি কিছুতেই চাপ কমাতে পারবেন না।

তাই অফিসে নিজের কাজটুকু ঠিকভাবে করুন। যথাসময়ে অফিসে ঢুকুন। যথাসময়ে বের হয়ে যান। ‘অফিস আওয়ার’-এ নিজের সেরাটা দিন। কিন্তু নিজেকে, পরিবারকে বঞ্চিত করে, সামাজিক জীবনযাপন না করে আপনি পেশাজীবনে যা অর্জন করবেন, ব্যক্তিজীবনে তার চেয়ে বেশিই হারাবেন।

সূত্র: করপোরেট টিপসের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল