৫০ পার হলেও যে ৫টি নিয়ম মেনে তারুণ্য ধরে রাখবেন

৫০–এ পা দিয়েও অনেক নারী কর্মচঞ্চল, আত্মবিশ্বাসী ও তারুণ্যে ভরপুর জীবন যাপন করছেন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, মানসিক প্রশান্তি এবং দৈনন্দিন কিছু সচেতন অভ্যাস বয়সকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

৫০–এর পরও থাকা যায় স্টাইলিশ আর প্রাণবন্ত।
মডেল: অভিনয়শিল্পী তানজুম আরা পল্লী ও ডিজাইনার শান্তা কবীর, পোশাক: আজুরা বাই শান্তা, সাজ: অরা বিউটি লাউঞ্জ, স্থান কৃতজ্ঞতা: সরসী কাব্য, ফটোশুট সমন্বয়: বিপাশা রায়। ছবি: সুমন ইউসুফ

সন্তান ধারণ এবং পালন, সংসার এবং কর্মজীবনের ভারসাম্য—এই সবকিছুরই প্রভাব পড়ে শরীর ও মনে। এ কারণে ৪০–এর পর থেকেই যত্ন নেওয়ার বিষয়টি অনেকটাই আবশ্যক হয়ে ওঠে নারীদের জন্য।কুড়িতেই বুড়ি—এই প্রবাদ তো অনেক পুরোনো। আর পঞ্চাশে পড়লে মনে করা হতো, বুড়ো হয়ে গেলাম। তবে এখন ৫০–এ পা দিয়েও অনেকে কর্মচঞ্চল, আত্মবিশ্বাসী ও তারুণ্যে ভরপুর জীবন যাপন করছেন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, মানসিক প্রশান্তি এবং দৈনন্দিন কিছু সচেতন অভ্যাস বার্ধক্যকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। ৫০–এর পরও জীবনটাকে কাজে–কর্মে উপভোগ করে যাচ্ছেন, এমন মানুষেরা জানালেন সহজ কিছু নিয়ম। প্রতিদিন মেনে চললে এ বয়সেও থাকা যায় সুস্থ, সতেজ ও প্রাণবন্ত।

মন ভালো থাকলে চেহারায় তার প্রভাব পড়বেই

মন ভালো তো সব ভালো

ডিজাইনার হুমায়রা খান, এ বয়সেও বেশ তরুণ। তিনি জানান, এ জন্য নিজের মনকে শক্ত করা জরুরি। এ বয়সে নানা রকম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আসাটাই স্বাভাবিক। তবে সেটা ধরে বসে থাকা যাবে না। সেটাকে মেনে নিয়েই ইতিবাচক জীবন যাপন করতে হবে। নিজেকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সবচেয়ে জরুরি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।

বাড়িতে রান্না খাবার বা প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল খাওয়াটা জরুরি। খেতে হবে পর্যাপ্ত পানি। এ বয়সে মানসিকভাবে ভালো থাকাটা জরুরি। এ জন্য নিজের মন যা চায়, তেমন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। গান শুনুন, বই পড়ুন, ঘুরে আসুন প্রিয় কোনো জায়গায়। হুমায়রা খান মনে করেন, মন ভালো থাকলে চেহারায় তার প্রভাব পড়বেই।

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মানসিকভাবে সতেজ থাকতে সাহায্য করে

দরকার বন্ধু

রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানার মতে, জীবনের এ পর্যায়ে এসে বন্ধুত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে মধ্যবয়স বা তার পরের সময়ে যখন সন্তানেরা ধীরে ধীরে বড় হয়ে নিজেদের পড়াশোনা, কর্মজীবন কিংবা সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তখন বাবা-মায়ের দৈনন্দিন দায়িত্ব অনেকটাই কমে আসে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে অনেকেই একাকিত্ব, মানসিক চাপ বা শূন্যতা বোধ করেন।

এমন সময়ে নিজের চিন্তাভাবনা, রুচি ও আগ্রহের সঙ্গে মিল আছে—এমন একটি বন্ধুমহল গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, গল্প করা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া, একসঙ্গে নতুন কিছু শেখা বা কোনো শখের কাজ করা মানসিকভাবে সতেজ থাকতে সাহায্য করে। পাশাপাশি খাবারের দিকে দিতে হবে বিশেষ মনোযোগ। এ সময় প্রচুর আমিষজাতীয় খাবার খেতে হবে। আমিষ ত্বকের ঝুলে পড়া রোধ করে।

৫০–এও সতেজ থাকুন সব সময়

অল্প যত্নেই ভালো থাকবে ত্বক

মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন তো নিতেই হবে, পাশাপাশি এ সময় বাহ্যিক যত্ন নেওয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন রাহিমা সুলতানা। ত্বকের যত্নে এ বয়সে ক্যাস্টর অয়েল বেশ কাজে দেবে। যেকোনো তেলের সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এই তেল ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।

পাশাপাশি তিসিবীজের তেল ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে বেশ উপকারী। এর সঙ্গে দোকান থেকে অ্যালোভেরা জেল কিনে ব্যবহার করলে ত্বক পাবে উজ্জ্বলতা। এ ছাড়া বাইরে বের হওয়ার সময় সানস্ত্রিনের ব্যবহার খুব জরুরি। ব্যাস, এতটুকু যত্নেই এ বয়সেও ত্বক থাকবে ভালো।

কোথায় যাচ্ছেন, অনুষ্ঠানের ধরন কী, কী ধরনের পরিবহনে যাতায়াত করবেন, আবহাওয়া কেমন থাকবে এবং সঙ্গে কারা থাকবেন—এসব বিষয় বিবেচনা করে পোশাক নির্বাচন করুন

স্টাইল কি আটকায় বয়সে?

ডিজাইনার শান্তা কবীর ৫৪ বছরে পা রেখেছেন। কিন্তু তাঁর আত্মবিশ্বাস ও ফ্যাশন–সেন্স যেকোনো তরুণকেও অনায়াসে টেক্কা দিতে পারে। শান্তা যেহেতু নিজেই ফ্যাশন ডিজাইনার, তাই তিনি মনে করেন যে স্টাইল কখনোই বয়সের গণ্ডিতে আটকে থাকতে পারে না; বরং এটি একজন মানুষের আত্মপ্রকাশের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম।

পোশাক নির্বাচনে বয়সকে কখনোই প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখেন না শান্তা কবীর। তাঁর মতে, একজন মানুষ যে বয়সেই থাকুন না কেন, নিজের রুচি ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই পোশাক পরার অধিকার সবারই আছে।

তবে তিনি কোথায় যাচ্ছেন, অনুষ্ঠানের ধরন কী, কী ধরনের পরিবহনে যাতায়াত করবেন, আবহাওয়া কেমন থাকবে এবং তাঁর সঙ্গে কারা থাকবেন—এসব বিষয় বিবেচনা করে পোশাক নির্বাচন করেন।

ভালো ঘুম হোক পর্যাপ্ত

শান্তা কবীরের মতে, নিজেকে এ বয়সে উপস্থাপন করার জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি, তা হলো আত্মবিশ্বাস। কে কী ভাববেন, সেই চিন্তায় নিজেকে আটকে রাখার কোনো মানে নেই। তাঁর মতে, যখন একজন মানুষ নিজের পোশাক ও স্টাইল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকেন, তখন সেই আত্মবিশ্বাসই তাঁর সবচেয়ে বড় অলংকার হয়ে ওঠে।

তিনি আরও মনে করেন, এ বয়সে স্টাইল স্টেটমেন্ট এমন হওয়া উচিত, যা একজন মানুষের ইতিবাচক ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরে। অতি আড়ম্বর নয়; বরং এ বয়সে এমন ফ্যাশন বেছে নেওয়া উচিত, যা নিজেকে সুন্দর, পরিপাটি ও মার্জিতভাবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি আশপাশের মানুষকেও ইতিবাচক অনুভূতি দেয়।

প্রয়োজন ব্যায়াম

নিজেকে ফিট রাখতে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা দৌড়ান শান্তা কবীর। রাহিমা সুলতানা মনে করেন, নিয়মিত হাঁটাটা খুব জরুরি। পাশাপাশি যোগাসন করা ভালো। কিছু কিছু আসন এ সময়ে শারীরিক সমস্যাগুলোকে দূরে রাখে। হুমায়রা খান জানান, প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর সাত থেকে আট মিনিট তিনি যোগাসন করেন। সন্ধ্যায়ও এই পরিমাণ সময় যোগাসন করেন তিনি।

হুমায়রা খান বলেন, এ বয়সে নিয়ম করে শরীরচর্চা করতে হবে, তেমন কিন্তু নয়। একটু নিজের মতো করে গান ছেড়ে নাচতে পারেন, হাত-পা স্ট্রেচিং করতে পারেন। ব্যাস, এইটুকু করলেই এ সময়ে আপনি থাকবেন ফিট ও সুন্দর।