
বাংলাদেশে নারীদের স্তন ক্যানসারের পর বেশি দেখা যায় জরায়ুমুখের ক্যানসার। প্রতিবছর হাজার হাজার নারী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দুঃখের বিষয়, অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয়। অথচ সময়মতো শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসায় জরায়ুমুখের ক্যানসার পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। জরায়ুমুখের ক্যানসারের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পদ্ধতির নাম রেডিওথেরাপি বা বিকিরণ চিকিৎসা।
রেডিওথেরাপিতে বিশেষ ধরনের শক্তিশালী এক্স-রে ব্যবহার করে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা হয়। এই রশ্মি ক্যানসার কোষের ভেতরের ডিএনএর গঠন নষ্ট করে দেয়। ফলে ক্যানসার কোষ আর বাড়তে পারে না এবং ধীরে ধীরে মারা যায়।
আধুনিক রেডিওথেরাপি খুবই নিখুঁত চিকিৎসাপদ্ধতি। এতে শুধু ক্যানসারে আক্রান্ত জায়গায় রশ্মি দেওয়া হয় এবং আশপাশের সুস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যতটা সম্ভব সুরক্ষিত থাকে।
জরায়ুমুখের ক্যানসারে সাধারণত দুই ধরনের রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। প্রথমটি এক্সটার্নাল বিম রেডিওথেরাপি। এতে শরীরের বাইরে থাকা মেশিন থেকে প্রতিদিন অল্প অল্প করে পেলভিস অঞ্চলে রশ্মি দেওয়া হয়।
সাধারণত ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ এটা চলে। দ্বিতীয়টি ব্র্যাকিথেরাপি বা ভেতর থেকে রেডিওথেরাপি। এতে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে জরায়ুমুখের ভেতরে বা খুব কাছে রেডিয়েশনের উৎস বসানো হয়।
এতে সরাসরি টিউমারে বেশি মাত্রায় রশ্মি দেওয়া যায় এবং আশপাশের অঙ্গ কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জরায়ুমুখের ক্যানসারে ব্র্যাকিথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছাড়া চিকিৎসা অসম্পূর্ণ।
অনেকে রেডিওথেরাপির কথা শুনলে ভয় পান। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে এখন খুব নিরাপদে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। সাময়িক ক্লান্তি, পাতলা পায়খানা, প্রস্রাবে জ্বালা হতে পারে, যা চিকিৎসা শেষ হলে বেশির ভাগ সময়ই সেরে যায়। সঠিক সময়ে পুরো কোর্স শেষ করলে জরায়ুমুখের ক্যানসারে সুস্থ হওয়ার হার অনেক বেশি।