বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পুষ্টির চাহিদা বদলে যায়। অনেক সময় আমরা নিয়মিত খাওয়াদাওয়া করলেও শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিন পাচ্ছে না, এমনটা হতে পারে। শরীরে অপুষ্টি যে সব সময় চোখে পড়বে, এমনটা নয়; বরং কিছু নীরব সংকেতের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জানিয়ে দেয় তার উপস্থিতি। তাই এসব লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
সব সময় দুর্বল লাগা, কাজের শক্তি না পাওয়া বা সহজেই হাঁপিয়ে যাওয়া—এসব হতে পারে আয়রন বা ভিটামিনের ঘাটতির ইঙ্গিত। বিশেষ করে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) থাকলে দীর্ঘদিন ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
চুল যদি রুক্ষ হয়ে যায়, সহজে ভেঙে পড়ে বা অস্বাভাবিকভাবে পাতলা হতে শুরু করে, তবে তা প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বির অভাবের কারণে হতে পারে। চুলের স্বাস্থ্যের সঙ্গে পুষ্টির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
নখে খাঁজ পড়া, ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া বা চামচের মতো বাঁকানো আকার ধারণ করা—এসব লক্ষণ আয়রনের ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নখের পরিবর্তনকে অনেক সময় অবহেলা করা হয়, কিন্তু এটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
মুখের কোণে ফাটা দাগ, জিব লাল বা ফুলে যাওয়া, জ্বালাপোড়া অনুভব করা—এসব ভিটামিন বি, আয়রন বা জিংকের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। নিয়মিত এ ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হজমের সমস্যা বা বারবার ডায়রিয়া হলে শরীর সঠিকভাবে পুষ্টি শোষণ করতে পারে না। ফলে পর্যাপ্ত খাবার খেলেও শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না।
অযথা বিরক্তি, উদাসীনতা বা আগ্রহহীনতা অনেক সময় পুষ্টির ঘাটতির ফল হতে পারে। শরীর যেমন খাবার চায়, মস্তিষ্কও তেমনি সঠিক পুষ্টি ছাড়া ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই ক্ষুধা কমে যায়। কিন্তু নিয়মিত খাবার এড়িয়ে গেলে বা অল্প খেলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা ওজন কমে যাওয়া ও দুর্বলতার কারণ হয়।
এই লক্ষণগুলো সব সময় অপুষ্টির প্রমাণ নয়, অন্যান্য রোগের কারণেও হতে পারে। তবে এগুলো দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা হঠাৎ শুরু হলে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক কারণ নির্ণয় করা উচিত।
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ, ডিম, দুধ ও পূর্ণ শস্যজাত খাবার রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। সুষম খাদ্যই সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনের মূল চাবিকাঠি।