
ছয় মাস পেরোনোর পরপরই শিশুকে মাংস খাওয়ানো কি ঠিক হবে? চলুন দেখে নিই শিশুবিশেষজ্ঞ কী বলেন।
ছয় মাস পেরোনোর পর মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে দিতে হয় সম্পূরক খাবার। পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেক অভিভাবকই এই বয়স থেকেই খিচুড়ির সঙ্গে শিশুকে মাংস দিয়ে থাকেন।
মাংস থেকে আমিষ, আয়রন, ভিটামিন বি১২, জিংক ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে এসব উপাদান কাজে লাগে। ছোট্ট শিশুকে মাংস খাওয়ানো প্রসঙ্গে পরামর্শ দিলেন মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান।
ছয় মাস বয়স পার হলেই মুরগির মাংস দেওয়া যায়। তবে হাঁস, গরু বা খাসির মাংস এক বছর পার হলে খাওয়ানো ভালো। এসব মাংস হজম হতে একটু বেশি সময় লাগে। সব ধরনের মাংস সব শিশুর সহ্য না-ও হতে পারে।
যেকোনো নতুন খাবারে শিশু ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। মাংসের বেলাতেও তা–ই। শিশুকে যেকোনো নতুন খাবারই খুব অল্প পরিমাণে শুরু করতে হয়। অনেক বাড়িতেই ছোট্ট শিশুকে সুজি ও নরম খিচুড়ির মতো খাবার দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে শিশু পরিবারের সাধারণ খাবারের স্বাদের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
শিশুকে শুরুতেই নরম খিচুড়ি বা নরম ভাতের সঙ্গে অল্প পরিমাণে মাংস মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে মাংসের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।
শিশুকে মাংস দিলে অবশ্যই খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করতে হবে। আধসেদ্ধ মাংস দেওয়া যাবে না।
শিশুকে মাংস দেওয়ার পর সে তা খেতে পারছে কি না, তা–ও দেখতে হবে।
যে শিশু মাত্র খেতে শিখেছে, তাকে মিহি করে মাংস দিতে হবে। শুরুর দিকে ব্লেন্ড করে দেওয়া যেতে পারে।
সেদ্ধ করার পর হাত দিয়ে চটকে নরম করে দিলেও ছোট শিশু তা খেতে পারবে।
মুরগি আর সবজি দিয়ে পুষ্টিকর স্যুপও করে দিতে পারেন।
মাংসের শক্ত টুকরা বা হাড়ের টুকরা দেওয়া যাবে না। এসব অংশ শিশুর গলায় আটকে যেতে পারে।
যেকোনো মাংসের চর্বি বা শক্ত চামড়ার অংশ ফেলে দিন। ফার্মের মুরগিতেও চর্বি থাকে।
যেকোনো নতুন খাবার শুরু করার তিন দিনের মধ্যে অন্য আরেকটি খাবার শুরু না করাই ভালো। শিশুর কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকলে এভাবে তা বোঝা সহজ হয়।
শিশু একটু বড় হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। এতে সে নানান রকম খাবারের প্রতি আগ্রহী হবে। এভাবে সে অল্প অল্প করে মাংসের নানান পদে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।
যে বয়সে শিশু নিজ হাতে খাবার ধরতে পারে, সেই বয়সে হাতে মুরগির লম্বা হাড় তার হাতে দেওয়া যেতে পারে। এভাবে সে একটু একটু করে চুষে খেতে শিখবে। উৎসাহও পাবে।