থাইরয়েড হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রায় ক্ষরণ হলে শিশুর অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে
থাইরয়েড হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রায় ক্ষরণ হলে শিশুর অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে

কখন বুঝবেন শিশুর ঘাম তার অসুস্থতার লক্ষণ

কোনো কোনো শিশু একটু বেশি ঘামে, বিশেষ করে ঘুমালে ঘামে বালিশ বিছানা ভিজে যায়। এই নিয়ে বাবা মায়ের দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। শিশুদের অতিরিক্ত ঘামার প্রবণতা বিভিন্ন শারীরবৃত্তিক ও পরিবেশগত কারণে হয়ে থাকে।

প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ঘাম গ্রন্থিগুলো অপরিপক্ব থাকে। শিশুদের মাথার ত্বক ও ঘাড়ের দিকের ঘর্মগ্রন্থিগুলো শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, তাই ঘুম বা খেলাধুলার সময় তাদের মাথা বেশি ঘেমে যায়। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলে শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কমে যায়। এ সময়ও তারা প্রচুর ঘামতে পারে। এ ছাড়া গরমের দিনে বা অতিরিক্ত মোটা বা বেশি স্তরের কাপড় পরানো হলে শরীর দ্রুত তাপ ছাড়তে ঘাম তৈরি করে। এসব কারণে ঘাম হলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
তবে কখনো কখনো শিশুর অতিরিক্ত ঘাম অস্বাভাবিক; এটাকে বলে হাইপারহাইড্রোসিস। এটি এমন একটি অবস্থা, যখন শিশুটি তার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘামতে থাকে। এটি সাধারণত হাত, পা, বগল বা মাথার ত্বককে প্রভাবিত করে এবং গরমের ওপর নির্ভর করে না।

হাইপারহাইড্রোসিসকে মোটাদাগে দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে:

  • প্রাইমারি ফোকাল হাইপারহাইড্রোসিস: কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঘামার প্রবণতা, যা সাধারণত শৈশব বা কৈশোরে শুরু হয়। এটি বংশগত হতে পারে। এতে হাতের তালু, মাথা ও মুখ, বগল প্রভৃতি বেশি ঘামে।

  • সেকেন্ডারি হাইপারহাইড্রোসিস: কোনো শারীরিক সমস্যা বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া। সাধারণত সারা শরীরই এতে ঘামে ভিজে যায়।

লক্ষণ

  • সাধারণত পরিবেশের তাপমাত্রা বা শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।

  • হাত বা পায়ের তালু সব সময় ভেজা, যা শিশুদের লিখতে বা কোনো কিছু ধরতে সমস্যা তৈরি করে।

  • মোজা বা জামাকাপড় দ্রুত ভিজে যাওয়া এবং ব্যাকটেরিয়ার কারণে দুর্গন্ধ হওয়া।

কারণ

  • থাইরয়েড হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রায় ক্ষরণ হলে শিশুর অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।

  • জন্মগতভাবে শিশুর হৃৎপিণ্ডের সমস্যা থাকলে এমনটা ঘটতে পারে।

  • জিনগত ত্রুটির কারণে সিস্টিক ফাইব্রোসিস রোগ দেখা দিলে শিশুর অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।

  • শ্বাসযন্ত্রে যদি কোনো রকম সংক্রমণ ঘটে, সে ক্ষেত্রে শিশুর অতিরিক্ত ঘাম দেখা দিতে পারে।

  • ভিটামিন-ডির ঘাটতি বা স্নায়বিক সমস্যায়ও শিশু অতিরিক্ত ঘামতে পারে।

  • উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা কিংবা অস্থিরতা থেকেও বাচ্চাদের ঘাম হতে পারে।

যেসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে–

  • খাওয়ার সময় অতিরিক্ত ঘাম।

  • একটুতেই দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসকষ্ট হওয়া।

  • শিশুর ওজন ঠিকমতো না বাড়া অথবা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া।

  • ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা ঠান্ডা হওয়ার পরও শরীর ঘেমে ভেসে যাওয়া।

  • শুধু ঘামার কারণে শিশুর ঘুমের সমস্যা হওয়া বা বিরক্তি প্রকাশ করা।

করণীয়

  • শিশুকে অতিরিক্ত কাপড়চোপড় পরানো থেকে বিরত থাকুন।

  • ঘর সব সময় বাতাস চলাচলযোগ্য রাখতে হবে।

  • শিশুর শরীরের তাপমাত্রা খেয়াল রাখতে হবে।

  • শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ বা পানি ও তরলজাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে, যাতে ঘামের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।

  • ঘাম বেশি বা অস্বাভাবিক মনে হলে অবশ্যই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।