রমজানে ডায়াবেটিক রোগীদের বাড়তি কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হয়
রমজানে ডায়াবেটিক রোগীদের বাড়তি কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হয়

রমজান মাসে ডায়াবেটিক রোগীদের যেসব বিষয় জেনে রাখা জরুরি

ডায়াবেটিক রোগীদের রোজা রাখতে অনেক সময় বিশেষ সতর্কতার দরকার হয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা, ওষুধের ডোজের সমন্বয় এবং সচেতন থাকলে অধিকাংশ রোগী নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকার দরকার হতে পারে। তাই রমজান মাসে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

কারা ঝুঁকিতে

নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা উচ্চঝুঁকিতে থাকেন—

  • যাঁদের ঘন ঘন হাইপোগ্লাইসেমিয়া (লো সুগার) হয়।

  • যাঁদের রক্তে শর্করা খুব বেশি ওঠানামা করে।

  • টাইপ-১ ডায়াবেটিসে যাঁদের নিয়ন্ত্রণ ভালো নয়।

  • অন্তঃসত্ত্বা ডায়াবেটিস রোগী।

  • কিডনি, লিভার ও হৃদ্‌রোগের জটিলতা থাকলে।

  • বয়স্ক ও দুর্বল রোগী।

কী করবেন

রমজান মাস শুরুর আগে ডায়াবেটিক রোগীদের যে প্রস্তুতি দরকার পড়ে, সেটা এখন পালন করার সুযোগ নেই। তারপরও আগামী সময়ের জন্য যাতে প্রস্তুতি নিতে সহজ হয়, তাই এখানে কিছু তথ্য জানিয়ে রাখছি।

রোজা শুরুর এক থেকে দুই মাস আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করে নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। এ ছাড়া রোজার আগে যেসব প্রস্তুতি দরকার পড়ে, তার মধ্যে আছে–

  • চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রমজান মাসে ওষুধ বা ইনসুলিনের সময় ও ডোজ ঠিক করে নিতে হবে।

  • নিজে রক্তের শর্করা মাপা শিখুন।

  • হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে কী করবেন, তা নিশ্চিত হোন।

  • খাদ্যতালিকা ও শরীরচর্চার পরিকল্পনা ঠিক করুন।
    এসব কাজ এই রমজান মাসে না করে থাকলে এখনো শুরু করতে পারেন।

ওষুধ ও ইনসুলিন ব্যবস্থাপনা

রমজান মাসে ইনসুলিনের ডোজের সময় পরিবর্তন করা লাগতে পারে

ওষুধের সময়সূচি পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। যেমন:

  • দিনে একবার খাওয়ার ওষুধ ইফতার বা সাহ্‌রিতে নিতে হতে পারে।

  • দিনে দুবারের ওষুধ সাহ্‌রি ও ইফতারের সঙ্গে ভাগ করে দেওয়া হয়।

  • ইনসুলিনের ডোজ সাধারণত কিছুটা কমানো বা সময় পরিবর্তন করা হয়।
    তবে নিজে নিজে ডোজ পরিবর্তন করা বিপজ্জনক। সব পরিবর্তন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।

রক্তের শর্করা কখন মাপবেন

রমজান মাসে নিয়মিত রক্তের শর্করা পরীক্ষা করা দরকার। এই পরীক্ষায় রোজা ভঙ্গ হয় না। সাধারণত যেসব সময় শর্করা মাপা উচিত—

  • সকাল ১০টায়;

  • বেলা ২টায়;

  • ইফতারের আগে

  • ইফতারের দুই ঘণ্টা পর;

  • মাথা ঘোরা/ঘাম/শরীর কাঁপতে থাকলে/অবসাদ হলে।

কখন রোজা ভাঙবেন

ডায়াবেটিক রোগীর খাদ্যতালিকায় মিষ্টি না রাখাই ভালো

নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে রোজা ভাঙা জরুরি—

  • রক্তে শর্করা ৩ দশমিক ৯ মিলিমোলের নিচে নেমে গেলে।

  • রক্তে শর্করা ১৬ মিলিমোলের বেশি হলে।

  • প্রচণ্ড মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে পড়া, বুকে ব্যথা শুরু হলে।

  • খিঁচুনি বা বমি বারবার হলে।

ডায়াবেটিক রোগীর সাহ্‌রি ও ইফতারের খাদ্যতালিকা

সাহ্‌রি

  • পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে খান।

  • ডাল, শাকসবজির মতো আঁশযুক্ত খাবার খান।

  • ডিম/মাছ/মাংস পরিমাণমতো খান।

  • খুব বেশি নোনতা বা মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলুন।

ইফতার

  • এক থেকে দুটি খেজুর ও পানি।

  • ফল ও ছোলা অল্প পরিমাণে।

  • ভাজাপোড়া, জিলাপি, মিষ্টি, কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।

শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম

  • ইফতারের পর হালকা হাঁটা ভালো।

  • ২০ রাকাত তারাবিহর নামাজ পড়লে অতিরিক্ত ব্যয়ামের প্রয়োজন নেই।

  • রোজার মধ্যে অতিরিক্ত কসরত ও ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন।

ডা. আহমদ মনিরুল হক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিশেষজ্ঞ, কনসালটেন্ট, এপিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চট্টগ্রাম