আগের প্রজন্মের তুলনায় জেন–জিদের একাডেমিক জ্ঞান ভালো না
আগের প্রজন্মের তুলনায় জেন–জিদের একাডেমিক জ্ঞান ভালো না

একাডেমিক জ্ঞানে আগের প্রজন্মের চেয়ে পিছিয়ে জেন-জি, বলছে গবেষণা

‘জেন–জিরা অনেক দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও তাদের একাডেমিক জ্ঞান খুব খারাপ। আর এটা নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনাও নেই।’ গবেষণা করে অবাক করা এমন তথ্যই জানালেন স্নায়ুবিজ্ঞানী ড. জ্যারেড কুনি হরভাথ। বিভিন্ন দেশের মান নির্ধারণী একাডেমিক পরীক্ষার বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

মূলত ১৯৯৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে বলা হয় জেন-জি। প্রযুক্তির ভেতর বড় হওয়া জেন-জিরা আগের যেকোনো প্রজন্মের তুলনায় বেশি প্রযুক্তিপটু (টেকস্যাভি)। প্রজন্মটি দুর্বোধ্য শব্দভান্ডারের জন্য নিন্দিত, আবার জীবনবোধ ও ফ্যাশনের জন্য নন্দিত। শব্দ ব্যবহারে বাছবিচার নেই, কথায় কথায় গালি, হুট করে চাকরি ছেড়ে সেটাকেই আবার ‘কোয়ায়েট কুইটার’ বলে মহিমান্বিত করার মতো কাজ যেমন তারা করে, আবার খুব খেপে সরকার নামিয়ে ফেলার মতো আন্দোলনেও একাধিক দেশে নেতৃত্ব দিয়েছে এই প্রজন্ম।

জেন-জিদের আগের প্রজন্মই মিলেনিয়াল। যাদেরকে ফ্যাশনে পিছিয়ে পড়া, মিনমিনে বা অপেক্ষাকৃত কম স্মার্ট বলে হাসাহাসি করে জেন–জিরা। তবে বুদ্ধির দৌড়ে জেন-জি যে খুব এগিয়ে রয়েছে, সেটা কিন্তু বলা যাচ্ছে না। শুধু প্রযুক্তিজ্ঞান আর বুলেট গতিতে মোবাইল ফোন চালানো বুদ্ধির পরিচায়ক নয়, সে তো বলাই বাহুল্য। তবে শুধু তর্কের খাতিরে নয়, জেন–জিদের একাডেমিক জ্ঞান নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য হাজির করেছেন স্নায়ুবিজ্ঞানী জ্যারেড কুনি হরভাথ।

বিশ্বব্যাপী জেন-জিরা বেশি ফোনাশক্ত

৪৩ বছর বয়সী শীর্ষস্থানীয় এই স্নায়ুবিজ্ঞানী বলেন, জেন-জি আধুনিক ইতিহাসে প্রথম, আগের প্রজন্মের তুলনায় নিয়মিত স্কুলে যারা খারাপ ফল করছে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা এটা নিয়ে অনুশোচনার বদলে গর্ববোধ করে। আধুনিক ইতিহাসে এটাই প্রথম প্রজন্ম, যারা স্ট্যান্ডার্ড একাডেমিক পরীক্ষায় আগের প্রজন্মের তুলনায় কম নম্বর পেয়েছে।’

কংগ্রেসে সম্প্রতি এসব তথ্য উপস্থাপন করেন জ্যারেড কুনি। কগনেটিভ ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করা এই বিশেষজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। আইনপ্রণেতাদের একটি প্যানেলকে কুনি জানান, মিলেনিয়াল প্রজন্মের পর আসা জেনারেশন জেড মানবজাতির দীর্ঘদিনের একাডেমিক অগ্রগতির স্বাভাবিক ধারাকে উল্টো দিকে ঠেলে দিয়েছে। মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, সাক্ষরতা, সংখ্যাজ্ঞান, কার্যক্ষমতা এবং সামগ্রিক আইকিউ—প্রায় প্রতিটি জ্ঞানীয় সূচকেই পিছিয়ে আছে জেন–জি। সবচেয়ে বাজে ব্যাপার হলো, এই তরুণদের অধিকাংশই নিজেদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী। নিজেদের তারা যত বেশি বুদ্ধিমান মনে করে, বাস্তবে তাদের বুদ্ধি তার চেয়ে কম।

১৫০ বছর ধরে (১৮ শতকের শেষ দিক থেকে) প্রায় নিয়মিতভাবে জ্ঞানীয় বিকাশের একাডেমিক মানদণ্ড পরিমাপ করা হচ্ছে। আর প্রতিটি প্রজন্মই ধারাবাহিকভাবে আগের প্রজন্মের চেয়ে ভালো ফল করেছে; কিন্তু সেই ধারা ভেঙে দিয়েছে জেন-জি। এই প্রজন্ম তাদের আগের প্রজন্মের তুলনায় বেশ খারাপ ফলাফল করেছে। জ্যারেড কুনি বলেন, ‘৮০টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্কুলে ব্যাপকভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণের পর পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।’

হরভাথ বলেন, ‘শিক্ষায় প্রযুক্তি ঢুকলেই শেখার মান কমে যায়। তাই স্কুলগুলোতে এখনই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এমন নীতিমালা নেওয়া উচিত, যাতে শিক্ষার মান বাড়বে আর জেনারেশন আলফা আবার শিক্ষায় এগিয়ে আসবে।’

হরভাথ নিজে প্রযুক্তিবিরোধী নন, মত দিয়ে জানান, জেন-জির প্রধানতম দুর্বলতা হলো, প্রথম প্রজন্ম হিসেবে তারাই বেশিক্ষণ ডিজিটাল স্ক্রিনে পড়ে থাকে। একজন কিশোর যতক্ষণ জেগে থাকে, তার অর্ধেকেরও বেশি সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। হাতে–কলমে শিক্ষার বিকল্প কখনোই ডিজিটাল স্ক্রিন নয়। কারণ, স্ক্রিনে বুলেট-পয়েন্ট আর সারাংশের জ্ঞানই বেশি থাকে। স্ক্রিন থেকে শেখার ফলে গভীরে না ঢুকে জ্ঞান হয় ভাসা ভাসা।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট