
তিন দিন ধরে দুটি হাই প্রোফাইল বিয়ে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা। দুটি বিয়ের একটি ইংল্যান্ডের, অন্যটি পাকিস্তানের। দুটি বিয়েতে ছেলের মায়ের কাণ্ডকারখানাই মূলত সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ে দুটিতে শাশুড়িদের আচরণ, সাজগোজ থেকে ব্যক্তিগত সীমানায় হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে নানা পোস্ট শেয়ার হচ্ছে।
যে দুটি বিয়ে নিয়ে এত সমালোচনা, তার একটির কেন্দ্রে আছেন ইংল্যান্ডের স্পাইস গার্লখ্যাত সংগীত তারকা ও ডিজাইনার ভিক্টোরিয়া বেকহাম, আরেকটি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ শরিফের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে।
ফ্যাশনের পাওয়ার কাপল ডেভিড বেকহাম ও ভিক্টোরিয়ার বড় ছেলে ব্রুকলিন বিয়ে করেছেন ২০২২ সালে। ২০২৫ সালে সেই বিয়ে আবার নতুন করে রিনিউ (নতুন করে শপথ নেওয়া) করেন তাঁরা।
গুঞ্জন ছিল, বড় ছেলে আর ছেলের বউয়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে ডেভিড-ভিক্টোরিয়ার। তবে সেটা নিয়ে এত দিন মুখ খোলেননি কেউই।
১৯ জানুয়ারি ব্রুকলিন বেকহাম মা-বাবার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন ইনস্টাগ্রাম পোস্টে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি আবার সরাসরি তাঁর মা ভিক্টোরিয়া বেকহামকে লক্ষ্য করেই। পরিবারের অন্যদের নিয়ে কথা উঠলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিক্টোরিয়াকে লক্ষ্য করেই নানা ধরনের ট্রল করছেন নেটিজেনরা। যেখানে বেশির ভাগই ভিক্টোরিয়ার ‘শাশুড়িসুলভ’ আচরণে বিরক্ত।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন ভিক্টোরিয়াকে নিয়ে আলোচনা। ২৬ বছর বয়সী ব্রুকলিন বেকহাম জানিয়েছেন, নিকোলা পেল্টজের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে তাঁর বিরোধের শুরু। তাঁর মা-বাবা কিছুতেই চাননি ব্রুকলিন মার্কিন অভিনেত্রী নিকোলাকে বিয়ে করুন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিয়ে আটকাতে সব রকম চেষ্টা করেছেন তাঁরা।
২০২২ সালে নিকোলা পেল্টজের বিয়ের গাউন বানানোর দায়িত্ব ছিল ডিজাইনার শ্বাশুড়ি ভিক্টোরিয়ার ওপর। কিন্তু বিয়ের মাত্র ১১ ঘণ্টা আগে নাকি ভিক্টোরিয়া সেই গাউন ডিজাইন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বাধ্য হয়ে শেষ মুহূর্তে অন্য জায়গা থেকে বিয়ের গাউন বেছে নিতে হয় নিকোলাকে।
এরপর বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রথম নাচের সময়টাও নাকি ছেলেকে হাতছাড়া করতে চাননি ভিক্টোরিয়া। সাধারণত বিয়ে অনুষ্ঠানে আয়োজিত নাচে নতুন দম্পতির নাচার কথা থাকলেও ভিক্টোরিয়া নিজেই ছেলের হাত ধরে নাচতে থাকেন।
এতে অনুষ্ঠানজুড়ে চাপা অস্বস্তিতে পড়েন অতিথিরা। ব্রুকলিনের দাবি, ওই সময় তাঁর মা ভিক্টোরিয়া বেকহাম নাচের মুহূর্তটি নিজের করে নেন। সবার সামনে তাঁর সঙ্গে এমনভাবে নাচতে শুরু করেন ভিক্টোরিয়া, যা তাঁর কাছে খুবই অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল।
‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এতে নিকোলাও হতাশ হয়ে দ্রুত জায়গা ছেড়ে চলে যান। এ ছাড়া ভিক্টোরিয়া নিজের ছেলেকেও গালমন্দ করেন তাঁর কথা না মানার জন্য। কথাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনরা বলছেন, ভিক্টোরিয়াও আর দশটা শ্বাশুড়ি থেকে আলাদা হতে পারলেন না!
এদিকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ শরিফের ছেলে জুনায়েদ সাফদার দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। এই বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে লাহোরে জানুয়ারির ১৬-১৮ পর্যন্ত। কনে শানজেহ আলী রোহাইলকে ঘিরে যেসব অনুষ্ঠান হয়েছে, সেসবে শাশুড়ি হিসেবে মরিয়ম নওয়াজের উপস্থিতি ও সাজসজ্জা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে অন্তর্জালে।
অনেকে মন্তব্য করেছেন, শাশুড়ি হিসেবে মরিয়ম নওয়াজ কনের চেয়ে বেশি নজর কাড়ার চেষ্টা করেছেন। মেহেদি অনুষ্ঠানে তিনি হলুদ-কমলা লেহেঙ্গা পরেছিলেন, আর বিয়ের মূল অনুষ্ঠানে পরেছিলেন গোলাপি বর্ডারের মিন্ট-সবুজ পোশাক।
ভারী গয়না ও সাজে তিনি টেক্কা দিয়েছেন কনেকে। কেউ কেউ তাঁর স্টাইলের প্রশংসা করেছেন, আবার অনেকে বলেছেন, ‘কনের চেয়ে শাশুড়ি বেশি মনোযোগ পেতে চাইছেন।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন লিখেছেন, ‘মরিয়ম নওয়াজের বউসাজের নেশা যেন শেষই হচ্ছে না।’
আরেকজন কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘আগের পুত্রবধূর সময়েও এমন করেছিলেন, এবারও তা-ই। আত্মমগ্নতা আর কী!’ কেউ কেউ আবার অভিযোগ তুলেছেন, ‘নিজের সাজের থিমের সঙ্গেই বিয়ের ভেন্যু সাজিয়েছেন তিনি।’
কেউ আবার নতুন বউয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতেও শুরু করেছেন। দুটি বিয়েতেই শাশুড়ির বাড়াবাড়ি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।
‘অ্যাটেনশন সিকার’ (মনোযোগকামী) বা ‘নিয়ন্ত্রণপ্রিয়’ শাশুড়ির তকমাও জুটে গেছে তাঁদের নামের পাশে। মন্তব্যের ঘরে বলা হচ্ছে, এই দুটি ছেলের বিয়ের সময় এমন কিছু করা হয়েছে, যা না করলে অনুষ্ঠান এবং কনের জন্য আরও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা যেত।