
একজন ইতিবাচক ব্যক্তি আপনার সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারেন। ব্যক্তিগত পরিসরে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ পেলে কর্মস্পৃহা বাড়ে। উল্টোটাও ঘটে। আশপাশে থাকা মানুষের নেতিবাচকতাও স্পর্শ করতে পারে আপনাকে। তাঁদের কারণে কমে যেতে পারে আপনার কর্মশক্তি। এমন পাঁচ ধরনের মানুষ সম্পর্কে জেনে রাখুন। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী শারমিন হকের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম।
কিছু ব্যক্তি কেবল নানা বিষয় নিয়ে অভিযোগই করেন। আপনি কেন তাঁর খোঁজ নিলেন না, কেন এটা করলেন, কেন ওটা করলেন না—এসব বলতে বলতে আপনাকে ‘উপহার’ দেন অপরাধবোধ। এভাবে আপনার কাজের ‘ফোকাস’ নষ্ট হতে পারে।
আবার এমন ব্যক্তিও আছেন, যাঁদের অভিযোগ সরাসরি আপনার বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু তাঁরা নানা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকেন। কেউ কেউ তো জীবনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেন। এ ধরনের নেতিবাচকতা আপনাকে প্রভাবিত করতে পারে। কাজকর্মে অনাগ্রহী হয়ে পড়তে পারেন আপনি।
কিছু ব্যক্তি আবার নিজের সাফল্য বা সুখের কথা প্রচার করতে ভালোবাসেন। সব সময়ই সবার মনোযোগের কেন্দ্রে থাকতে চান। যেকোনো কথায় নিজের সীমিত অভিজ্ঞতা থেকেই মতামত দিয়ে দেন কেউ কেউ। ধরা যাক, আপনার প্রিয়জন তীব্র পেটব্যথায় ভুগছেন। একজন প্রতিবেশী বলে বসলেন, ‘আরে, আমার পরিচিত একজনের এমন ব্যথা হয়েছিল। সে তো বাঁচে নাই।’
আবার কোনো সাধারণ আলাপচারিতার সময় হয়তো কোনো একটা নেতিবাচক কথা হচ্ছে। অমনি কেউ সেটাকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে রাগ হচ্ছেন, এমনটাও দেখা যায়। এ ধরনের ব্যক্তি, যাঁরা সবকিছুতেই নিজেদের টেনে আনেন বা নিজেদের ‘সবজান্তা’ মনে করেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে আপনি স্বস্তি পাবেন না। কথা বলার আগে আপনার মনে হবে, আপনি কী বলতে কী বলবেন, আর তিনি সেই কথাকে কোথায় যে নিয়ে যাবেন!
একজনের ব্যক্তিগত বিষয়ে যে কেউ চাইলেই কথা বলতে পারে না। তবে এই সমাজের অনেকেই তা মানে না। বিয়ে, বিচ্ছেদ, ওজন, সন্তানধারণের মতো একেবারে ব্যক্তিজীবনের বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলে অনেকেই। খোঁচা মেরে কথা বলে।
এ রকম ব্যক্তির কথার জবাব দিতে গেলে আপনার জীবনের বহু সময় নষ্ট হয়ে যাবে। যুক্তির পিঠে যুক্তি দিতে দিতে অযথাই ক্লান্ত হয়ে উঠবেন আপনি।
কেউ কেউ কেবল ব্যক্তিজীবনের সীমানাই লঙ্ঘন করেন না, বরং হয়ে উঠতে চান ‘অথরিটি’। কিন্তু মনে রাখবেন, অফিসের কর্তা আপনার জীবনের হর্তাকর্তা নন। আপনার আশপাশের অন্য কেউও নয়।
জীবনটা আপনার। জীবনে আপনার অথরিটি আপনি নিজেই। অন্য কেউ অথরিটি হয়ে উঠতে চাইলেই মুশকিল। অন্যের চাপে নিজেকে নিয়েই নিজের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন আপনি।
কেউ কেউ আবার আপনার বিষয়ে ইতিবাচক কথা বললেও প্রায়ই অন্য কারও সমালোচনা করতে থাকেন। এমন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে গেলে আপনার মনে হতে পারে, আপনার অনুপস্থিতিতে হয়তো আপনারও সমালোচনা করবেন তিনি। এটা একধরনের মানসিক চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই পাঁচ ধরনের ব্যক্তির কারও কারও কথায় আপনি প্রায়ই বিরক্ত, বিব্রত এমনকি বিপন্ন বোধ করতে পারেন। কর্মব্যস্ত দিনে তো বটেই, ছুটির দিনেও এ ধরনের ব্যক্তির সঙ্গে বেশি সময় না কাটানোই ভালো। ছুটির সময়টার ইতিবাচকতা আপনার সামনের কর্মব্যস্ত দিনের পাথেয় হতে পারে। তাই এমন ব্যক্তির জন্য নিজের মূল্যবান ছুটি নষ্ট করবেন না।