
এবারের পয়লা বৈশাখে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক মুহূর্তের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে মানুষের অনুভূতি, আস্থা ও পরিস্থিতি একসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে। লিখেছেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার
সকাল থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এবারের বৈশাখ একটু ভিন্ন। ঢাকার রাস্তায় বের হলেই মানুষের ভিড়। শাহবাগ, টিএসসি, ধানমন্ডি, উত্তরা—সব জায়গায় একই দৃশ্য। শুধু ঢাকা নয়; জেলা, উপজেলা, এমনকি পাহাড়ি এলাকায়ও মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, কনসার্ট—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই ছবি—দেশজুড়ে মানুষ ভিডিও, ছবি আর লাইভ শেয়ার করেছে।
এ দৃশ্য একটি প্রশ্ন তোলে, এটা কি শুধু একটি নিয়মিত উৎসব, নাকি এর ভেতরে কোনো গভীর সামাজিক সংকেত আছে? এ প্রশ্নের সঙ্গে আরেকটি বিতর্কও আসে—এবার কি সত্যিই অংশগ্রহণ বেশি ছিল, নাকি সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে সেটি বেশি ‘দেখা’ যাচ্ছে? কারণ, এখন প্রায় সবাই ছবি তোলে, ভিডিও করে, রিল বানায়। ফলে ছোট ঘটনাও বড় মনে হতে পারে।
কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া তো নতুন কিছু নয়। আগের বছরগুলোয়ও একই প্ল্যাটফর্ম, একই প্রযুক্তি ছিল। তখন কেন একই মাত্রার অংশগ্রহণ চোখে পড়েনি? বাস্তবতা হলো, সোশ্যাল মিডিয়া কিছু তৈরি করে না। যা ঘটে, সেটাকেই দৃশ্যমান করে। নৃতত্ত্ববিদ ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ তাঁর দ্য ইন্টারপ্রিটেশন অব কালচারস বইয়ে দেখিয়েছেন, মানুষের আচরণই তাদের বাস্তবতার ভাষা। আজ সেই প্রকাশের বড় মাধ্যম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
তাহলে প্রশ্নটা একটু অন্যভাবে ভাবতে হয়, উৎসবকে কি শুধু সংখ্যায় মাপা যাবে, নাকি এর ধরন ও বিস্তারের মাধ্যমে বোঝা যাবে? এ ধরনের আলোচনায় নির্ভুল সংখ্যা দেওয়া কঠিন, কতজন বাইরে বের হয়েছে বা অংশ নিয়েছে, তার সঠিক হিসাব আমাদের কাছে নেই। কিন্তু সমাজকে বোঝার জন্য সব সময় সংখ্যা প্রয়োজন হয় না।
সমাজবিজ্ঞানে অনেক সময় ‘প্যাটার্ন’ বা ধারা দেখা হয়—একই ধরনের অংশগ্রহণ কি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে, ভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে? এবারের বৈশাখে শহর থেকে গ্রাম, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাহাড়ি অঞ্চল—সব জায়গায় এই সমান্তরাল অংশগ্রহণ লক্ষ করা গেছে।
এই জায়গায় সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুরখেইমের একটি ধারণা প্রাসঙ্গিক। তাঁর বই দ্য এলিমেন্টারি ফর্মস অব রিলিজিয়াস লাইফ-এ ‘কালেকটিভ এফারভেসেন্স’ বা সম্মিলিত উচ্ছ্বাসের কথা বলা হয়েছে। সহজভাবে বললে, মানুষ যখন একসঙ্গে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, তখন তাদের মধ্যে একটি মিলিত আবেগ তৈরি হয়, যা ব্যক্তিকে একটি বৃহত্তর সামাজিক বন্ধনের অংশ করে তোলে। ফলে উৎসবে অংশগ্রহণ শুধু আয়োজনের ফল নয়, এটি মানুষের পারস্পরিক সংযোগ ও সামাজিক অবস্থার প্রতিফলনও হতে পারে।
এ পর্যবেক্ষণের পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা সামনে আসে। অনেকে মনে করেন, ২০২৪ সালের বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের বৈশাখই ছিল সবচেয়ে প্রাণবন্ত। কারণ, তখন সমাজে একটি তাৎক্ষণিক আবেগ ও উচ্ছ্বাস কাজ করছিল। আবার আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, আমরা হয়তো খুব দ্রুত সব ভুলে যাচ্ছি এবং বৈশাখের এই পার্থক্য বোঝার ক্ষেত্রে পূর্বের মহামারি, পবিত্র রমজান, তাপপ্রবাহ বা সময়গত অমিলের মতো বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। এই যুক্তিগুলোকে একেবারে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তবে এখানেই প্রশ্ন ওঠে, এসব ব্যাখ্যা কি পুরো চিত্র ধরতে পারছে? যদি কেবল সময়, আবহাওয়া বা ক্যালেন্ডারের পরিবর্তনই প্রধান কারণ হতো, তাহলে অনুরূপ পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণের ধরনও প্রায় একই রকম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি, কিছু সময় মানুষ অপেক্ষা করে, আবার কিছু সময় হঠাৎই বড় পরিসরে বাইরে বের হয়ে আসে। অর্থাৎ বাহ্যিক কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো এককভাবে কোনো সামাজিক আচরণের পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে পারে না।
তাহলে একই ধরনের একটি উৎসবকে আমরা কেন ভিন্নভাবে দেখি? এর একটি কারণ হতে পারে, আমাদের দেখার ও মনে রাখার ধরন। এ জায়গায় সমাজবিজ্ঞানী পল কনার্টন তাঁর বই হাউ সোসাইটিজ রিমেম্বার-এর ব্যাখ্যা প্রাসঙ্গিক—সমাজ কেবল ভুলে যায় না; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাগুলোর অর্থও বদলে যায়। অর্থাৎ ‘ভুলে যাওয়া’ ধারণাটি অনেক সময় পুরো বাস্তবতাকে বোঝায় না; বরং এটি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের একটি অংশ, যার মাধ্যমে আমরা একই ঘটনাকে ভিন্ন সময়ে ভিন্নভাবে বুঝতে শুরু করি।
এর সঙ্গে আরেকটি বিষয় যুক্ত—সামাজিক পরিবেশ। যদি কোনো সময়ে জনপরিসরে অনিশ্চয়তা বেশি থাকে বা মানুষ কিছুটা দ্বিধা ও সতর্কতার মধ্যে থাকে, তাহলে তারা তুলনামূলকভাবে কম অংশগ্রহণ করে। আবার যখন পরিবেশ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হয়, তখন মানুষ বেশি স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনসমাগমে অংশ নেয়।
এ দৃষ্টিকোণ থেকে এবারের পয়লা বৈশাখে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক মুহূর্তের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে মানুষের অনুভূতি, আস্থা ও পরিস্থিতি একসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে।
বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য ইতিহাসের দিকে তাকানো যায়। দেখা যায়, বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক সময় সমাজে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও বাড়ে। ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯) পর ফ্রান্সে নতুন ধরনের পাবলিক ফেস্টিভ্যাল, থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বিস্তার ঘটে (লিন হান্ট, পলিটিকস, কালচার অ্যান্ড ক্লাস ইন দ্য ফ্রেঞ্চ রেভোল্যুশন, ১৯৮৪)। একইভাবে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের (১৯৭৯) পরও সমাজে একটি সাংস্কৃতিক পুনর্গঠন ঘটলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের অধীন চলে যায় (হামিদ দাবাশি, থিওলজি অব ডিসকনটেন্ট, ১৯৯৩)।
বাংলাদেশেও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর ব্যান্ড মিউজিক, কনসার্ট, সিনেমা ও নাট্যচর্চায় একটি নতুন ধারা তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ বড় কোনো পরিবর্তনের পর মানুষ শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও নিজেদের প্রকাশ করতে চায় এবং সেই প্রকাশ অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি তৈরি করে।
তবে সব সময় এই প্রকাশ একই রকম হয় না। যদি পরিবর্তনের পর সমাজে অনিশ্চয়তা থাকে বা মানুষ পুরোপুরি স্বস্তি না পায়, তাহলে এই সাংস্কৃতিক বিস্তারও সীমিত থেকে যায়। জার্মান দার্শনিক ইউর্গেন হাবারমাস তাঁর বই দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার-এ দেখিয়েছেন, সমাজে একটি উন্মুক্ত ‘পাবলিক স্ফিয়ার’ না থাকলে মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে না।
এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে, বাংলাদেশে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা কি এমন কোনো নাটক, সিনেমা বা সাংস্কৃতিক কাজ তৈরি করতে পেরেছি, যা এই সময়টাকে ধরে রাখবে?
বাস্তবে এখনো তেমন বড় উদাহরণ চোখে পড়ে না। এর মানে এই নয় যে কিছুই হয়নি; বরং এটি দেখায়, সমাজ এখনো একটি চলমান অবস্থায় আছে। অংশগ্রহণ বাড়ছে; কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাকে দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখার মতো সাংস্কৃতিক রূপ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তবে এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি বিষয় স্পষ্ট, এবারের পয়লা বৈশাখে মানুষের অংশগ্রহণের বিস্তৃতি ও স্বতঃস্ফূর্ততা আগের সময়ের তুলনায় ভিন্ন এক মাত্রা নির্দেশ করে। এ বাস্তবতাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
এ বাস্তবতা আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের দিকে নিয়ে যায়, মানুষ আসলে কখন কোন আচরণ বেছে নেয়? যখন কোনো সমাজে তীব্র রাজনৈতিক উদ্বেগ থাকে, তখন কি মানুষ বেশি করে প্রতিবাদে নামে, নাকি উৎসবে অংশ নেয়? ইতিহাস ও সামাজিক পর্যবেক্ষণ বলছে, এ দুই ধরনের আচরণ সাধারণত একই সময়ে একই মাত্রায় দেখা যায় না; বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা একে অপরের বিকল্প হিসেবে কাজ করে।
এ জায়গায় অর্থনীতিবিদ অ্যালবার্ট ও. হির্শম্যানের ধারণা প্রাসঙ্গিক। তাঁর বই এক্সিট, ভয়েস অ্যান্ড লয়্যালটি-তে তিনি দেখিয়েছেন, মানুষ যখন কোনো বিষয়ে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট বা উদ্বিগ্ন থাকে, তখন তারা ‘ভয়েস’, অর্থাৎ প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া ব্যবহার করে। সহজভাবে বললে, তখন মানুষ নিজের মত প্রকাশ করে, সমালোচনা করে এবং প্রয়োজন হলে রাস্তায় নেমেও প্রতিবাদ করে। তাঁর এ ধারণা শুধু অর্থনীতির ক্ষেত্রে নয়; বরং রাজনৈতিক দল, সামাজিক আন্দোলন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
এ দৃষ্টিকোণ থেকে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন ওঠে, যদি কোনো সমাজে গণভোট বা সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও অস্থিরতা কাজ করত, তাহলে কি আমরা একই সময়ে এত বিস্তৃত সামাজিক উৎসবের চিত্র দেখতে পেতাম?
এর সরল উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, মানুষ একই সঙ্গে উদ্বিগ্নও থাকতে পারে, আবার আনন্দও করতে পারে। তবে যখন একটি নির্দিষ্ট আচরণ, যেমন দেশজুড়ে উৎসবে ব্যাপক অংশগ্রহণ, একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, তখন সেটি সামষ্টিক মানসিকতার একটি দিক নির্দেশ করে। এটি সরাসরি প্রমাণ করে না যে মানুষ রাজনৈতিক প্রশ্নে উদাসীন; বরং এটি ইঙ্গিত দেয়, সমাজের একটি বড় অংশ এ মুহূর্তে স্থিতিশীলতা, স্বাভাবিকতা ও দৈনন্দিন জীবনের দিকে ফিরে যেতে আগ্রহী।
এ ধরনের প্রবণতা শুধু তত্ত্বে নয়, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতাতেও দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে, ২০১১ সালে আরব বসন্তের পর মিসরে শুরুতে ব্যাপক রাজনৈতিক সক্রিয়তা থাকলেও পরবর্তী সময়ে অস্থিরতা ও নিরাপত্তার সংকটের কারণে সমাজের একটি বড় অংশ স্থিতিশীলতার দিকে ঝুঁকে পড়ে। (স্টিভেন এ কুক, দ্য স্ট্রাগল ফর ইজিপ্ট: ফ্রম নাসের টু তাহরির স্কয়ার, ২০১৪)।
একই ধরনের প্রবণতা তিউনিসিয়ায়ও দেখা যায়। বিপ্লবের পর গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা তৈরি হলেও অর্থনৈতিক সমস্যা ও কর্মসংস্থানের সংকট দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকায় অনেক মানুষের মনোযোগ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে জীবিকা ও দৈনন্দিন স্থিতিশীলতার দিকে সরে যায়। (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, দ্য আনফিনিশড রেভোল্যুশন, ২০১৪)
আবার পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্র পতনের পর প্রথম দিকে উচ্ছ্বাস থাকলেও পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দৈনন্দিন জীবনের চাপে মানুষের অগ্রাধিকার বদলে যেতে থাকে। (ক্যাথরিন ভারডেরি, হোয়াট ওয়াজ সোশ্যালিজম, অ্যান্ড হোয়াট কামস নেক্সট?, ১৯৯৬)
এ অভিজ্ঞতাগুলো দেখায়, বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষ সব সময় দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলনমুখী থাকে না; অনেক ক্ষেত্রে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাত্রার দিকে ফিরে যেতে চায়। তবে এর মানে এই নয় যে মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বা সংস্কারের গুরুত্ব অস্বীকার করে; বরং এটি দেখায় যে একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে মানুষ কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং কীভাবে অংশ নিচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গণভোট, সংস্কার বা যেকোনো উদ্যোগ প্রয়োজনীয় হলেও এগুলোর সাফল্য নির্ভর করে সমাজের বর্তমান মানসিকতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তার ওপর। সাম্প্রতিক বাস্তবতায় একটি বড় অংশের মানুষ নির্বাচনপ্রক্রিয়ার বাইরে থাকায় সমাজে এখনো একধরনের অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে।
এমন অবস্থায় বৈশাখের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, মানুষ এ মুহূর্তে কী অনুভব করছে। এ অনুভূতিকে উপেক্ষা করে কেবল
রাস্তায় আন্দোলনের ওপর নির্ভর করলে সেই উদ্যোগ টেকসই রাখা কঠিন হতে পারে। অর্থাৎ গণভোট ও সংস্কারের মতো উদ্যোগগুলোর স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হতে পারে, যা পুনরুদ্ধার করা অনেক কঠিন হবে।
মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত লেখকের নিজস্ব