ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা

মতামত

একটি স্থগিত ভাষণ, এক নারীর উত্থান: কোন পথে অস্ট্রেলিয়া?

যে ভাষণটি দেওয়াই হয়নি, সেটিই এ সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ঘটনা। ক্যানবেরার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল দেশের অভিবাসনব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর মহাপরিকল্পনা। শেষ মুহূর্তে ভাষণ স্থগিত করা হয়। সরকারের ব্যাখ্যা, প্রস্তাবিত নীতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব হিসাব করতে আরও সময় দরকার। ব্যাখ্যাটি যত সরল, ভেতরের গল্প তত জটিল।

গত সোমবার মন্ত্রিসভার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নীতিগুলো নিয়ে বিতর্ক হয়েছে; মন্ত্রীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ডান-বাম দুই দিকের সমালোচনার মুখে এই কড়াকড়ির যুক্তি জনগণের সামনে কীভাবে দাঁড় করানো হবে। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন লেবার সরকার নিজেই জানে না, সে ঠিক কী চায়। আর এই দ্বিধার পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন একজন নারী-পলিন হ্যানসন।

পলিন হ্যানসন অস্ট্রেলিয়ার কট্টর ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের প্রতিষ্ঠাতা।

বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য একটু পেছনের কথা বলা দরকার। পলিন হ্যানসন অস্ট্রেলিয়ার কট্টর ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের প্রতিষ্ঠাতা। ৩০ বছর আগে সংসদে প্রথম ভাষণেই এশীয় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন তাঁর দল ছিল প্রান্তিক শক্তি—গত বছরের নির্বাচনেও দলটি ভোট পেয়েছিল মাত্র সাড়ে ৬ শতাংশের মতো। অথচ এখন জনমত জরিপে দলটির সমর্থন কোনো কোনো হিসাবে ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ; বিরোধী জোট কোয়ালিশনকে পেছনে ফেলে দিয়েছে বহু আগেই।

আরও চমকপ্রদ তথ্য: অভিবাসন প্রশ্নে ভোটাররা প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ও বিরোধী নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর—দুজনের চেয়ে হ্যানসনকেই বেশি বিশ্বাস করেন। জরিপের গড় হিসাবে গত নির্বাচনের পর লেবারের প্রাথমিক ভোট সাড়ে ৩৪ শতাংশ থেকে প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে, কোয়ালিশনের কমেছে ১০ শতাংশ। এই ভোট গেছে কোথায়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

হ্যানসনের উত্থানের জ্বালানি জোগাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার আবাসনসংকট, আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া আর জীবনযাত্রার ব্যয়। মহামারির পর রেকর্ডসংখ্যক মানুষ এ দেশে এসেছেন; ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিট অভিবাসন ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। ক্ষুব্ধ ভোটারদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, দুর্মূল্য বাড়ি আর স্থবির মজুরির জন্য দায়ী এই অভিবাসনের জোয়ার। হ্যানসন সেই ক্ষোভে হাওয়া দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য এর অর্থ সোজাসাপটা: অস্ট্রেলিয়ায় স্বামী-স্ত্রীকে কাছে আনা, সন্তানকে পড়তে পাঠানো কিংবা দক্ষ কর্মী হিসেবে আসা সব পথই সামনে আরও কঠিন, আরও ব্যয়বহুল হতে চলেছে। যাঁরা অস্ট্রেলিয়াকে গন্তব্য ভাবছেন, তাঁদের এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুতি, নির্ভুল কাগজপত্র আর ধৈর্য নিয়ে নামতে হবে।

সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবের ভাষণে তিনি খোলাখুলি এক সংস্কৃতির অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন। দম্ভ করে বলছেন, তিনি নাকি বিনা ভাড়ায় টনি বার্কের মাথায় বাস করছেন; ক্ষমতায় গেলে কুকুর-হাঁটানো, নখ পরিচর্যা আর ভাড়ায় গাড়ি চালানোর কাজে আসা অভিবাসীদের ঢোকাই বন্ধ করে দেবেন। এই বাগাড়ম্বরের মূল্য দিচ্ছে সমাজ-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিবাসীবিদ্বেষ ও বর্ণবাদী মন্তব্যের স্রোত বইছে যার প্রধান শিকার ভারতীয় উপমহাদেশের অস্ট্রেলীয়রা। দক্ষিণ এশীয় চেহারা নিয়ে যাঁরা এ দেশে থাকেন, তাঁদের কারও পক্ষেই একে দূরের সমস্যা ভাবার সুযোগ নেই।

এই চাপের মুখেই সরকারের নতুন কঠোর নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য হলো নিট অভিবাসন সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা; যেখানে স্থায়ী অভিবাসনের বার্ষিক কোটা নির্ধারিত থাকছে ১ লাখ ৮৫ হাজারে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে এমন কিছু ব্যবস্থা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে: পর্যটক ভিসায় এসে দেশের ভেতরে থেকে জীবনসঙ্গী বা পারিবারিক ভিসার আবেদন করা বন্ধ করা, ভ্রমণ-কর্ম ভিসায় আসা তরুণদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া, এবং আশ্রয়প্রার্থীদের আপিলের অধিকার সংকুচিত করা।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ

কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই ঘোষণা ছাড়াই নেওয়া হয়েছে। ১ জুলাই থেকে ভিসা আবেদনের ফি এক ধাক্কায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। ২৪ জুলাই মন্ত্রী নীরবে একটি নির্দেশনা জারি করেছেন; যেখানে বলা হয়েছে, দক্ষ কর্মীদের ভিসাপ্রক্রিয়ায় দেশের অভ্যন্তরে আবেদনকারী ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাবেন, অন্যদিকে বিদেশ থেকে আবেদনকারীরা সারির শেষ প্রান্তে থাকবেন। সংসদে এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, জনসমক্ষে কোনো ব্যাখ্যা নেই; শুধু অফিসের ওয়েবসাইটে একটি নিঃশব্দ বিজ্ঞপ্তি, এটাই সব।

লেবার পার্টির দ্বিধা বোঝা কঠিন নয়। ডান দিকে ঝুঁকলে হারাতে হয় নিজের ভিত্তি—বিশ্বের বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়ের সেই ভোটারদের সমর্থন যাঁদের পলিন হ্যানসনের এক সংস্কৃতির বক্তব্য বিরক্ত করে। অথচ না ঝুঁকলে হ্যানসনের পালে আরও হাওয়া লাগে। এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর স্বীকারোক্তিতে এই পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে: সমস্যাটি হ্যানসনরা যতটা বড় করে দেখাচ্ছেন, তত বড় নয়; কিন্তু আমাদের কিছু করছি বলে দেখানোর প্রয়োজন, নিয়ন্ত্রণে আছি বলে প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।

অর্থাৎ নীতিটি মূলত প্রদর্শনের জন্য। সামনে যুক্তরাজ্যের সতর্কবার্তাও রয়েছে—অভিবাসন প্রশ্নে ব্যর্থতার কারণে সাবেক ব্রিটিশ নেতা কিয়ার স্টারমারের পতন এখনো টাটকা। আলবানিজ জানেন, এই বিষয় ঠিকমতো সামলানোর ওপরই তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের ভাগ্য এবং ইতিহাসে তাঁর নাম উভয়ই ঝুলে আছে।

অস্ট্রেলিয়ায় আমার ২৬ বছর হলো। এ দেশের রাজনীতিতে অভিবাসনভীতির ফসল ঘরে তোলার দৃশ্য আগেও দেখেছি। ২০০১ সালের ঘটনা স্মরণযোগ্য। নরওয়ের মালবাহী জাহাজ টাম্পা একটি ডুবন্ত নৌকা থেকে চার শতাধিক আশ্রয়প্রার্থীকে উদ্ধার করেছিল, যাঁদের বেশির ভাগ আফগানিস্তানের লোক।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড ওই জাহাজটিকে অস্ট্রেলিয়ার জলসীমায় ঢুকতেই দেননি; কমান্ডো পাঠিয়ে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুতে পাঠিয়ে দেন। সদ্য অস্ট্রেলিয়ায় আসা তরুণ আমি অবাক হয়ে দেখলাম, সেই কঠোরতার ঢেউ কাজে লাগিয়ে হাওয়ার্ড কয়েক মাস পরের নির্বাচনে জিতে গেলেন। এর পরও দেখেছি দক্ষ অভিবাসনের নম্বরপদ্ধতিতে একাধিকবার পরিবর্তন, ৪৫৭ কর্মভিসার বিলুপ্তি, করোনাকালে টানা দুই বছর সীমান্ত বন্ধ। প্রতিবার একটি বিষয় অভিন্ন ছিল—নীতি বদলে যায় ক্যানবেরায়, কিন্তু সাধারণ পরিবারকেই তার ফল ভোগ করতে হয়।

অভিবাসন পরামর্শকের পেশার সূত্রে সেই বোঝার আসল চেহারা আমি প্রতি সপ্তাহে দেখতে পাই। এক তরুণ প্রকৌশলী ঢাকায় বিয়ে করে ফিরে এসেছেন; তাঁর স্ত্রীর জীবনসঙ্গী ভিসার আবেদন আরও দুই বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। সংসার চলে ভিডিও কলে, প্রথম সন্তানের মুখও তিনি দেখেছেন মুঠোফোনের পর্দায়। মা-বাবার ভিসার আবেদন ঝুলে থাকে যুগের পর যুগ, ব্যবসায়ী অভিবাসনের ফাইল নড়ে না বছরের পর বছর।

পরিসংখ্যানও তাই বলে: জীবনসঙ্গী ভিসার জট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার আবেদনে পৌঁছেছে; সিনেটের শুনানিতে প্রশ্ন উঠেছে, এই দীর্ঘসূত্রতা খোদ অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন কি না। একটি ব্যবস্থা, যা এমনিতেই ভেঙে পড়েছে, সেখানে দেশের ভেতর থেকে আবেদনের পথ বন্ধ হলে একটাই ফলাফল—অস্ট্রেলীয় নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীকে বছরের পর বছর দূরদেশে বসিয়ে রাখা। তখন শাস্তি পাবেন এ দেশের নাগরিক, অভিবাসী নয়।

সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও উদ্বেগ স্পষ্ট। ল্যাকেম্বার বাসিন্দা এনাম আহমেদ বললেন, ‘পর্যটক ভিসায় এসে দেশের ভেতর থেকে জীবনসঙ্গী ভিসার আবেদনের সুযোগ বন্ধ হলে বহু পরিবার মানবিক সংকটে পড়বে। একটি অস্ট্রেলীয় পরিবারকে বছরের পর বছর আলাদা রাখা কোনো যুক্তিসংগত সমাধান হতে পারে না।’

সিডনির নারউইয়ের ব্যবসায়ী সৈয়দ আশরাফের দুশ্চিন্তা অর্থনীতি নিয়ে: ‘এ দেশে দক্ষ জনবলের চরম ঘাটতি। নিয়মকানুন অতিরিক্ত কঠোর ও জটিল হলে বিশ্বের দক্ষ পেশাজীবীরা অস্ট্রেলিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। মাশুল গুনবে শেষ পর্যন্ত এ দেশের অর্থনীতিই। ‘

আর ক্যাম্বেলটাউনের তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ইফতেখার হাসানের ভয়টা অন্য জায়গায়: ‘নীতির চেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছি পরিবেশ নিয়ে। রাজনীতিকেরা যখন প্রতিদিন অভিবাসীদের সমস্যার উৎস বলে দেখান, তখন রাস্তাঘাটে, কর্মক্ষেত্রে তার প্রতিফলন পড়তে সময় লাগে না। আমাদের সন্তানেরা এ দেশেই জন্মেছে; ওদের যেন কখনো বহিরাগত মনে করতে না হয়, সেটাই চাওয়া।’

সবচেয়ে বড় স্ববিরোধিতা অন্যখানে। মাস কয়েক আগে এই জাতীয় প্রেসক্লাবেই মন্ত্রী বার্ক নিজে যুক্তি দিয়েছিলেন, জীবনসঙ্গী ভিসাধারীদের আবাসনের ওপর চাপ নেই বললেই চলে; তাঁরা আলাদা ঘর খোঁজেন না, সঙ্গীর ঘরেই ওঠেন। অথচ কড়াকড়ির খসড়া তালিকায় সবার আগে উঠেছে সেই পারিবারিক ভিসাই।

কারণটি সহজ: পারিবারিক ভিসা কাটছাঁট করলে হাসপাতালের চিকিৎসক কমে না, নির্মাণশ্রমিক কমে না, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ে টান পড়ে না; রাজনৈতিক মূল্যটা সস্তা। সিদ্ধান্ত হচ্ছে অর্থনীতির অঙ্কে নয়, রাজনীতির অঙ্কে; সংখ্যা কমানোর তাড়ায় কোপ পড়ছে সবচেয়ে নরম জায়গায়।

সরকারের সব উদ্দেশ্য ভুল, তা বলছি না। রাজস্ব দপ্তরের সাবেক প্রধান মার্টিন পারকিনসন ২০২৩ সালে সরকারের হয়ে পুরো অভিবাসনব্যবস্থা পর্যালোচনা করে দেখিয়েছিলেন, কারও সচেতন সিদ্ধান্ত ছাড়াই ব্যবস্থাটি ধীরে ধীরে এক ছদ্ম-অতিথি কর্মীব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যেখানে নিয়োগদাতারা সস্তা, কম দক্ষ শ্রমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন আর লাখ লাখ মানুষ বছরের পর বছর ঝুলে আছেন স্থায়ী-অস্থায়ীর মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত অবস্থায়।

পারকিনসনের সাফ কথা, ভোটে তুললে অস্ট্রেলীয়রা এমন ব্যবস্থা কখনো অনুমোদন করতেন না। কাজেই এক ভিসা থেকে আরেক ভিসায় লাফিয়ে অনির্দিষ্টকাল থেকে যাওয়ার প্রবণতা কিংবা ভিত্তিহীন আশ্রয় আবেদনের স্তূপ এসব ফাঁক বন্ধ করা জরুরি এবং তা করা উচিত ছিল অনেক আগেই।

কিন্তু প্রশাসনিক ফাঁক বন্ধ করা এক জিনিস আর সমাজে বিভাজনের বিষ ছড়ানো আরেক জিনিস। প্রকৃত সমস্যা নিয়মের অভাব নয়, প্রয়োগের ব্যর্থতা। জমে থাকা আবেদনের পাহাড় আর সিদ্ধান্তহীনতা। সেই পাহাড় না সরিয়ে নতুন দেয়াল তুললে জট কমবে না, কেবল দুর্ভোগের ঠিকানা বদলাবে।

বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য এর অর্থ সোজাসাপটা: অস্ট্রেলিয়ায় স্বামী-স্ত্রীকে কাছে আনা, সন্তানকে পড়তে পাঠানো কিংবা দক্ষ কর্মী হিসেবে আসা সব পথই সামনে আরও কঠিন, আরও ব্যয়বহুল হতে চলেছে। যাঁরা অস্ট্রেলিয়াকে গন্তব্য ভাবছেন, তাঁদের এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুতি, নির্ভুল কাগজপত্র আর ধৈর্য নিয়ে নামতে হবে।

শেষ কথাটি অস্ট্রেলিয়ার জন্যই। ২৬ বছরে দেখেছি, অভিবাসীদের শ্রম আর স্বপ্নের ওপর ভর করেই এই দেশ আজকের অস্ট্রেলিয়া। ভয়ের রাজনীতিকে নীতি দিয়ে জবাব দেওয়া যায়, নকল করে নয়। পলিন হ্যানসনের প্রশ্নের উত্তর যদি হয় হ্যানসনেরই সুর, তবে ভোটার আসলটাকেই বেছে নেবেন, এই সহজ সত্য লেবার যত দ্রুত বুঝবে, ততই মঙ্গল। ভারসাম্য হারালে ক্ষতিটা শুধু অভিবাসীর হবে না, হবে পুরো অস্ট্রেলিয়ারও।

  • কাউসার খান, প্রথম আলোর সিডনি প্রতিনিধি ও অভিবাসন আইনজীবী

  • kawsar.khan.au@gmail.com