প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছেন। তিনি ভারতের ওপর চড়া শুল্ক চাপিয়েছেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন এবং ভারতের সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক হুমকি চীনের সঙ্গে বেশ উৎসাহের সঙ্গেই যুক্ত হয়েছেন।
তবু এই টানাপোড়েন এমন কোনো বড় ফাটল তৈরি করতে পারেনি, যা অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন। কিংবা এর ফলে ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতেও কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। বরং নয়াদিল্লি একটি ‘আমেরিকা প্লাস’ কৌশল গ্রহণ করেছে।
এই কৌশলের মূল কথা হলো—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি অন্যান্য শক্তি, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিধি বাড়ানো।
ট্রাম্পের একের পর এক উসকানিতেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংযম দেখিয়েছেন। ওয়াশিংটন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার যে দাবি উঠেছে, তাতে তিনি সায় দেননি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে গেছে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে এবং প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করেছে।
এর পাশাপাশি তিনি ‘কোয়াড’ (অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট) সচল রেখেছেন, মার্কিন মিত্রদের কাছাকাছি এসেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রেখেছেন এবং চীনের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছেন।
দিন শেষে বড় কোনো শক্তির সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সামনে খুব বেশি ভালো বিকল্প নেই। যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণে ভারতীয় পণ্য ও সেবা কেনে, চীন বা রাশিয়া কখনোই তা কিনবে না। আবার চীনের বিপরীতে ভারসাম্য বজায় রাখতে রাশিয়া ভারতকে সহায়তা করতে পারবে না। এই বাস্তবিক হিসাবই এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে টিকিয়ে রেখেছে।
২০২৪ সালজুড়ে মোদি এবং তাঁর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন নিয়ে বেশ উৎফুল্ল ছিল। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বেশ চমৎকার।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেও মনে হয়েছিল, দুই নেতার সেই বন্ধুত্ব বজায় থাকবে। ট্রাম্পকে তুষ্ট রাখতে মোদি অনেক পদক্ষেপও নেন, কিন্তু সেই সম্পর্কের উষ্ণতা দ্রুতই বাষ্প হয়ে যায়।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার একটি স্বল্পস্থায়ী সামরিক সংঘাত বন্ধের কৃতিত্ব দাবি করে বসেন ট্রাম্প। পাকিস্তানিরা তাঁর এই মধ্যস্থতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও ভারত পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, ট্রাম্পের এতে কোনো ভূমিকা ছিল না।
এর পরপরই ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান সৈয়দ অসিম মুনিরের ওপর আলাদা নজর দেন। ইরান আলোচনায় পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী বানিয়ে এবং পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তিকে আশীর্বাদ জানিয়ে হোয়াইট হাউসের কূটনীতিতে পাকিস্তানকে ওপরের সারিতে তুলে আনেন।
অনেকেই আবার দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই নির্ভরযোগ্য বন্ধু হতে পারে না। রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলতে শুরু করে, চীনের ও রাশিয়ার কাছাকাছি যাওয়াই হবে ভারতের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।
ট্রাম্প ভারতের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের দিকেও বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেন। প্রথম মেয়াদে তিনি এশিয়ায় চীনের আধিপত্য ঠেকাতে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানকে নিয়ে এক ভারসাম্যপূর্ণ বলয় তৈরির চেষ্টা করেছিলেন।
কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গেই দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন। এমনকি চীন ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত বৈঠক করে বৈশ্বিক বিষয়াদি সুরাহা করা নিয়েও খোলামেলা কথা বলছেন।
সম্পর্কের বরফ আরও জমাট বাঁধে বাণিজ্য উত্তেজনায়। ভারতের সংরক্ষণবাদী নীতি এবং রাশিয়ান তেল কেনার অজুহাতে ট্রাম্প যখন চড়া শুল্ক আরোপ করেন, তখন বহু ভারতীয় অনুভব করেন যে তাঁদের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হচ্ছে।
অথচ ওয়াশিংটন নিজের এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য রুশ তেল কেনার ছাড় দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষের দিকে এসে মার্কিন অংশীদারদের মধ্যে ভারতেই সবচেয়ে বেশি শুল্কের মুখোমুখি হতে হয়।
এসব কারণেই ২০২৫ সালে ভারতে মার্কিনবিরোধিতা আবার চড়াও হতে শুরু করে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মোদির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণের অভিযোগ তোলেন।
অনেকেই আবার দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই নির্ভরযোগ্য বন্ধু হতে পারে না। রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলতে শুরু করে, চীনের ও রাশিয়ার কাছাকাছি যাওয়াই হবে ভারতের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।
মোদি অবশ্য এসব দাবি কানে তোলেননি, ট্রাম্পের সঙ্গেও কোনো মুখোমুখি সংঘাত এড়িয়ে গেছেন। গত বছর ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করবে।
ট্রাম্পের অনাগ্রহে যখন কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন বাতিল হয়ে যায়, তখন নয়াদিল্লি উদ্যোগী হয়ে কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজন করে এই প্ল্যাটফর্মকে বাঁচিয়ে রাখে। যুক্তরাষ্ট্রও সম্পর্ক মেরামতে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে; যেমন গত আগস্টে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলকে ‘ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
মোদির এই ধৈর্যের অন্যতম কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আজকের এই সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভারতের বহু বছর সময় লেগেছে। স্বাধীনতার পর বেশ কয়েক দশক ধরে ভারতের রাজনৈতিক শ্রেণি, প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং আমলাতন্ত্রের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে গভীর সন্দেহ ছিল।
স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সামরিক জোট, চীনের সঙ্গে তাদের সখ্য এবং রাশিয়ার প্রতি ভারতের ঐতিহাসিকভাবে ঝুঁকে থাকা এই অবিশ্বাসকে ত্বরান্বিত করেছিল।
স্নায়ুযুদ্ধের অবসান যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক জোড়া লাগানোর সুযোগ তৈরি করে, তবে তার গতি ছিল অত্যন্ত মন্থর। ২০০৫ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিটি ছিল এক বিরাট সাফল্য।
২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে উঠেপড়ে লাগেন। বারাক ওবামা, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জো বাইডেন—তিনজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই তিনি ভালো সম্পর্ক বজায় রাখেন। মোদি তাঁর আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনীকে মার্কিনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাধ্য করেন।
ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরেন, তত দিনে মার্কিন ব্যবসা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রবাসী ভারতীয়দের শক্ত ভিত্তির ওপর ভর দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটাই মজবুত হয়ে গেছে। ২০১৬ সালে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে মোদি ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বে ভারতের যে ঐতিহাসিক দ্বিধা ছিল, তা কেটে গেছে। ভারতের অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সামরিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিগত উন্নতি এখন বহুলাংশে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।
অবশ্য মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে অন্যান্য মহাশক্তির সঙ্গেও সম্পর্ক ধরে রেখেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালে রাশিয়া ভারতের শীর্ষ তেল সরবরাহকারীতে পরিণত হয়। অস্ত্র আমদানিতে রাশিয়ার অংশ কমলেও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর জন্য তারা এখনো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সরবরাহকারী।
চীনের প্রতিও মোদির কূটনীতি প্রসারিত হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর মোদি আশা করেছিলেন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক সুসংহত হবে, কিন্তু ২০১৪, ২০১৭ এবং ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাত সেই আশায় জল ঢেলে দেয়।
বর্তমানে সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে, সীমান্ত সমস্যার সমাধান খুঁজতে এবং মার্কিন-চীন সম্পর্ক যদি ভালো হয়ে যায়, তবে সেই ঝুঁকি এড়াতে নয়াদিল্লি বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে মরিয়া।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, বেইজিং ও মস্কোর প্রতি ভারতের এই পদক্ষেপগুলো ‘বহুপক্ষীয় ভারসাম্য’-এর কৌশল। তবে এই সংজ্ঞা পুরোপুরি ঠিক নয়। ভারতের বর্তমান কৌশলকে বলা ভালো ‘আমেরিকা প্লাস’। ভারত এমন একটি দেশ, যা বরাবরই কৌশলগত দূরত্ব রেখে চলে, তবে এবার সে তার ঝুড়ির বড় অংশটি যুক্তরাষ্ট্রের ঘরেই রেখেছে।
ভারত ভালোভাবে বোঝে, চীন বা রাশিয়া কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার হলো ভারতের পণ্য ও সেবার সবচেয়ে বড় গন্তব্য। অন্যদিকে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বিশাল হলেও তা চরম একমুখী। চীন ভারতকে শিল্পপণ্য দিতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশাল বাজার বা উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারবে না। রাশিয়ার অবস্থাও তদ্রূপ।
ভারতের বাণিজ্য কূটনীতিও এই ‘আমেরিকা প্লাস’ কৌশলেরই প্রতিফলন। ২০১৯ সালে চীনের আধিপত্য থাকা বাণিজ্য জোট আরসিইপি থেকে বেরিয়ে আসার পর ভারত নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র এক ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে উপনীত হয়, তবে ট্রাম্প এখনো এতে চূড়ান্ত সই করেননি; বরং নতুন করে শুল্ক বসানোর পথ খুঁজছেন।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ভারত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর নির্ভরশীল। ২০২০ সালের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সীমান্ত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও চীনই ভারতের সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি হুমকি। হিমালয় সীমান্তে চীনের সামরিক শক্তি ভারতের চেয়ে চার গুণ বেশি।
এত দিন মোদির ঘরোয়া রাজনৈতিক প্রভাব তাঁকে যেকোনো সমালোচনা থেকে রক্ষা করেছে। কিন্তু সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসকেন্দ্রিক ছাত্র আন্দোলন মোদির সেই একক শক্তির ভাবমূর্তিতে আঘাত হেনেছে।
ভারত মহাসাগরে চীনা নৌবাহিনীর উপস্থিতিও বাড়ছে এবং তারা পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর করছে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য, উন্নত সামরিক প্রযুক্তি এবং যৌথ সামরিক মহড়ার সুযোগ দিচ্ছে।
এশীয় জলসীমায় চীনা আধিপত্য ঠেকাতে কোয়াড অত্যন্ত কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম। অন্যদিকে চীন বা রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত এই সুবিধা পাবে না।
ভারত এটাও বোঝে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বৈশ্বিক শক্তির যে লড়াই, তা সহজে থামবে না। ট্রাম্প যদি চীনের প্রতি তাঁর মনোভাব কিছুটা নরমও করেন, তবু যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সহযোগিতার মূল কৌশলগত ভিত্তিটি টিকে থাকবে।
মোদি এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের তৈরি করা ধকল সামলে নিয়েছেন। কিন্তু তাঁর সহনশীলতারও সীমা আছে। ভারতীয় রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব দেওয়ার একটি দাবি জোরালো হচ্ছে। বড় বিপদ আসতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি আইন থেকে, যেখানে রুশ তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ট্রাম্প যদি এই আইন পাস করেন ও ভারতকে ছাড় না দেন, তবে তা ভারতের অর্থনীতিকে চূর্ণ করে দেবে এবং জনগণের মনে মার্কিনবিরোধিতা নতুন করে উসকে দেবে।
এত দিন মোদির ঘরোয়া রাজনৈতিক প্রভাব তাঁকে যেকোনো সমালোচনা থেকে রক্ষা করেছে। কিন্তু সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসকেন্দ্রিক ছাত্র আন্দোলন মোদির সেই একক শক্তির ভাবমূর্তিতে আঘাত হেনেছে।
দেশে তাঁর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘নতি স্বীকার’ করার অভিযোগে মোদি ডান ও বাম—দুদিক থেকেই আক্রমণের শিকার হবেন। তখন ট্রাম্পের বিরোধিতা করাই তাঁর জন্য রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠতে পারে।
এমন মার্কিনবিরোধী মনোভাব হয়তো রাতারাতি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সব সম্পর্ক ভেঙে ফেলবে না। তবে এটি সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার গতি কমিয়ে দেবে।
ভারত অবশ্য এখনো সেই চরম অবস্থায় পৌঁছায়নি। মোদির নীতির যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁরা এখনো বলতে পারেননি যে চীনের বিশাল শক্তির মোকাবিলা ভারত কীভাবে করবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ভারতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নতির পথ ভীষণ কঠিন।
ওয়াশিংটনের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং ট্রাম্পকে সামলে চলাই আপাতত ভারতের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
সি রাজা মোহন জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক।
ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।