
মুসলমান দলের কারণেই বিজেপির পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি করা এবং নির্বাচনে জেতা হয়তো ক্রমে আরও সহজ হয়ে যাচ্ছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে ধীরে ধীরে একাধিক মুসলমানপ্রধান দল তৈরি হচ্ছে, যারা সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করে দিচ্ছে। লিখেছেন শুভজিৎ বাগচী
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরে রাজ্যজুড়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে বহুস্তরীয় পদক্ষেপ এবং লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণের ঘটনা ঘটছে।
পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়, বিশেষ করে যেসব পত্রিকায় মুসলমান সমাজের খবর বেশি প্রকাশিত হয় (যেমন কলকাতার ‘পুবের কলম’, দিল্লি থেকে প্রকাশিত ডিজিটাল ‘মক্তব মিডিয়া’, হায়দরাবাদের ‘সিয়াশত ডেইলি’, ‘ক্লারিওন ইন্ডিয়া’, ‘মিল্লি গেজেট’, একাধিক উর্দু ভাষার কাগজ থেকে ‘দ্য স্ক্রোল’ বা ‘দ্য ওয়্যার’), যেকোনো দিন চোখ রাখলে অন্তত ৫-৭টি খবর পাওয়া যাবে ভারতে মুসলমান সমাজের বিপদ নিয়ে।
এসব প্রতিবেদনের আবার একটা বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান সমাজকে নিয়ে। প্রায় নিয়মিতই এই কাগজগুলো জানাচ্ছে, কীভাবে হজে যাওয়ার পথে বৃদ্ধদের আক্রমণ করা হচ্ছে, লোকাল ট্রেনে অকারণে মারধর করা হচ্ছে, চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কোনো কারণ ছাড়াই রাস্তাঘাটে হেনস্তা করা হচ্ছে, দোকান বন্ধ করে বা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, মসজিদ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, প্রার্থনায় বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে বা এমনকি মুসলমানদের চা দেওয়ার জন্য হিন্দু দোকানিকে বিপদে পড়তে হচ্ছে।
এই তালিকা এতই দীর্ঘ যে এখন এ নিয়ে বই বেরোচ্ছে, শুধু সংবাদপত্রে লিখে আর হিসাব রাখা যাচ্ছে না।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে একাধিক জেলায় সহিংসতা শুরু হয়। নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব সিভিল রাইটস’ (এপিসিআর) জানিয়েছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গে অন্তত আটটি জেলায় কমপক্ষে ৩৪টি আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কোচবিহার ও উত্তর চব্বিশ পরগনায় সর্বাধিক সাতটি এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও কলকাতা মেট্রো অঞ্চলে পাঁচটি।
এ ছাড়া হাওড়া ও মুর্শিদাবাদ জেলাতেও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। এই পর্বের সহিংসতায় অন্তত দুজন মানুষের প্রাণহানি ঘটে। কোচবিহারের গোসাইনিমারিতে একটি মসজিদকে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে এক মুসলিম ব্যক্তি নিহত হন।
এপিসিআরের তথ্য বলছে, এই সময়ে অন্তত ৫৪টি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৫০ জনের বেশি মুসলিম নাগরিক শারীরিক বা অন্যান্য আক্রমণের শিকার হন। শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপরেই হামলা হয়নি, ধর্মীয় স্থান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গবাদিপশুর হাট, মাংসের দোকানেও আক্রমণ হয়েছে।
সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও বলা যায় যে অনেক ক্ষেত্রে আক্রমণ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের ওপর, যাঁরা মুসলমান, তবে শুধুই যে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক বলে আক্রমণ হয়েছে, এমনটাও নয়।
আক্রমণের নানা ধরন লক্ষ করা গেছে। এপিসিআরের প্রতিবেদনে মুসলমানদের মোট ১৯টি সম্পত্তির ওপর হামলা, ১৪টি ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা, চারটি উচ্ছেদ অভিযান এবং তিনটি বুলডোজার ব্যবহারের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, তা–ও একেবারে গোড়ার দিকে। কোচবিহারে তিনটি মসজিদে হামলার পাশাপাশি গোসাইনিমারিতে মিছিল চলাকালীন মসজিদ ভাঙচুর করা হয়।
উত্তর চব্বিশ পরগনার নন্দিনা ও অবুত্রা গ্রামে ১৫টি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙচুর হয়। হাওড়ায় এক ইমাম লাঞ্ছিত হন। এ ছাড়া হাওড়ার ডোমজুড়ের আজাদ হিন্দ কলেজে হিজাব পরা মুসলিম ছাত্রীদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনার কথাও জানা গেছে।
উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাতে মুসলিম মালিকানাধীন দুটি হোটেল ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি সিরাজউদ্দৌলা উদ্যানের নাম বদলে শিবাজী উদ্যান এবং এন পারা মসজিদ বাড়ি রোডের নাম পরিবর্তন করে নেতাজি পল্লি রোড রাখার খবর পাওয়া গেছে।
দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবিকার ওপর সরাসরি অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গবাদিপশু জবাইয়ের ওপরে নানা ধরনের নিয়মকানুন (যা অতীতেই পাস করা হয়েছিল) বাস্তবায়নের ফলে প্রচুর মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
পাশাপাশি, প্রকাশ্যে পশু জবাই বন্ধ করে কেবল নির্দিষ্ট পুর বা স্থানীয় কসাইখানায় কাজ সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। এর ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে শুধু মাংসের বাজার নয়, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও কলকাতা মেট্রো এলাকায় গবাদিপশুর হাট জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাতসহ বিভিন্ন স্থানে হকার ও ছোট দোকানদারদের ওপরে আক্রমণ হয়।
সংখ্যালঘু সমাজের আরও একটি বড় বিপদ হলো তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো। তাঁদের অনেকেই ভারতের নাগরিক, বাংলাদেশের নন। ভারতের আদালতই সে কথা জানিয়ে সম্প্রতি বলেছেন তাঁদের ফেরত আনতে হবে। যাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাচ্ছেন না বলে আদালত জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে একটি খবর ভারত তো বটেই, আন্তর্জাতিক মাধ্যমেও আলোড়ন ফেলে। উত্তর কলকাতার কাশীপুরের একটি মুসলিম অধ্যুষিত খেটে খাওয়া দিনমজুরদের কলোনিতে জল বন্ধ করে দেওয়া হয়।এলা
কার এমএলএ রীতেশ তিওয়ারি আগে জানিয়েছিলেন, যাঁরা তাঁকে ভোট দেননি তাঁদের উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে। এ নিয়ে বহু আবেদন-নিবেদন করেও পানির সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারেনি কাশীপুরের জ্যোতি কলোনির মানুষ।
এ ছাড়া রাজ্য সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এক সমীক্ষার পর ২৫২টি অনুমোদন এবং অনুদানহীন মাদ্রাসা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয় এবং আরও ১০০টি সংস্থাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়।
রাজ্যের ২২টি জেলা ও কলকাতায় পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা যায়, ২ হাজার ১৩২টি মাদ্রাসা সরকারি অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হলেও ২ হাজার ৩৯৬টি প্রতিষ্ঠান কোনো সরকারি বোর্ড বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও অনুদান ছাড়াই চলছিল।
ইতিমধ্যে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক নির্দেশিকায় ৪৭ জন মুসলিম পুলিশ কর্মীর দাড়ি রাখার আবেদন নামঞ্জুর করা হয় এবং শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পোশাকের সমতা রক্ষার কারণ দেখিয়ে তাঁদের দাড়ি কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে এক নিয়মে বলা হয়েছিল যে মুসলমান পুলিশকর্মীরা দাড়ি রাখতে পারবে না তবে শিখরা পারবে। অতীতে পশ্চিমবঙ্গে এই নিয়ম বাস্তবায়িত হয়নি, গত চার মাসে হয়েছে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক সভা থেকে মুসলিম কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন লোকসভার তৃণমূল সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র। জাতিসংঘের মাইনরিটি ইস্যুজ সংক্রান্ত বিশেষ অধিকার রক্ষা দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজ্য সফরকালে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজা, স্পেশাল টাস্কফোর্সের মহানির্দেশক জাভেদ শামীম এবং জ্যেষ্ঠ আইএএস কর্মকর্তা খলিল আহমেদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারি অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে কয়েক দশক ধরেই মুসলমানদের অবস্থা খারাপ। ২০০৬ সালে প্রকাশিত বিচারপতি রাজেন্দ্র সাচার কমিটির রিপোর্টও সে কথা বলেছিল। সে সময় ক্ষমতায় ছিল সিপিআইএম-নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট।
মুসলমানদের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকলেও, রাজ্যে শারীরিক নিরাপত্তাহীনতায় তাঁরা এত দিন বিশেষ ভোগেননি, যা এখন ভুগছেন বলে কলকাতার মুসলমান সমাজের শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত অংশের একাংশ জানিয়েছেন।
সংখ্যালঘু সমাজের আরও একটি বড় বিপদ হলো তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো। তাঁদের অনেকেই ভারতের নাগরিক, বাংলাদেশের নন। ভারতের আদালতই সে কথা জানিয়ে সম্প্রতি বলেছেন তাঁদের ফেরত আনতে হবে। যাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাচ্ছেন না বলে আদালত জানিয়েছেন।
সম্প্রতি শাহিন ফকির নামে এক যুবকের দায়ের করা হেবিয়াস করপাস আবেদনের শুনানি প্রসঙ্গে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে যে তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে, তাতে বলা হয় উত্তর চব্বিশ পরগনার স্থায়ী বাসিন্দা এবং প্রায় দুই দশক ধরে মুম্বাইয়ে গৃহকর্মীর কাজ করা এক ভারতীয় নারীকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনা আসামেও ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংস্থা ‘মাসুম’ একাধিক এ ধরনের ঘটনা সামনে এনেছে এবং নিয়মিত আনছে। কয়েকটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ফেরত পাঠানো ভারতীয়দের বাংলাদেশ থেকে ফেরত আনতে বলেছেন।
ভারতের ডিজিটাল পত্রিকা ‘দ্য স্ক্রোল’ সম্প্রতি এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে বলেছে, এই ঘটনা যে শুধু বিজেপি আসার পরে শুরু হয়েছে তা নয়, অন্তত এক বছর আগেই মুসলমানদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে পাঠানোর একটা রেওয়াজ পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছিল।
‘দ্য স্ক্রোল’–এর তদন্তে জানা গেছে, জুন মাস থেকে অন্তত ৯ জন মুসলিম পুরুষ এবং দুটি শিশুকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বন্দিশিবিরে (ডিটেনশন সেন্টার) পাঠিয়েছে।
তারা লিখেছে, ‘গত বছরের মে মাস থেকে, বিজেপিশাসিত রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া বেশ কয়েকজন মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিককে পুলিশ আটক করে। বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) সাহায্যে তাঁদের জোরপূর্বক দেশের সীমানার বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়। দু–একটি ক্ষেত্রে, সুপ্রিম কোর্টের আদেশে তাঁদের আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই প্রথম বাঙালি মুসলিমরা তাঁদের নিজ রাজ্যেই একই ধরনের নজরদারি ও হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন।’
এই ঘটনা যে ঘটতে চলেছে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ মুসলিম, সেখানে বিধানসভায় ২৯৪ আসনের একটিতেও মুসলমান প্রার্থী দেয়নি বিজেপি। ঠিক এই একই কাজ তারা জাতীয় স্তরেও দীর্ঘদিন ধরেই করছে। ভারতের লোকসভায় তারা ৫৪৩ আসনের একটিতেও মুসলমান প্রার্থী দেয়নি।
অর্থাৎ বিজেপি এটা পরিষ্কার করে দিয়েছে, মুসলমান ভোট তারা চায় না বা শুধু হিন্দুদের ভোটেই তারা ক্ষমতায় আসতে চায়। জাতীয় স্তরে এবং পশ্চিমবঙ্গে এভাবেই তারা ক্ষমতায় এসেছে।
তারপরেও মুসলমান দলের কারণেই বিজেপির পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি করা এবং নির্বাচনে জেতা হয়তো ক্রমে আরও সহজ হয়ে যাচ্ছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে ধীরে ধীরে একাধিক মুসলমানপ্রধান দল তৈরি হচ্ছে, যারা সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করে দিচ্ছে। এর ফলে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দল যেমন তৃণমূল কংগ্রেস বা সিপিএমের মুসলমান ভোট ভাগ হয়ে যাচ্ছে, যা বিজেপির জয়ের রাস্তা প্রশস্ত করছে।
এবারের নির্বাচনে মুসলমানপ্রধান দল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) ভোট সামান্য বেড়ে দেড় শতাংশ হয়েছে এবং মুর্শিদাবাদের আরও একটি মুসলমানপ্রধান দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টি কিছু ভোট টেনে নেওয়ায় বিপদে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আইএসএফের ভোট সামান্য বেড়ে মাত্র দেড় শতাংশ হলেও এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে তারা ২৯৪ আসনের মধ্যে মাত্র ২৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। এর মধ্যে ১৫ আসনে আইএসএফের ভোট জয়-পরাজয়ের ব্যবধানের থেকে বেশি।
পাঁচ বছর পরে ২৯৪ আসনে আইএসএফ প্রার্থী দিয়ে দিলে, বিজেপি–বিরোধীরা বড় বিপদে পড়বেন—যেমন সিপিআইএম ত্রিপুরায় পড়েছে সংখ্যালঘু উপজাতি সমাজের দল টিপ্রা মোথা অধিকাংশ আসনে প্রার্থী দিয়ে উপজাতীয় ভোট কেটে নেওয়ায়।
এই ভোট এত দিন পেত সিপিআইএম। আবার আসামে বিপদে পড়েছে কংগ্রেস, আতর ব্যবসায়ী বদরুদ্দিন আজমলের ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বাঙালি মুসলমানের ভোট টানার কারণে। এটা বিজেপির জন্য আদর্শ অবস্থা।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ অংশে যখন আইএসএফ বিজেপি–বিরোধী মুসলমান ভোট ভেঙে দিচ্ছে, তখন উত্তরবঙ্গে ভাঙতে শুরু করেছে হুমায়ুন কবিরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। হুমায়ুন কবির এমন সব স্লোগান দিচ্ছেন, যাতে সুবিধা হচ্ছে বিজেপির। যেমন তিনি পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ বানাতে চান, তা নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
এর ফলে হিন্দুরা শঙ্কিত বোধ করছেন এবং হিন্দু ভোট এক হয়ে চলে যাচ্ছে বিজেপিতে। অর্থাৎ ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দলগুলোর বাইরে মুসলমানপ্রধান দল তৈরি হওয়ায় হিন্দু ভোট এক জায়গায় আসছে। নিঃসন্দেহে আগামী দিনে এই রাজনীতি আরও বাড়বে।
শুভজিৎ বাগচী প্রথম আলোর কলকাতা সংবাদদাতা
মতামত লেখকের নিজস্ব