জেন–জি ভোটার মনীষা অর্থি। গোপালগঞ্জ সদরের বীণাপাণি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ফটকে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে
জেন–জি ভোটার মনীষা অর্থি। গোপালগঞ্জ সদরের বীণাপাণি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ফটকে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে

প্রথম দুই ঘণ্টা

গোপালগঞ্জে ভোট শান্তিপূর্ণ, তবে ভোটার উপস্থিতি কম

গোপালগঞ্জে সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকালে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ কেন্দ্রে আসছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জ সদরের দুটি, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার চারটিসহ মোট ছয়টি ভোটকেন্দ্র ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

এখানকার বেশ কয়েকজন ভোটার প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তাঁদের মনে ছিল। কেননা, গতকাল বুধবার রাতেও অন্তত ৯টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে জেলা সদর ও টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন এলাকায়। তবে আজ পরিবেশ ভালো মনে হচ্ছে।

সদরের বীণাপাণি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টায় গিয়ে দেখা যায় কোনো ভোটার নেই। প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা বসে আছেন।

তবে সকাল ৮টার দিকে ভোটার আসতে শুরু করেন। এই কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বের হন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনীষা অর্থি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা জেন–জি, যারা স্বৈরাচারের বিদায় ঘটিয়ে আশার আলো তৈরি করেছে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই আশা পূরণ হবে বলে প্রত্যাশা রাখি। জীবনে প্রথম ভোট দিলাম। পরিবেশ নিরাপদ মনে হয়েছে।’

একই কেন্দ্রে কথা হয় খাদিজা পারভীনের সঙ্গে। তিনি জানান, চাকরির কারণে আগে কখনো ভোট দিতে পারেননি। এবার এলাকায় থাকায় প্রথম ভোট দিলেন। ভোটে উৎসবের পরিবেশ দেখে বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।

টুঙ্গিপাড়ায় এসে দেখা যায়, গিমাডাঙ্গা মুন্সিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে নারীরা ভোট দিয়ে বের হচ্ছেন।

এখানে কথা হয় দীপালী রানী সাহার সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও সবাই মিলে ভোট দিতে এসেছেন।

এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৯৩৬ জন। সকাল ৯টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টায় ভোট পড়ে ১৩০টি।

টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্র। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে

এখানকার প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোট বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া (জিটি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাঠে কোনো ভোটার নেই।

এ স্কুলে পড়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কে এম শাহনেওয়াজ বলেন, এখানে মোট ভোটার ২ হাজার ৫৪০ জন। প্রথম দুই ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ১১৪টি। অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সকালে ভোটার উপস্থিতি কম। তবে বেলা বাড়লে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন।

টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া বলেন, এখানে মোট ভোটার ২ হাজার ৮০০। সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯৫টি।