ব্যক্তিত্ব

ইমাম আওজায়ি: ক্ষমতার সামনে আপসহীন কণ্ঠস্বর

দরবারে তখন এক থমথমে, শ্বাসরুদ্ধকর নীরবতা। মসনদে উপবিষ্ট রক্তের নেশায় উন্মত্ত ক্ষমতাধর আব্বাসীয় সেনাপতি আবদুল্লাহ ইবনে আলী। হাতে তাঁর উদ্যত বাঁশের লাঠি, চারপাশে খোলা তলোয়ার হাতে দাঁড়িয়ে আছে জল্লাদ ও সশস্ত্র প্রহরীরা।

এমন এক ভীতিকর পরিবেশে সামান্য একটি অসতর্ক শব্দ বা ভুল ইঙ্গিত মুহূর্তের মধ্যে ডেকে আনতে পারে অবধারিত মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু সেই রক্তচক্ষুর সামনে যাঁকে হাজির করা হয়েছে, তিনি কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন; তিনি এমন এক নির্ভীক ফকিহ ও মুহাদ্দিস, যাঁর কাছে সত্য কোনো রাজনৈতিক সুবিধাবাদের নাম নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া এক পবিত্র আমানত।

সেনাপতি গর্জে উঠে প্রশ্ন করলেন, ‘উমাইয়া শাসকদের উৎখাত করে আমরা যে ক্ষমতা দখল ও রক্তপাত করেছি, সে সম্পর্কে আপনার মত কী?’

তিনি একবিন্দু কাঁপলেন না। কোনো তোষামোদ কিংবা কূটনৈতিক ব্যাখ্যার আশ্রয় নিলেন না; নিজের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে সত্যের মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি সরাসরি নবীজির হাদিস উচ্চারণ করলেন।

এই অবিচল পুরুষটি ছিলেন ইমাম আওজায়ি (রহ.)—শামের অবিসংবাদিত ইমাম, হাদিস ও ফিকহের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং ক্ষমতার সামনে দাঁড়িয়ে সত্য উচ্চারণের এক কালজয়ী ঐতিহাসিক প্রতীক।

বহু বছরের পরিশ্রমে সংগৃহীত কিতাব চোখের সামনে ধূলিসাৎ হয়ে গেলেও তাঁর জ্ঞানসাধনা থমকে যায়নি; কারণ তাঁর জ্ঞানের মূল আধার কাগজের পাতার চেয়েও বেশি সুরক্ষিত ছিল তাঁর স্মৃতি ও অন্তরে।

প্রতিকূলতার ভেতর জ্ঞানের অঙ্কুর

ইমাম আওজায়ির মূল নাম আবদুর রহমান ইবনে আমর, পারিবারিক নাম আবু আমর। ৮৮ হিজরিতে বর্তমান লেবাননের বা‘লাবাক্কা (বালবেক) অঞ্চলে এক দরিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম। (আজ-জাহাবি, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ৭/১০৮, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১৯৮৫)

শৈশবেই পিতাকে হারিয়ে তিনি এতিম হয়ে পড়েন। চরম অভাব-অনটনের মধ্যে মা তাঁকে নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কোনো পার্থিব আরাম-আয়েশ বা অনুকূল পরিবেশ তাঁর ছিল না; কিন্তু মহান আল্লাহ প্রতিকূলতার কণ্টকাকীর্ণ পথেই বড় বড় মনীষী গড়ে তোলেন।

শৈশবে একদিন সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলার সময় এক প্রভাবশালী আরব ব্যক্তিত্ব সেখানে আসেন। তাঁকে দেখে অন্য শিশুরা ভয়ে পালিয়ে গেলেও কিশোর আওজায়ি নির্ভীক চিত্তে স্থির দাঁড়িয়ে রইলেন।

সেই প্রবীণ ব্যক্তি তাঁর চোখের আত্মবিশ্বাস ও অসাধারণ ব্যক্তিত্ব লক্ষ করে তাঁকে নিজ আশ্রয়ে নিয়ে যান এবং পরবর্তী সময়ে এক কাফেলার সঙ্গে ইয়ামামায় পাঠিয়ে দেন। (ইমাম ইবনে আসাকির, তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ৩৫/১৬২-১৬৩, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯৫)

এই সফরই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

জ্ঞানের সন্ধানে সুদীর্ঘ সফর

ইয়ামামায় তাঁর সাক্ষাৎ হয় তৎকালীন প্রখ্যাত তাবেয়ি ও হাদিসবিশারদ ইয়াহইয়া ইবনে আবু কাসিরের সঙ্গে। একদিন মসজিদে কিশোর আওজায়ির একাগ্রচিত্তে নামাজ পড়া দেখে মুগ্ধ হয়ে ইয়াহইয়া তাঁর খোঁজখবর নেন।

কিশোরের ভেতরের জ্ঞানের সুপ্ত প্রতিভা আঁচ করতে পেরে তিনি তাঁকে নিজ জ্ঞানমজলিসে স্থান দেন। ইমাম আওজায়ি পার্থিব কাজের ব্যস্ততা ছেড়ে দিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে ইলমের সাধনায় সঁপে দেন।

তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবু কাসিরের কাছ থেকে এত বিপুল পরিমাণ হাদিস ও ফিকহের পাঠ লিপিবদ্ধ করেছিলেন যে প্রায় ১৩-১৪টি পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত হয়ে যায়। কিন্তু একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে তাঁর সেই অমূল্য সব লিখিত পাণ্ডুলিপি ধ্বংস হয়ে যায়। (আজ-জাহাবি, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ৭/১১১, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১৯৮৫)

বহু বছরের পরিশ্রমে সংগৃহীত কিতাব চোখের সামনে ধূলিসাৎ হয়ে গেলেও তাঁর জ্ঞানসাধনা থমকে যায়নি; কারণ তাঁর জ্ঞানের মূল আধার কাগজের পাতার চেয়েও বেশি সুরক্ষিত ছিল তাঁর স্মৃতি ও অন্তরে।

শিক্ষকের পরামর্শে তিনি আরও গভীর জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে বসরার পথে পা বাড়ান—উদ্দেশ্য প্রখ্যাত তাবেয়ি ইমাম হাসান বসরি ও মুহাম্মদ ইবনে সিরিনের সান্নিধ্য লাভ। কিন্তু বসরায় পৌঁছে তিনি জানতে পারেন হাসান বসরি ইন্তেকাল করেছেন এবং ইবনে সিরিন মৃত্যুশয্যায়

তিনি কিছুদিন ইবনে সিরিনের সেবায় নিয়োজিত থাকেন, কিন্তু জ্ঞানপিপাসা মেটানোর আগেই তিনিও ওফাত বরণ করেন।

প্রত্যাশা অনুযায়ী শিক্ষা না পেয়েও তিনি দমে যাননি। তিনি মক্কা, মদিনা ও শামে সফর করে আতা ইবনে আবি রাবাহ, কাতাদাহ, ইমাম জুহরি এবং নাফের মতো যুগশ্রেষ্ঠ মনীষীদের দরবারে বসে জ্ঞানের সমুদ্রে অবগাহন করেন। (আল-মিজ্জি, তাহজিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল, ১৭/৩১০-৩১৫, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১৯৯২)

ইমাম আওজায়ির মেধা ও জ্ঞানের গভীরতা এতটাই বিস্ময়কর ছিল যে মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তৎকালীন উম্মাহর নামজাদা আলেম ও সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে ধর্মীয় সমাধানের জন্য ফতোয়া চাইতে শুরু করেন।

পঁচিশ বছর বয়সেই ফতোয়া

ইমাম আওজায়ির মেধা ও জ্ঞানের গভীরতা এতটাই বিস্ময়কর ছিল যে মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তৎকালীন উম্মাহর নামজাদা আলেম ও সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে ধর্মীয় সমাধানের জন্য ফতোয়া চাইতে শুরু করেন।

এরপর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে তিনি অবিরাম ফতোয়া ও হেদায়েতের আলো বিলিয়ে গেছেন।

শ্রুতি আছে, তাঁর মাধ্যমে সমাধান হওয়া ফিকহি মাসআলার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০ হাজার। (ইমাম শামসুদ্দিন আজ-জাহাবি, তারিখুল ইসলাম ওয়া ওয়াফায়াতুল মাশাহির ওয়াল আলাম, ৪/১২০, দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত, ২০০৩)

পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষীরা তাঁর দরসে ছাত্র হিসেবে ধন্য হয়েছেন। সুফিয়ান সাওরি, ইমাম মালিক ইবনে আনাস, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম এবং ইসমাইল ইবনে আইয়াশের মতো দিকপাল আলেমরা তাঁর কাছ থেকে হাদিস ও ফিকহের ইলম অর্জন করেছেন। (আজ-জাহাবি, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ৭/১০৯, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১৯৮৫)

দরবারে প্রবেশ করে তিনি সালাম দিলে সেনাপতি সালামের জবাব না দিয়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে ঔদ্ধত্যের সঙ্গে প্রশ্ন করেন, ‘বনু উমাইয়াদের ধ্বংস ও হত্যা করার যে পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি, সে সম্পর্কে আপনার মত কী?’

শাম ও আন্দালুসে বিস্তৃত নিজস্ব মাজহাব

ইসলামি আইনশাস্ত্রের ইতিহাসে ইমাম আওজায়ি শুধু একজন বড় মুহাদ্দিসই ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন একজন স্বতন্ত্র মুজতাহিদ এবং একটি প্রতিষ্ঠিত ফিকহি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা।

হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতকে গোটা সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন তথা সমগ্র শাম অঞ্চলে এবং মুসলিম স্পেনে (আন্দালুস) দীর্ঘকাল তাঁর ফিকহি মাজহাব রাষ্ট্র ও সমাজে প্রধান মাজহাব হিসেবে প্রচলিত ছিল।

পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং হানাফি, শাফিয়ি ও মালিকি মাজহাবের সুসংহত সংকলনের প্রভাবে তাঁর মাজহাবের অনুসারী কমে আসে এবং একপর্যায়ে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। (ইবনে আসাকির, তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ৩৫/২২৭, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯৫)

ভূমিকম্পে তাঁর সংকলিত বহু মৌলিক কিতাব ধ্বংস হয়ে যাওয়াও এই মাজহাবটির বিস্তার থেমে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল।

শাসকের সামনে নির্ভয়ে সত্য উচ্চারণ

ইমাম আওজায়ির জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো আব্বাসীয় সেনাপতি আবদুল্লাহ ইবনে আলীর মুখোমুখি হওয়া। উমাইয়াদের পতনের পর দামেস্কে প্রবেশ করে এই সেনাপতি নির্বিচার রক্তপাত ঘটান।

এরপর নিজের ক্ষমতা ও হত্যাকাণ্ডের ধর্মীয় বৈধতা আদায়ের জন্য সে ইমাম আওজায়িকে দরবারে তলব করেন। ইমাম মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে, কাফনের কাপড় ভেতরে জড়িয়ে দরবারে উপস্থিত হন।

দরবারে প্রবেশ করে তিনি সালাম দিলে সেনাপতি সালামের জবাব না দিয়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে ঔদ্ধত্যের সঙ্গে প্রশ্ন করেন, ‘বনু উমাইয়াদের ধ্বংস ও হত্যা করার যে পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি, সে সম্পর্কে আপনার মত কী?’

ইমাম আওজায়ি বিন্দুমাত্র ভীত না হয়ে রাসুলের হাদিস পাঠ করলেন, ‘নিশ্চয়ই সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল; আর মানুষ তা-ই পায়, যার নিয়ত সে করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১)

সেনাপতি আবার আঘাত করে ক্রুদ্ধ কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তাদের নির্বিচার হত্যার ব্যাপারে আপনি কী বলেন?’

ইমাম অবিচল কণ্ঠে শরিয়তের অকাট্য মূলনীতি ঘোষণা করে বললেন, ‘রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমানের রক্ত বৈধ নয়—তিনটি কারণ ছাড়া: বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচার, অন্যায্য হত্যার কিসাস এবং ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৮৭৮)

অর্থাৎ উমাইয়াদের নির্বিচার হত্যা করা শরিয়তসম্মত নয়।

এরপর সেনাপতি তাঁদের বাজেয়াপ্ত ধনসম্পদ নিজেদের জন্য নেওয়া বৈধ কি না—জানতে চাইলে ইমাম দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বললেন, ‘যদি সেই সম্পদ তাদের কাছে অবৈধ উপায়ে এসে থাকে, তবে তা আপনাদের জন্যও অবৈধ। আর যদি তা তাদের বৈধ সম্পদ হয়ে থাকে, তবে শরিয়তসম্মত উত্তরাধিকার বা বিচারিক পথ ছাড়া তা ছিনিয়ে নেওয়া আপনাদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম।’

প্রতিটি উত্তরের পর সেনাপতির চোখ ক্রোধে লাল হয়ে উঠছিল এবং লাঠির আঘাত আসছিল; কিন্তু ইমামের কণ্ঠে সত্যের তেজ এতটুকুও কমেনি। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ১০/৬০-৬২ ও পৃষ্ঠা: ১১৫-১১৬, দারু হিজর, কায়রো, ১৯৯৮)

বিচারকের পদ প্রত্যাখ্যান

ইমামের এই নির্ভীক আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব দেখে সেনাপতি স্তম্ভিত হয়ে যায়। তিনি ইমামকে কাবু করতে না পেরে প্রধান বিচারকের (কাজি) পদ গ্রহণের প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার এই প্রলোভনকে ইমাম সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, অতীতের শাসকেরাও তাঁকে এমন পদে বসতে বাধ্য করেননি, বর্তমান শাসকও যেন তাঁকে ছাড় দেন।

দরবার থেকে বেরিয়ে আসার সময় তিনি নিশ্চিত ছিলেন যেকোনো মুহূর্তে হয়তো তির বা তরবারির আঘাতে তাঁর প্রাণ যাবে। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করেন। পরে সেনাপতি নিজের অপরাধবোধ ঢাকতে তাঁর কাছে ২০০ স্বর্ণমুদ্রা (দিনার) পাঠান।

ইমাম আওজায়ি সেই অর্থের একটি মুদ্রাও নিজের জন্য স্পর্শ না করে সঙ্গে সঙ্গে দরবারের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অভাবী মানুষদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। (আজ-জাহাবি, তারিখুল ইসলাম ওয়া ওয়াফায়াতুল মাশাহির ওয়াল আলাম, ৪/১২০, দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত, ২০০৩)

ইমামের এই নির্ভীক আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব দেখে সেনাপতি স্তম্ভিত হয়ে যায়। তিনি ইমামকে কাবু করতে না পেরে প্রধান বিচারকের (কাজি) পদ গ্রহণের প্রস্তাব দেন।

সমকালীন আলেমদের প্রশংসা

সমকালীন ও পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ ইমামগণ আওজায়ির ইলম ও তাকওয়ার সামনে অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। মদিনার ইমাম, ইমাম মালিক (রহ.) দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতেন, ‘আওজায়ি হলেন সেই বিরল ইমাম, যাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণযোগ্য।’

আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) বলতেন, ‘যদি আমাকে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ নির্বাচন করতে বলা হতো, তবে আমি সুফিয়ান সাওরি ও ইমাম আওজায়ির নাম নিতাম।’

আর ইমাম শাফিয়ি (রহ.) তাঁর ফিকহি গভীরতা সম্পর্কে বলেছেন, ‘ফিকহি মাসআলার ক্ষেত্রে আমি আওজায়ির চেয়ে বেশি সুন্নাহ ও হাদিসের অনুসারী আর কাউকে দেখিনি।’ (ইমাম নববি, তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত, ১/২৯৮, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)

১৫৭ হিজরিতে বর্তমান লেবাননের বৈরুতে এই মহান জ্ঞানসাধক ইন্তেকাল করেন। (ইমাম শামসুদ্দিন আজ-জাহাবি, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ৭/১২৯, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১৯৮৫)