গ্রিনল্যান্ডের ইফতার আয়োজন
গ্রিনল্যান্ডের ইফতার আয়োজন

দেশে দেশে ইফতার | গ্রিনল্যান্ড

যেখানে বরফ শীতল হাওয়ায় ভাসে গরম স্যুপের ঘ্রাণ

উত্তর মেরুর কাছাকাছি বিশাল এক দ্বীপদেশ গ্রিনল্যান্ড। যেখানে বছরের বেশিরভাগ সময় সূর্য লুকোচুরি খেলে এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে থাকে, সেখানে রমজান পালন করা যেন এক রোমাঞ্চকর আধ্যাত্মিক যুদ্ধ।

আমাদের আজকের গল্প সেই বরফের দেশে বসবাসরত গুটিকয়েক মুসলিমের, যারা প্রতিকূল প্রকৃতিকেও হার মানিয়েছেন তাদের বিশ্বাস দিয়ে।

গ্রিনল্যান্ডে কি মুসলিম আছে

এক সময় ধারণা করা হতো পুরো গ্রিনল্যান্ডে মাত্র একজন মুসলিম বাস করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক অনুসন্ধান বলছে, রাজধানী ‘নুক’-এ এখন দশ জনেরও বেশি মুসলিমের বাস। তারা মিসর, মরক্কো, তিউনিসিয়া, তুরস্ক এবং ফিলিস্তিন থেকে আসা।

কেউ এসেছেন কাজের সন্ধানে, কেউ বা থিতু হয়েছেন ১৫ বছর আগে।

পোলার গেটে ফিলিস্তিনি আতিথেয়তা

নুক বিমানবন্দরে নামার পর পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রক হিসেবে যখন একজন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত যুবককে পাওয়া যায়, তখনই বোঝা যায় যে ইসলামের আলো এখানেও পৌঁছেছে। গ্রিনল্যান্ডের কনকনে ঠান্ডায় রাকান মনসুর এবং তার বাবার সঙ্গে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয় আল–জাজিরার প্রতিনিধি।

  • ইফতারের পদ: টেবিল সাজানো ছিল ধোঁয়া ওঠা গরম রুটি, ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী মসুর ডালের সুপ এবং মুরগি-ভাতের সুস্বাদু ডিশ দিয়ে। হাজার মাইল দূরের জেরুসালেম বা গাজার স্বাদ যেন উত্তর মেরুর এই কাঠের ঘরে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।

  • রোজার ব্যপ্তি: ২০২৬ সালে গ্রিনল্যান্ডে রোজার সময়কাল প্রায় ১৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। তবে বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এটি ২০ থেকে ২২ ঘণ্টাও হয়ে থাকে, কারণ সেখানে সূর্য কখনো অস্ত যেতে চায় না।

গ্রিনল্যান্ডারদের সঙ্গে সেতুবন্ধন

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বরফের দেশেও দেয়ালের গায়ে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বা ফিলিস্তিনের পতাকা আঁকা দেখা যায়।

রাকান বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের আদিবাসীরাও দীর্ঘকাল নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাই তারা ফিলিস্তিনিদের কষ্ট বোঝে। এখানে 'আল্লাহু আকবার' শুনলে তারা বিরূপ হয় না, বরং শ্রদ্ধা করে।”

বরফ আর বিষণ্নতার মাঝে ইসলাম

গ্রিনল্যান্ডের দীর্ঘ রাত আর একাকীত্বের কারণে সেখানে আত্মহত্যার হার অনেক বেশি। রাকান জানান, তার পাঁচজন বন্ধু আত্মহত্যা করেছে। এই অন্ধকার আর বিষণ্নতার মাঝে ইসলাম তাদের জন্য এক আলোর মশাল। 

তারা স্থানীয়দের সঙ্গে আরব সংস্কৃতি আর ইসলাম নিয়ে কথা বলেন, যা এক ধরণের মানসিক প্রশান্তি ও সামাজিক সেতুবন্ধন তৈরি করে।

মিসরীয় ওমরের গল্প

মিসরীয় বংশোদ্ভূত ওমর হাবিবি গত ১৫ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ডে আছেন। তিনি এখন এতটাই অভ্যস্ত যে মিসরের গ্রীষ্মের তাপমাত্রা আর সহ্য করতে পারেন না।

তিনি বলেন, “এখানে বর্ণবাদ কম, মানুষগুলো সহজ-সরল। তাই ইউরোপের অন্য দেশগুলোর চেয়ে গ্রিনল্যান্ডে জীবন কাটানো অনেক সহজ।”

সূত্র: আল–জাজিরা ডট নেট