শাবান মাসের আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো নফল রোজা পালন করা। বিশেষ করে মাসের মধ্যভাগে তথা ‘আইয়ামে বিজ’-এর তিনটি রোজা রাখার গুরুত্ব অপরিসীম।
শাবান মাসে অধিক রোজা রাখা এবং বিশেষ করে আইয়ামে বিজের (মাসের মধ্যভাগের ৩ দিন) রোজা রাখার ব্যাপারে সুন্নাহর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে।
শাবান মাসে অধিক হারে নফল রোজা রাখা সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা অত্যন্ত গুরুত্ববহ সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মাসে এত বেশি রোজা রাখতেন যে সাহাবিগণ মনে করতেন তিনি আর রোজা ভাঙবেন না।
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, “আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে পূর্ণ এক মাস রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে বেশি রোজা অন্য কোনো মাসে রাখতে দেখিনি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৬৯)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি প্রায় পুরো শাবান মাসই রোজা রাখতেন। তবে ইমাম তিরমিজি (র.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘পুরো মাস’ বলতে এখানে মাসের অধিকাংশ সময়কে বোঝানো হয়েছে। (সুনানে তিরমিজি, ২/১০৬)
হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে বলা হয় ‘আইয়ামে বিজ’ বা শ্বেত দিবসসমূহ। এই দিনগুলোতে চাঁদ পূর্ণিমার পূর্ণ আলো দান করে বলে একে আইয়ামে বিজ বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি মাসের এই তিনটি দিনে রোজা রাখতে বিশেষভাবে তাকিদ দিয়েছেন।
শাবান মাসের ক্ষেত্রে এই তিনটি রোজার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ, মধ্য শাবান বা ১৫ শাবান এই সময়ের অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে আইয়ামে বিজের রোজার সওয়াব সম্পর্কে বলা হয়েছে:
“প্রতি মাসে তিনটি করে রোজা রাখা সারা বছর রোজা রাখার সমান।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৮১; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৫৯)
মূলত আল্লাহ তাআলা প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব ১০ গুণ বাড়িয়ে দেন। সেই হিসেবে তিনটি রোজার সওয়াব ৩০টি রোজার সমান হয়ে যায়। ফলে প্রতি মাসে এই আমলটি করলে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব অর্জন করা সম্ভব।
মধ্য শাবান বা ১৫ শাবান (শবে বরাত) যেহেতু এই আইয়ামে বিজের অন্তর্ভুক্ত, তাই ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখলে একইসাথে তিনটি সুন্নতের সওয়াব পাওয়া সম্ভব:
১. শাবান মাসের নফল রোজা: যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশেষ আমল।
২. আইয়ামে বিজের রোজা: যা প্রতি মাসে রাখা সুন্নাহ।
৩. মধ্য শাবানের বরকত: পনেরো তারিখের ইবাদত বিষয়ে বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
রমজানের দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার জন্য শরীর ও মনকে তৈরি করতে শাবানের এই রোজাগুলো চমৎকার ভূমিকা পালন করে।
বিশেষ করে মধ্য শাবানের এই তিনটি রোজা (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) পালনের মাধ্যমে আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় একটি সুন্নতের অনুসরণ করতে পারি।