বিধান

দোয়ার আয়াত শুনে সিজদা করা কি সুন্নত

পবিত্র কোরআনের কিছু আয়াত তেলাওয়াত করলে বা শুনলে সিজদা করা ওয়াজিব বা সুন্নাহ। একে ‘সিজদায়ে তেলাওয়াত’ বলা হয়।

তবে অনেক সময় দেখা যায়, দোয়ার নির্দেশ সংবলিত কোনো আয়াত—যেমন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব” (সুরা গাফির, ৪০:৬০)—শোনার পর অনেকে আবেগতাড়িত হয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন।

শরিয়ত ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এই আচরণের গ্রহণযোগ্যতা এবং দোয়ার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে আলেমদের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।

দোয়ার আয়াতে সেজদার বিধান

কোরআনের যেসব আয়াতে দোয়ার কথা বলা হয়েছে বা আল্লাহর কাছে চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তেলাওয়াত করলে বা শুনলে সিজদা করার কোনো বিধান নেই।

কোরআনের যেসব আয়াতে দোয়ার কথা বলা হয়েছে বা আল্লাহর কাছে চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তেলাওয়াত করলে বা শুনলে সিজদা করার কোনো বিধান নেই।

কেননা, এই জাতীয় আয়াতগুলো সিজদায়ে তেলাওয়াতের আয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এসব আয়াত শোনার পর সেজদা না করে সরাসরি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা বা দোয়া করাই হলো সুন্নাহসম্মত কাজ।

তাবেয়ি সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলতেন, “আল্লাহর কাছে সেই বান্দাই সবচেয়ে প্রিয় যে তাঁর কাছে বেশি বেশি চায়, আর সেই বান্দাই সবচেয়ে অপ্রিয় যে তাঁর কাছে কিছুই চায় না।”

দোয়া করার সঠিক পদ্ধতি

দোয়ার আয়াতের জওয়াবে সিজদায় যাওয়ার পরিবর্তে হাত তুলে দোয়া করাই হলো সঠিক নিয়ম। এ ক্ষেত্রে কিছু আদব অনুসরণ করা প্রয়োজন:

১. কেবলামুখী হওয়া: সম্ভব হলে দোয়ার সময় কেবলামুখী হওয়া উত্তম। মহানবী (সা.) বৃষ্টির জন্য দোয়া (ইস্তিসকা) করার সময় কেবলামুখী হয়েছিলেন।

২. হাত তোলা: দোয়ার সময় দুই হাত কাঁধ বরাবর তোলা মুস্তাহাব। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “আল্লাহর কাছে চাওয়ার পদ্ধতি হলো দুই হাত কাঁধ বরাবর তোলা।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৮৯)

সিজদারত অবস্থায় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়; তাই তোমরা সিজদাবস্থায় বেশি বেশি দোয়া করো।
সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮২

৩. হাতের তালু উন্মুক্ত রাখা: দোয়ার সময় হাতের তালু আকাশের দিকে রাখা সুন্নাহ। নবীজি (সা.) বলেছেন, “তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন হাতের তালু দিয়ে চাইবে, পিঠ দিয়ে নয়।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৮৬)

সেজদা নিয়ে ভুল ধারণার নিরসন

অনেকে একটি হাদিসের ভুল ব্যাখ্যার কারণে দোয়ার আয়াত শুনে সিজদায় যান।

মহানবী (সা.) বলেছেন, “সিজদারত অবস্থায় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়; তাই তোমরা সিজদাবস্থায় বেশি বেশি দোয়া করো।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮২)

এই হাদিসের মূল উদ্দেশ্য হলো নামাজের সিজদায় দোয়া করা, অন্য সময় কোনো আয়াত শুনে হঠাৎ সিজদায় যাওয়া নয়।

নবীজি (সা.) অন্য একটি হাদিসে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করেছেন, রুকুতে প্রতিপালকের মহিমা বর্ণনা করো আর সিজদায় দোয়া করার চেষ্টা করো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৭৯)

সুতরাং কোরআনের দোয়ার আয়াত শুনলে সিজদায় না গিয়ে বরং বিনয় ও আদবের সঙ্গে হাত তুলে সরাসরি মালিকের কাছে চাওয়া উচিত।