পাথেয়

খাওয়ার আগে ও পরে মুমিনের প্রার্থনা

ইসলামে দৈনন্দিন প্রতিটি কাজকেই নিয়ত ও সুন্নাত অনুসরণের মাধ্যমে ইবাদতে পরিণত করার দিকনির্দেশনা রয়েছে।

রাসুলের শেখানো আদব ও দোয়া মেনে আহার গ্রহণ করলে তা শরীর ও আত্মার শক্তি জোগানোর পাশাপাশি অশেষ সওয়াবের মাধ্যমে পরিণত হয়।

খাওয়ার পূর্বে ও পরে প্রার্থনার ফজিলত

নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়: আমাদের দেওয়া রিজিকের জন্য মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মুমিনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

শয়তানের অংশগ্রহণ রোধ: হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি খাবারের শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে ভুলে যায়, শয়তান সেই আহারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।

খাবারে বরকত অর্জন: আল্লাহর নামে শুরু করা এবং তাঁর প্রশংসার মাধ্যমে শেষ করা আহারে বিশেষ বরকত ও আত্মিক প্রশান্তি নাজিল হয়।

সাধারণ কাজকে ইবাদতে রূপান্তর: সুন্নাত তরিকায় আহার করলে শারীরিক তৃপ্তির পাশাপাশি আমলনামায় ইবাদতের সওয়াব লিপিবদ্ধ হয়।

খাওয়ার শুরুতে দোয়া

খাবার গ্রহণ শুরু করার সময় বিসমিল্লাহ বলা সুন্নত। পূর্ণ দোয়া হলো:

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়া‘আলা বারাকাতিল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর দেওয়া বরকতের ওপর ভরসা করে (আহার) শুরু করছি।

শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে

যদি খাওয়ার শুরুতে আল্লাহর নাম নিতে ভুল হয়ে যায়, তবে খাওয়ার মাঝখানে মনে পড়তেই আরেকটি দোয়া পাঠ করতে হয়।

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আউওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু।

অর্থ: এর শুরুতে ও শেষে আল্লাহর নাম নিচ্ছি। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৭৬৭)

খাওয়া শেষের দোয়া

আহার সমাপ্ত করার পর মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে একটি দোয়া পাঠ করা সুন্নত।

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আত‘আমনা ওয়া সাকানা ওয়া জা‘আলানা মিনাল মুসলিমীন।

অর্থ: সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৫৭)

খাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আদব

সুন্নত অনুসরণে আহার গ্রহণের বিশেষ কিছু আদব রয়েছে, যা আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করা উচিত।

উভয় হাত ধোয়া: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নেয়ামতের মর্যাদার খাতিরে খাওয়ার আগে উভয় হাত ভালো করে ধুয়ে নেওয়া।

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা: খাওয়ার সূচনা আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে করা।

ডান হাতে খাওয়া: ডান হাত দিয়ে খাওয়া ও পান করা সুন্নত।

বসে খাওয়া: দাঁড়িয়ে খাওয়া বা পান করা অনুচিত; বসে শান্ত ও মার্জিতভাবে আহার করা শারীরিক ও আত্মিক স্বাস্থ্যের জন্য উত্তম।

পরিমিত খাবার গ্রহণ করা: উদরপূর্তি করে অতিরিক্ত না খাওয়া। রাসুল (সা.) পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখার উপদেশ দিয়েছেন।

খাবারের দোষ না ধরা: কোনো খাবার অপছন্দ হলে তা না খেয়ে রেখে দেওয়া যায়, কিন্তু খাবারের নিন্দা না করা।

অপচয় না করা: প্লেটে খাবার অবশিষ্ট না রেখে অপচয় রোধ করা আবশ্যক।

খাওয়া শেষে হাত-মুখ পরিষ্কার করা: খাওয়া শেষে পুনরায় হাত ধুয়ে নেওয়া এবং কুলি করে মুখ পরিষ্কার করা।

আল্লাহর প্রশংসা পাঠ করা: আহার শেষে হৃদয় থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে আল্লাহর অশেষ নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

দৈনন্দিন খাবারের মতো সাধারণ অভ্যাসেও রাসুলের সুন্নতের অনুসরণ আমাদের জীবনে বরকত ও পরকালীন সফলতা এনে দেবে।