টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বাগতম। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে মুখোমুখি ভারত ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
ভারত সর্বশেষ কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্ট হেরেছে ২০২৩ সালের আগস্টে। সর্বশেষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে তারা প্রতি এক ম্যাচ হারের বিপরীতে জিতেছে সাতটি করে ম্যাচ।
ভারত এ টুর্নামেন্টের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। ২০২৪ সালে সর্বশেষ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তাঁরা।
নিউজিল্যান্ড গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা ও সুপার এইটে ইংল্যান্ডের কাছে হারলেও সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারে ভারতও।
টি–টুয়েন্টিতে ৩০বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ১১ বার জিতেছে নিউজিল্যান্ড ও ১৬ বার জিতেছে ভারত। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনবার নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই হেরেছে ভারত।
ভারত আজ জিতলে প্রথম দল হিসেবে তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতবে। পাশাপাশি প্রথম দল হিসেবে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ধরেও রাখবে তারা। প্রথম স্বাগতিক হিসেবেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ভারতের সামনে। নিউজিল্যান্ডের সামনে প্রথমবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ। এর আগে ২০২১ ফাইনালে উঠে হেরেছিল তাঁরা।
ফাইনালের আগে দুই দলের পারফরম্যান্স কেমন, তা জেনে নিতে পারেন নিচের লিংকে ক্লিক করে—
২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপকে কীভাবে থামাবে নিউজিল্যান্ড? সর্বশেষ তিন ম্যাচের দুটিতে তারা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারটি দলীয় স্কোরের দুটি নিজেদের নামে করে নিয়েছে। যে দানবীয় ব্যাটিং লাইনআপ এখন ২৪০–২৫০–এর নিচে থামতেই চায় না, তাদের রোখার সাধ্য কার?
উত্তরটা পড়তে পারেন এই লিংকে—ভারতের বিপক্ষে কি তাহলে দেখা যাবে অফ স্পিনের ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’
ফাইনালে ভারতের সতর্কতার জায়গাও আছে। ক্লিক করুন এই লিংকে: ফাইনালের আগে ভারতের ৩ সতর্কতা
ফাইনালের ভাগ্য ঠিক করে দিতে পারে কিছু খণ্ড লড়াই। জানতে পারেন নিচের লিংকে ক্লিক করে—যে চার লড়াই ঠিক করে দেবে ফাইনালের ভাগ্য
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের কেন্দ্রীয় বাইশ গজে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এউইন মরগান ও ইয়ান বিশপ মনে করেন এই পিচ হবে রানপ্রসবা। লাল ও কালো মাটির মিশ্রণে বানানো এ পিচ অতিরিক্ত মন্থর নয়। অতিরিক্ত বাউন্সও নেই।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। কিউই অধিনায়ক জানিয়েছেন, কোল ম্যাকোনকির জায়গায় দলে ঢুকেছেন জ্যাকব ডাফি।
ভারত অধিনায়ক সুর্যকুমার যাদব জানিয়েছেন, টসে জিতলে তিনি আগে ব্যাট করতেন। ভারতের দলে কোনো পরিবর্তন নেই।
সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান (উইকেটকিপার), সুর্যকুমার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, তিলক বর্মা, অক্ষর প্যাটেল, শিবম দুবে, অর্শদীপ সিং, বরুন চক্রবর্তী ও যশপ্রীত বুমরা।
ফিন অ্যালেন, টিম সাইফার্ট (উইকেটকিপার), রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চাপম্যান, ড্যারিল মিচেল, মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), জিমি নিশাম, ম্যাট হেনরি, জ্যাকব ডাফি ও লকি ফার্গুসন।
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে মাঠে পা রাখলেন ভারতের দুই কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ।
ভারত: ১ ওভারে বিনা উইকেটে ৭।
পেসার ম্যাট হেনরিকে দিয়ে বোলিংয়ের শুরু করান কিউই অধিনায়ক স্যান্টনার। টি–টুয়েন্টিতে তিন ইনিংসে হেনরি ভারতের ওপেনার সঞ্জু স্যামসনকে তিনবার আউট করেছেন এর আগে।
কিন্তু আজ হেনরির কাছ থেকে প্রথম ওভারে বাউন্ডারিসহ মোট ৭ রান আদায় করলেন স্যামসন। আরেক ওপেনার অভিষেক শর্মা প্রথম ওভারে স্ট্রাইক পাননি।
ভারত: ২ ওভারে বিনা উইকেটে ১২।
অফ স্পিনার গ্লেন ফিলিপস করলেন দ্বিতীয় ওভার। ৫ রান দিয়েছেন।
অভিষেক ৪ বলে ৩ এবং স্যামসন ৮ বলে ৯ রানে অপরাজিত।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম পাওয়ার প্লেতে বোলিং করলেন ফিলিপস।
ভারত: ৩ ওভারে বিনা উইকেটে ২৭।
জ্যাকব ডাফি তৃতীয় ওভারে দিলেন ১৫ রান। অভিষেক দুটি চার মেরেছেন তাঁর হাফ ভলি বলে। একটি চার মারেন স্যামসন। খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসছেন ভারতের দুই ওপেনার।
স্যামসন ১৪ ও অভিষেক ১২ রানে অপরাজিত।
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম যেন নীল–সমুদ্র। প্রায় লাখখানেক দর্শকের মধ্যে বেশির ভাগই ভারতীয়।
ভারত: ৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৫১।
তৃতীয় ওভারে ডাফি ১৫ রান দিলেও চতুর্থ ওভারে তাঁকে ছাপিয়ে গেলেন লকি ফার্গুসন। এই ওভারে ২৪ রান দিয়েছেন। অভিষেক ও স্যামসন তাঁকে একটি করে চার ও ছক্কা মেরেছেন। দুটি ওয়াইডও দিয়েছেন ফার্গুসন। স্যামসনের ছক্কাটি ছিল মিসহিট।
স্যামসন ১৪ বলে ২৪ এবং অভিষেক ১০ বলে ২৩ রানে অপরাজিত।
ভারত: ৫ ওভারে বিনা উইকেটে ৭২।
৫ ওভারের মধ্যেই ৮টি ওয়াইড দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। পঞ্চম ওভারে হেনরি একাই দেন ৪টি ওয়াইড। মার খাওয়ার ভয়ে বাইরে বোলিংয়ের চেষ্টায় এমন হতে পারে। তবু কি রানবন্যা থামানো যাচ্ছে?
অভিষেক ও স্যামসনের কাছে দু্টি ছক্কা হজম করার সঙ্গে এই ওভারে ২১ রান দিয়েছেন হেনরি। স্যামসন ১৭ বলে ৩৩ ও অভিষেক ১৩ বলে ৩১ রানে অপরাজিত।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ২০ রান দিলেন ডাফি। তিনটি চার, এক ছক্কায় অভিষেক একাই এই রান তুলেছেন।
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাওয়ার প্লেতে এটাই কোনো দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ২০২৪ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১ উইকেটে ৯২ তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড অভিষেকের। সেমিফাইনালে ফিন অ্যালেন ও জ্যাকব বেথেল ১৯ বলে ফিফটি করেছিলেন।
অভিষেক ১৯ বলে ৫১ ও স্যামসন ১৭ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত।
ভারত: ৮ ওভারে ১ উইকেটে ১১০।
অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার এসে ৭ম ওভারে ৬ রান দেন। অষ্টম ওভারে আরেক বাঁহাতি স্পিনার রাচিন রবীন্দ্র প্রথম বলেই অভিষেককে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন। তাঁর ফুল লেংথে করা বেশ বাইরের বল তুলে মারতে গিয়ে উইকেটকিপার টিম সাইফার্টকে ক্যাচ দেন অভিষেক (২১ বলে ৫২)।
৯৮ রানে ভাঙল অভিষেক ও স্যামনের ওপেনিং জুটি। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে এর আগে কখনো পঞ্চাশ রানের ওপেনিং জুটি দেখা যায়নি।
রবীন্দ্রর শেষ দুই বলে দুটি চার মারেন তিনে নামা ঈশান কিষান। রবীন্দ্র এ ওভারে ১২ রানে ১ উইকেট পেলেন।
ভারত: ৯ ওভারে ১ উইকেটে ১১৫।
কিউই অধিনায়ক স্যান্টনার ভালো বোলিং করছেন। ৯ম ওভারে মাত্র ৫ রান দেন স্যান্টনার। নিজের আগের ওভারে দেন ৬ রান।
স্যামসন ৪১ ও ঈশান ১৪ রানে অপরাজিত।
ভারত: ১০ ওভারে ১ উইকেটে ১২৭।
জিমি নিশাম ১২ রান দিয়েছেন ১০ম ওভারে। স্যামসন ৪৮ ও ঈশান ১৯ রানে অপরাজিত।
ভারত: ১১ ওভারে ১ উইকেটে ১৩৭।
স্যান্টনারের করা ১১তম ওভারের শেষ বলে স্যামসন এক রান নিয়ে ফিফটি তুলে নেন। গ্যালারিতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার সমর্থক যেন গর্জে উঠলেন!
শহীদ আফ্রিদি ও বিরাট কোহলির পর টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ফিফটি পেলেন স্যামসন।
স্যান্টনার এই ওভারে ১০ রান দেন। ঈশান ২৭ ও স্যামসন ৩৩ বলে ৫০ রানে অপরাজিত।
ভারত: ১২ ওভারে ১৬১/১
১২তম ওভারে ২৪ রান দিলেন ফার্গুসন। স্যামসন ও ঈশান তাঁকে দুটি করে ছক্কা মারেন। এরই মধ্যে ১০টি ছক্কা মেরেছেন ভারতের ব্যাটসম্যানরা।
স্যামসন ৬৭ ও ঈশান ৩৪ রানে অপরাজিত।
ভারত: ১৪ ওভারে ১ উইকেটে ১৯১।
১৩তম ওভারে ১০ রান দেওয়া হেনরিকে একটি ছক্কা মারতে পারেন কিষান। কিন্তু ১৪ তম ওভারে রবীন্দ্রকে টানা তিন ছক্কা মারেন স্যামসন।
রবীন্দ্র এ ওভারে ২০ রান দেন।
স্যামসন ৪৪ বলে ৮৮, ঈশান ১৯ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত। এ পর্যন্ত মোট ১৪টি ছক্কা মেরেছেন ভারতের ব্যাটসম্যানরা।
ভারতের ইনিংসে ১৪ ওভার পর্যন্ত ৮টি ছক্কা মেরেছেন স্যামসন। এই পথে চলতি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কাও হয়ে গেল স্যামসনের। ফিন অ্যালেনের ২০ ছক্কা পেরিয়ে স্যামসনের ছক্কাসংখ্যা এখন ২৪।
ভারত: ১৫ ওভারে ২০৩/১।
স্যান্টনার ১৫তম ওভারে দেন ১২ রান। স্যামসন ৮৯ রানে অপরাজিত। ঈশান ৫৪ রানে অপরাজিত। ২৩ বলে ফিফটি তুলে নেন।
শেষ পাঁচ ওভারে কত করবে ভারত?
নিশামের করা ১৬ তম ওভারের প্রথম বলে লং অনে বদলি ফিল্ডার ম্যাককোনকিকে ক্যাচ দিয়ে আউট হলেন স্যামসন। ৪৬ বলে ৮ ছক্কা ও ৫ চারে ৮৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেললেন এই ওপেনার।
৪৮ বলে ১০৫ রানের জুটি গড়েছিলেন স্যামসন ও কিষান।
চারে নেমেছেন হার্দিক পান্ডিয়া।
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ যেমন কাটছে স্যামসনের—সঞ্জু স্যামসন: হাল ছেড়ো না, বরং ব্যাট চালাও জোরে
আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে টানা তিনটি ৮০+ স্কোর শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে (২০১০), ফ্রান্সের গুস্তাভ ম্যাককিওন (২০২২) ও সঞ্জু স্যামসনের (২০২৬)। শুধু জয়াবর্ধনে ও স্যামসন এই কীর্তি গড়েছেন টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে।
ভারত: ১৬ ওভারে ২০৪/৪।
নিশামের করা ১৬তম ওভারের পঞ্চম বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ঈশান কিষান। ৪ ছক্কা ও ৪ চারে ২৫ বলে করেছেন ৫৪। পরের বলেই স্কয়ার লেগে রবীন্দ্রর দারুণ ক্যাচের শিকার ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার (১ বলে ০)।
ছয় বলের মধ্যে ৩ উইকেট নিলেন নিশাম। এর মধ্যে শেষ দুই বলে দুই উইকেট! ১ রানে ৩ উইকেট নিলেন নিশাম।
হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে ক্রিজে তিলক বর্মা।
ভারত: ১৭ ওভারে ৪ উইকেটে ২১১।
ডাফির করা এই ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে তিলক বর্মার ক্যাচ নিতে পারেননি ফিন অ্যালেন। ডাফি এ ওভারে ৭ রান দেন।
হার্দিক ও তিলক ৪ রানে অপরাজিত।
ভারত: ১৮ ওভারে ৪ উইকেটে ২২০।
জিমি নিশাম এ ওভারে দিলেন ৯ রান। পান্ডিয়া ১১ বলে ১২ এবং তিলক ৪ বলে ৫ রানে অপরাজিত।
ভারত: ১৯ ওভারে ৫ উইকেটে ২৩১।
ম্যাট হেনরির করা ১৯তম ওভারে দ্বিতীয় বলে আকাশে ক্যাচ তুলে আউট হার্দিক পান্ডিয়া। ১৩ বলে ১৮ রান করলেন তিনি।
নতুন ব্যাটসম্যান শিবম দুবে। ১১ রানে ১ উইকেট নিলেন হেনরি।
অসাধারণ ব্যাটিং ভারতের। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর।
জিমি নিশামের করা শেষ ওভারে একাই ২৪ রান তুলেছেন শিবম দুবে। এই ওভারে তিন চার ও দুটি ছক্কা মারেন দুবে। ৮ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থেকে শেষ করলেন দারুণভাবে। ৬ বলে ৮ রানে অন্য প্রান্তে অপরাজিত তিলক।
ভারত প্রথম ১০ ওভারে তুলেছে ১ উইকেটে ১২৭। পরের ১০ ওভারে আরও ৪ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ১২৮। এর মধ্যে শেষ ৫ ওভারেই হারিয়েছে ৪ উইকেট, রান উঠেছে ৫২। তবে শেষ ওভারে ২৪ রান না উঠলে এই পাঁচ ওভারে রান আরেকটু কম দেওয়ার স্বস্তি পেত নিউজিল্যান্ড।
৪৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার স্যামসন। ৮ ছক্কায় ইনিংসটি সাজানোর পথে এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিকও হন তিনি। আরেক ওপেনার অভিষেকের ব্যাট থেকে এসেছে ২১ বলে ৫২ রানের ইনিংস। ৭.১ ওভারে তাঁদের জুটিতে উঠেছে ৯৮ রান। ২৫ বলে ৫৪ রান ঈশান দ্বিতীয় উইকেটে স্যামসনের সঙ্গে ৪৮ বলে ১০৫ রানের জুটি গড়েন।
৪৬ রানে ৩ উইকেট নেন কিউই পেসার নিশাম।
আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে আড়াই শ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের ঘটনা আছে একটিই। ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৫৮ রান তাড়া করে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৩০ রান তাড়া করে জয়ের নজির আছে। ২০১৬ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় ইংল্যান্ড। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে এই বিশ্বকাপেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই মাঠে এটাই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের ঘটনা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২৫৫/৫ (স্যামসন ৮৯, ঈশান ৫৪, অভিষেক ৫২, শিবম ২৬*, পান্ডিয়া ১৮; নিশাম ৩/৪৬, রবীন্দ্র ১/৩২, হেনরি ১/৪৯)।
নিউজিল্যান্ড: ১ ওভারে বিনা উইকেটে ৪।
অর্শদীপ সিংয়ের করা প্রথম ওভারে উঠল মাত্র ৪ রান। পঞ্চম বলে কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেনের আকাশে তোলা ক্যাচ ছাড়েন শিবম দুবে।
অ্যালেন ৩ ও সাইফার্ট শূন্য রানে অপরাজিত।
নিউজিল্যান্ড: ২ ওভারে বিনা উইকেটে ২৫।
হার্দিক পাণ্ডিয়ার করা দ্বিতীয় ওভারে দুটি চার ও দুটি ছক্কা মারেন সাইফার্ট। ১ রান নেন অ্যালেন।
সাইফার্ট ৮ বলে ২০ এবং অ্যালেন ৪ বলে ৪ রানে অপরাজিত।
নিউজিল্যান্ড : ৩ ওভারে ৩২/১।
তৃতীয় ওভারে স্পিনার অক্ষর প্যাটেলকে এনে ফিন অ্যালেনকে তুলে নিল ভারত।
ওভারের চতুর্থ বলে তাঁকে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে তিলককে ক্যাচ দেন অ্যালেন (৭ বলে ৯)। একটু খাটো লেংথের বলটি বেশি নিচে ছিল। টেনে তুলতে পারেননি অ্যালেন।
ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান রাচিন রবীন্দ্র।
এই ওভারে ৭ রানে ১ উইকেট নিলেন অক্ষর।
নিউজিল্যান্ড: ৪ ওভারে ২ উইকেটে ৩৬।
তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বল থেকে চতুর্থ ওভারের প্রথম বল—এই চার বলের মধ্যে ২ উইকেট হারাল নিউজিল্যান্ড।
চতুর্থ ওভারে যশপ্রীত বুমরার প্রথম বলেই তুলে মারতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ঈশান কিষানের অসাধারণ ক্যাচের শিকার হন রাচিন রবীন্দ্র (২ বলে ১)। বেশ খানিকটা দৌড়ে এসে ডাইভ দিয়ে ক্যাচটি নেন।
চারে নেমেছেন গ্লেন ফিলিপস। সাইফার্ট ১৩ বলে ২৪ রানে অপরাজিত।
নিউজিল্যান্ড: ৬ ওভারে ৫২/৩
পঞ্চম ওভারে অক্ষর প্যাটেলের প্রথম বলে ছক্কা মারেন সাইফার্ট। এক বল পর চার মারেন ফিলিপস। পঞ্চম বলে ছক্কা মারতে গিয়ে হলেন বোল্ড! ৫ বলে ৫ রানে ফিরলেন।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৯২।
সাইফার্ট ৩৫ ও মার্ক চাপম্যান ১ রানে অপরাজিত।
নিউজিল্যান্ড: ৭ ওভারে ৬৮/৩
বরুণ চক্রবর্তীর এক ওভারে দুই ছক্কা মেরে নিজের ফিফটি পূরণ করেছেন সাইফার্ট। ২৩ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ফিফটি করেছেন এই ওপেনার।
সাইফার্ট ৫১ ও মার্ক চাপম্যান ৩ রানে অপরাজিত।
নিউজিল্যান্ড: ৮ ওভারে ৪ উইকেটে ৭২।
নিউজিল্যান্ডের কেউ দাঁড়াতে পারছেন না। রান উঠছে না সেভাবে, চাপে পড়ে মারতে গিয়ে আউট হলেন মার্ক চ্যাপম্যান।
অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলটি স্টাম্পে টেনে আনেন চ্যাপম্যান।
ছয়ে নেমেছেন ড্যারিল মিচেল।
নিউজিল্যান্ড: ৯ ওভারে ৫ উইকেটে ৮৩।
চার বলের মধ্যে নেই ২ উইকেট!
অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে চ্যাপম্যান আউট হওয়ার পর নবম ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর প্রথম বলে মিডউইকেটে সাইফার্টের ক্যাচ নেন ঈশান। ২৬ বলে ৫২ রানে আউট হলেন সাইফার্ট।
হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ছে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং।
ক্রিজে আছেন মিচেল স্যান্টনার ও ড্যারিল মিচেল।
আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে এ নিয়ে টানা ২২ ইনিংসে উইকেট পেলেন বরুন চক্রবর্তী। টানা ২৬ ইনিংসে উইকেট নেওয়ার রেকর্ড নেপালের স্পিনার সন্দ্বীপ লামিচাঁনের।
নিউজিল্যান্ড: ১০ ওভারে ৫ উইকেটে ৮৮।
স্যান্টনার ১১ ও মিচেল ২ রানে অপরাজিত।
১০ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ১২৭।
নিউজিল্যান্ড: ১১ ওভারে ৫ উইকেটে ১০৩।
১০.৪ ওভারে অর্শদীপের বলে রান পাননি ড্যারিল মিচেল। বল অর্শদীপের হাতে থাকতে ক্রিজ থেকে একটু বেরিয়ে এসেছিলেন মিচেল। অর্শদীপ স্টাম্পে থ্রো করতে গিয়ে বল মিচেলের পায়ে লাগান। বেশ জোরেই লেগেছে বল। মিচেল রাগে তেঁড়েফুঁড়ে যান অর্শদীপের প্রতি। অর্শদীপ ঘুরে বোলিং মার্কে চলে যাওয়ায় উত্তেজনা আর বাড়েনি। আম্পায়ারের হস্তক্ষেপে ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য বাইশ গজ ফ্রন্ট।’
তবে দর্শক না। তুমুল গর্জন গ্যালারিতে।
নিউজিল্যান্ড: ১২ ওভারে ৫ উইকেটে ১১৯।
বরুণের এই ওভারে দুটি ছক্কা মারেন স্যান্টনার। মিচেল ১৬ ও স্যান্টনার ২৬ রানে অপরাজিত।
নিউজিল্যান্ড: ১৩ ওভারে ৬ উইকেটে ১২৮।
ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে বলছিলেন, ‘পান্ডিয়া ক্যাচ ছাড়েন না।’ ১৩তম ওভারে অক্ষর প্যাটেলের প্রথম বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ ছাড়েন পান্ডিয়া। তবে এই ওভারে ঠিকই উইকেট পেয়েছেন অক্ষর। পঞ্চম বলে ঈশানকে ক্যাচ দিয়ে আউট ১১ বলে ১৭ করা ড্যারিল মিচেল।
নিউজিল্যান্ডের শেষ আশাও গেল! নিশাম অবশ্য নেমেই চার মারলেন।
নিউজিল্যান্ড: ১৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৯
জয়ের জন্য শেষ ৩০ বলে চাই ১১৭ রান। সম্ভব? ম্যাচের পরিস্থিতি বলছে সম্ভব না।
স্যান্টনার ৩৫ ও নিশাম ৮ রানে অপরাজিত।
নিউজিল্যান্ড: ১৬ ওভারে ১৪৩/৮
১৬তম ওভারে বুমরার তৃতীয় বলে বোল্ড জিমি নিশাম। ফুল টস বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি। পরের বলটি ছিল স্লোয়ার। তাতেও বোল্ড হন ম্যাট হেনরি। তৃতীয় বলে অবশ্য হ্যাটট্রিক করতে পারেননি।
২ উইকেট নিলেন বুমরা।
ভারত: ১৮ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৪।
বুমরার স্লোয়ার কেউ পড়তে পারছে না!
১৮তম ওভারে তাঁর তৃতীয় বলে বোল্ড স্যান্টনার। ৪৩ রানে ফিরলেন। শিরোপার সুবাস পাচ্ছে ভারত।
আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে এর আগে ১৮ ইনিংসে বোলিং করে ৬ উইকেট পেয়েছেন অভিষেক শর্মা। জয় নিশ্চিত বুঝেই ১৯তম ওভারে অভিষেককে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার।
এই ওভারে তাঁর শেষ বলে ক্যাচ দিয়ে আউট ডাফি। ৯৬ রানের জয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত!
নিউজিল্যান্ড ১৯ ওভারে ১৫৯ রানে অলআউট।
আগে ব্যাট করে ভারত ৫ উইকেটে ২৫৫ তোলার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, এই শিরোপাও ভারতের। একটু দ্বিধা ছিল কারণ নিউজিল্যান্ড টপ অর্ডার বিস্ফোরক। কিন্তু কে জানে, ফাইনাল ম্যাচের চাপেই সম্ভবত হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। ফল?
প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারত। প্রথম স্বাগতিক দল হিসেবে জিতল বিশ্বকাপের শিরোপাও। প্রথম দল হিসেবে তিনবার এই বিশ্বকাপের শিরোপাও জিতল সূর্যকুমার যাদবের দল।
ভারতের জয় টের পেয়েই সম্ভবত কিছু দর্শক বাড়ি ফিরেছেন। তবু প্রায় ৮৬ হাজার দর্শকের গর্জনে কেঁপেছে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম। আর কেঁপেছে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং।
তৃতীয় ওভারে ফিন অ্যালেন আউট হওয়ার পর থেকেই মূলত জয়ের পথ থেকে ছিটকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৫২/৩।
১০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ৫ উইকেটে ৮৮। এরপর আসলে এই ম্যাচে আর কিছু ছিল না।
ওপেনার টিম সাইফার্ট করেন ২৬ বলে ৫২। স্যান্টনার করেন ৪৩ রান। বুমরা নেন ৪ উইকেট।
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার হারল নিউজিল্যান্ড।
বুমরা ও বরুণ সমান ১৪টি করে উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।
জয়ের পর ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে বুমরা বলেন, ‘নিজেকে বিশেষ কিছু মনে হচ্ছে। কারণ এর আগে ঘরের মাঠে একটি ফাইনাল খেলে জিততে পারিনি। আজ জিতলাম। উইকেট ফ্লাট ছিল, নিজের সব অভিজ্ঞতা ঢেলে দিয়েছি।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২৫৫/৫ (স্যামসন ৮৯, ঈশান ৫৪, অভিষেক ৫২, শিবম ২৬*, পান্ডিয়া ১৮; নিশাম ৩/৪৬, রবীন্দ্র ১/৩২, হেনরি ১/৪৯)।
নিউজিল্যান্ড: ১৯ ওভারে ১৫৯ (সাইফার্ট ৫২, স্যান্টনার ৪৩, মিচেল ১৭; বুমরা ৪/১৫, অক্ষর ৩/২৭, পান্ডিয়া ১/৩৬)।
ফল: ভারত ৯৬ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: যশপ্রীত বুমরা।
সিরিজসেরা: সঞ্জু স্যামসন।