পাকিস্তান সুপার লিগ শুরু হবে আগামীকাল। ফ্র্যাঞ্চাইজি এই টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের প্রতিটি আসর থেকেই নতুন নতুন তারকার জন্ম হয়। প্রতিবছরই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তরুণদের দিকে বাড়তি নজর থাকে সবার। এবারের পিএসএলে কোন পাঁচ আনক্যাপড (জাতীয় দল অভিষেক না হওয়া) ক্রিকেটার পারফর্ম করতে পারেন?
বয়স ২৩। বাঁহাতি ওপেনার। খুব বেশি অভিজ্ঞ, সেটা বলার সুযোগ নেই। প্রথমবার পিএসএল খেলতে যাওয়া এই ক্রিকেটার স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি খেলেছেন ৮টি। সর্বশেষ দুই ন্যাশনাল টি-টুয়েন্টি লিগে ৮ ম্যাচে প্রায় ১৬০ স্ট্রাইক রেটে ৪২০ রান করে তিনি নজরে এসেছেন।
১৭ মার্চ নিজের খেলা সর্বশেষ টি-টুয়েন্টি ম্যাচে করাচি ব্লুজের হয়ে সেমিফাইনালে শিয়ালকোটের বিপক্ষে ৪১ বলে ৮৮ রান করেন ফজল। টুর্নামেন্টে ৪ ম্যাচে করেছেন ১৮৯ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও ২৫ ম্যাচে তাঁর গড় ৪১। ২০২৫–২৬ কায়েদ-ই-আজম ট্রফির ফাইনালে ৮৮ ও ১১৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে শিরোপা জেতাতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন ফজল।
চলতি বছরের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফারহান। এরপর চলমান ন্যাশনাল টি-টুয়েন্টি কাপে লাহোর হোয়াইটসের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন তিনি। নিলামে অবিক্রীত থাকলেও টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্স দেখে তাঁকে সরাসরি দলে ভেড়ায় পেশোয়ার জালমি। টুর্নামেন্টে ৪ ম্যাচে ১৮৮.১৫ স্ট্রাইক রেটে ১৪৩ রান করেছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
নাসিম শাহর ছোট ভাই উবায়েদের এটি হবে তৃতীয় পিএসএল মৌসুম। পিএসএলে ২০ বছর বয়সী এই পেসার এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচে ১২টি উইকেট নিয়েছেন, যার সব কটিই এসেছে গত ২০২৫ মৌসুমে মুলতান সুলতানসের হয়ে ৯ ম্যাচে।
প্রত্যাশিতভাবেই নিলামে তাঁকে নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। ৬০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্য থাকলেও ৪.৫ গুণ বেশি দামে ২ কোটি ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে তাঁকে দলে নেয় লাহোর কালান্দার্স। টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে ২৮ ম্যাচে ৯.২৪ ইকোনমি রেটে তাঁর শিকার ২৯ উইকেট। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও ১৬ ম্যাচে তাঁর ৭২টি উইকেট রয়েছে, যার মধ্যে দুবার ৫ উইকেট ও একবার ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে।
১৮ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার আলী রাজাকে ১ কোটি ৯৬ লাখ রুপিতে ধরে রেখেছে পেশোয়ার জালমি। এ থেকে স্পষ্ট তাঁর কাছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রত্যাশা কতটা বেশি। ২০২৫ মৌসুমে ৯ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে তিনি ভালোই করেছেন। ২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে রাজা ছিলেন চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। এর আগে ২০২৪ আসরেও ৯ উইকেট নিয়েছিলেন। পিএসএলের এই মৌসুমে ভালো করতে পারলে রাজার ক্যারিয়ারে ‘ব্রেকথ্রু’ মিলতে পারে।
সামির মিনহাজ বেশ কিছুদিন ধরেই পাকিস্তান ক্রিকেটে আলোচিত নাম। এর কারণ তাঁর পারফরম্যান্স। ২০২৫ অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপে ৫ ম্যাচে ১৫৭ গড় ও ১১৭.৪৫ স্ট্রাইক রেটে ৪৭১ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন তিনি।
বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে খেলা ১১৩ বলে ১৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি এখনো সবার চোখে লেগে আছে। এবারের পিএসএল নিলামে ১ কোটি ৯০ লাখ রুপিতে তাঁকে দলে ভিড়িয়েছে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।
সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ (১৯৭ রান) রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ৪২ বলে সেঞ্চুরি করে যুব ওয়ানডেতে দ্রুততম শতকের রেকর্ডটিও এখন তাঁর দখলে; ভেঙেছেন বৈভব সূর্যবংশীর ৫২ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড। ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি টি-টুয়েন্টি খেললেও, এবারের পিএসএল হতে পারে বিশ্বমঞ্চে নিজের জাত চেনানোর সবচেয়ে বড় মঞ্চ।