গত পরশু দুপুরে সাইফ হাসানকে দেখা গেল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে। একজন থ্রোয়ারকে সঙ্গী করে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাটিং অনুশীলন করলেন, একা একাই মাঠে দৌড়ালেন দীর্ঘক্ষণ। আগের ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাননি। টি–টোয়েন্টিতে জাতীয় দলের সহ–অধিনায়ক সাইফ হাসান যেন পূরণ করে ফেলতে চাইছেন নিজের সব ঘাটতি।
সেদিন সন্ধ্যার ম্যাচেই অবশ্য সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে ঢাকা ক্যাপিটালসের একাদশে জায়গা পান সাইফ। পাঁচ নম্বরে খেলতে নেমে করেন ১৪ বলে ২২ রান। আগের ৪ ম্যাচে সাইফ তাহলে বাদ পড়লেন কেন? নিজের রানের সংখ্যাগুলো দেখলে আপত্তি করার কথা নয় তাঁরও— ৪ বলে ১, ১৭ বলে ৯, ৪ বলে ১, ২৪ বলে ১৫—এই হলো সেই চার ম্যাচের স্কোর।
নিজেকে ফিরে পেতেই যে সাইফের ওই বাড়তি পরিশ্রম, সেটি না বললেও চলে। তবে এবারের বিপিএলে ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ সাইফের একার নয়। বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি দলের একাদশের নিয়মিত কোনো মুখই জ্বলে উঠতে পারছেন না ব্যাট হাতে।
এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল শেষ পর্যন্ত খেলবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কিন্তু বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলতে গেলেও ওই দলে থাকা ব্যাটসম্যানদের মাঠের পারফরম্যান্স জাতীয় দলের জন্য খুব একটা স্বস্তির নয়।
বিশ্বকাপের আগে প্রায় দুই মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ততা নেই জাতীয় দলের। এই সময়ে খেলা প্রায় তারকাশূন্য বিপিএলেও শীর্ষ ১০ রান সংগ্রাহকের তালিকায় এক পারভেজ হোসেন ছাড়া বিশ্বকাপের দলের আর কেউ নেই।
গত বছর টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান ছিলেন তানজিদ হাসান। এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ছক্কা আর রানের রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছিলেন এই ওপেনার। তাঁকে এবারের বিপিএলে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
পাওয়ার প্লে কাজে লাগানোর দারুণ দক্ষতা আছে তানজিদের। কিন্তু বিপিএলে সেটি তিনি করতে পারছেন না। সাইফের মতো তাঁর সংখ্যাগুলোও খুব একটা সুখকর নয়। এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে করেছেন ৮ বলে ১০, ১৫ বলে ২০, ২০ বলে ২৯, ৬ বলে ২, ২০ বলে ২১, ১২ বলে ৫ রান।
তবে তানজিদের এই অফ ফর্ম সাময়িক বলে বিশ্বাস রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কোচ হান্নান সরকারের, ‘আমার বিশ্বাস যে যারাই অফ ফর্মে রয়েছে, তাদের সেই ফর্মটা ফিরিয়ে আনার জন্য এখনো সময় রয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে একটা–দুইটা ম্যাচ ভালো খেললেই ছন্দ ফিরে পাওয়া যায়।’
এই লড়াইয়ে আছেন টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাসও। গত এক বছর ধরে জাতীয় দলে বেশির ভাগ ম্যাচেই তিনি তিন নম্বরে খেলেছেন। তবে বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ওপেনিংয়ে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জেতা টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ৩১ বলে ৪৭ রানের ইনিংসে তিনি শুরুটা ভালোই করেছিলেন। কিন্তু এর পর থেকেই ছন্দপতন। ছয় ম্যাচে এখন পর্যন্ত ১২৯ রান করেছেন লিটন।
ভরসা জোগাতে পারছেন না মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরাও। জাকের আলীকে বাদ দেওয়ার পর এই জায়গায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বড় ভরসা তাওহিদ হৃদয়–শামীম হোসেন ও নুরুল হাসান। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেবল শামীমই এক দিন নিজের কাজটা ঠিকঠাক করেছেন ৪৩ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে। যদিও সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে ঢাকা ক্যাপিটালকে ম্যাচ জেতাতে পারেননি। পরের তিন ম্যাচে করেছেন ৪, ১১ আর ১।
নিলাম থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে রংপুর রাইডার্স কিনেছিল তাওহিদ হৃদয়কে। কিন্তু ৬ ম্যাচে মাত্র ১০৬ রান করা এই ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ১০৯.২৭। তাঁর দলের অধিনায়ক নুরুলও ৪ ইনিংসে নেমে করেছেন মাত্র ২০ রান।
জাতীয় দলের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের এমন অফ ফর্মের মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য একটা স্বস্তি—৪ নম্বরে নেমে সিলেট টাইটানসের হয়ে ভালো করেছেন পারভেজ হোসেন। ৮ ম্যাচে প্রায় ১৪০ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২৩৬ রান।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার অন্য নাম তাই ব্যাটিং, অবশ্য যদি বাংলাদেশ বিশ্বকাপটা শেষ পর্যন্ত খেলে।