
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সিকান্দার রাজা ও শাহিন আফ্রিদির বিপক্ষে।
অনুমোদনহীন কয়েকজনকে গত শনিবার রাতে নিয়ম ভেঙে রাজার হোটেল কক্ষে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পাঞ্জাব পুলিশ পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রধান নির্বাহী সালমান নাসিরের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। এই চিঠিতে জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা ও পাকিস্তানের পেসার শাহিন আফ্রিদির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাকর্মীদের আপত্তি কানে না তুলে প্রভাব খাটিয়ে অতিথিদের ভেতরে নেওয়া হয়।। তবে রাজা এই ঘটনায় শাহিন আফ্রিদির কোনো দায় নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
রাজার দাবি, তিনি তাঁর ১৯ বছরের পরিচিত ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন এবং শাহিন কেবল তাঁকে এই কাজে সহায়তা করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে শাহিনের বিরুদ্ধে যে ধরনের আচরণের কথা বলা হয়েছে, রাজা বারবার সেটির বিরোধিতা করেছেন।
রাজার ভাষায়, ‘শাহিন কাউকে জোরজবরদস্তিমূলক কিছু করেনি। আমার পরিবার ও বন্ধুরা এসেছিল। আমার অনুরোধেই সে তাদের (কক্ষে আসতে) সাহায্য করেছে। অতিথিদের কক্ষে আসা নিয়ে যদি কোনো নিয়ম (এসওপি) থাকে, তবে সেটা আমার জানা ছিল না, শাহিনেরও অজানা ছিল।’
ঘটনার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে রাজা বলেন, ‘দোষ আমার, শাহিনের নয়। আমার অনুরোধেই সে নিচে যায়। কারণ, তারা আমার পরিবার ও বন্ধু; আমি তাদের সঙ্গে বিজনেস সেন্টারে দেখা করতে চাইনি। আমরা প্রায় ৪০ মিনিট একসঙ্গে ওপরে ছিলাম।’
ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, গত রোববার লাহোর কালান্দার্স, শাহিন ও রাজার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বিধিভঙ্গের অভিযোগসংবলিত পুলিশের সেই চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, পিসিবির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং সিইও সালমান নাসিরের কাছ থেকে অনুমতি না পাওয়া সত্ত্বেও অতিথিদের কক্ষে নিয়ে যান আফ্রিদি ও রাজা।
রাজা ৪০ মিনিট সময় কাটানোর কথা বললেও পুলিশের চিঠিতে দাবি করা হয়, তাঁরা সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা ছিলেন। এ বিষয়ে ইএসপিএনক্রিকইনফো সালমান নাসিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লাহোর কালান্দার্স সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও জোরপূর্বক কাউকে ভেতরে ঢোকানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রাজা বলেন, ‘যাদের কথা বলা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আমার ১৯ বছরের বন্ধুত্ব। আমার স্ত্রী ও সন্তানেরাও আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবে। দয়া করে ভুলে যাবেন না যে আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন এখানেই থাকে এবং সারা বছর তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয় না। শাহিন কেবল আমার অনুরোধেই নিচে গিয়েছিল। আমরা পিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ করেছিলাম, এরপর কী হয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখব। পুরো সিদ্ধান্তটি আমার ছিল, শাহিনের নয়। নিশ্চিত করে বলছি, সে কাউকে জোর করে নিয়ে আসেনি, কারণ আমি নিজেও তখন লিফটে তার সঙ্গেই ছিলাম।’
এ বিষয়ে পিসিবির মিডিয়াপ্রধান উমর ফারুক গত রোববার ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘লাহোর কালান্দার্সের দুই খেলোয়াড়কে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। বিষয়টি নিয়ে আমরা পিএসএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’
পাঞ্জাব পুলিশের পাঠানো চিঠিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পিএসএল কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত পিসিবি বা পিএসএলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।