
আট বছর আগের সেই কেলেঙ্কারি কি আবারও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে অস্বস্তি ছড়াতে যাচ্ছে? ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের সঙ্গে বিশ্ব ক্রিকেটেও তোলপাড় উঠেছিল।
সেই বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে নিজের আত্মজীবনীতে কী লিখেছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার উসমান খাজা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। বইটি প্রকাশের আগে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স অবশ্য বলছেন, এসব নিয়ে দল আপাতত ভাবছে না।
আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হবে খাজার আত্মজীবনী ‘সবর’। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ ব্যাটসম্যান নিজেই বইটি লিখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পর বইটি বাজারে আসবে। কোড স্পোর্টস গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, বইটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে কামিন্সকে আগেই ধারণা দিয়েছেন খাজা। তবে বইয়ে কী লেখা হয়েছে, তা জানা যায়নি।
গত শুক্রবার ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কামিন্সও নিশ্চিত করেছেন, বইটি নিয়ে খাজার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তবে ২০১৮ সালে বল টেম্পারিংয়ের সে ঘটনা নিয়ে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশিত হতে পারে, এমন সম্ভাবনায় কামিন্স উদ্বিগ্ন নন। তাঁর ভাষ্য, গত সাড়ে আট বছরে এ বিষয়ে তিনি ‘লাখ লাখবার’ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
কামিন্স বলেন, ‘হ্যাঁ, উজি কয়েক সপ্তাহ আগে আমাকে ফোন করেছিল। সে জানাল, একটা বই প্রকাশ করছে। বইয়ে কী আছে, তা নিয়ে খুব বেশি বিস্তারিত বলেনি। মূলত আমাকে জানিয়েছে যে, সে একটা বই লিখেছে। বরাবরের মতো আমি বলেছি, “কোনো সমস্যা নেই, তুমি তোমার গল্প বলতে পারো। এতে আমার আপত্তি নেই।”’
২০১৮ সালের সেই কেপটাউন টেস্টে কামিন্স ও খাজা দুজনই অস্ট্রেলিয়া দলে ছিলেন। ওই ম্যাচে ক্যামেরায় ধরা পড়ে, ক্যামেরন ব্যানক্রফট ‘স্যান্ডপেপার’ (শিরীষ কাগজ) দিয়ে বলের অবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অধিনায়কের পদ ছাড়তে হয় স্টিভ স্মিথকে এবং সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান ডেভিড ওয়ার্নার। ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে এই তিন ক্রিকেটারকে বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করা হয় তখন।
খাজার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথন এবং বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আরও জানতে চাইলে কামিন্স বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না। এ বিষয়ে আপনাদের ওকেই জিজ্ঞেস করতে হবে। ঘটনাটি অনেক আগের। তখনই সব তদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমি এ বিষয়ে লাখ লাখবার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। তখনই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে।’
কামিন্স আরও বলেন, ‘আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, দল হিসেবে আমরা সামনে এগিয়ে গেছি। গত আট-নয় বছরে দল হিসেবে আমরা যেভাবে থেকেছি এবং নিজেদের যেভাবে বিকশিত করেছি, তাতে আমি খুবই খুশি। আর এ মুহূর্তে আমার মনোযোগ অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দিকেই।’
কেপটাউন টেস্টে খেলা চার বোলার কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক ও নাথান লায়ন বরাবরই দাবি করেছেন, বল টেম্পারিংয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণা ছিল না। যদিও এই কথা কতটা সত্য তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
কারণ, ২০২১ সালে ব্যানক্রফট বলেছিলেন, বল টেম্পারিংয়ের বিষয়ে বোলাররা যতটা জানার কথা স্বীকার করেছেন, তাঁরা আসলে তার চেয়েও বেশি জানতেন। তাঁর মন্তব্যের পর অস্ট্রেলিয়ার চার বোলার যৌথ বিবৃতিতে ‘গুজব ছড়ানো ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য’ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারির পর অস্ট্রেলিয়া দুবার সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেছে। তবে আজ থেকে শুরু হওয়া সিরিজ হবে সে ঘটনার পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের প্রথম টেস্ট সিরিজ। ফলে সিরিজ শুরুর আগে ২০১৮ সালের ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার সম্প্রচারমাধ্যম সুপারস্পোর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিরিজটির প্রচারণায় বল টেম্পারিংয়ের ঘটনার পুরোনো ভিডিও প্রকাশ করে। ২০১৮ সালের কেপটাউন টেস্টে তাদের ক্যামেরার মাধ্যমেই প্রথম ব্যানক্রফটের কর্মকাণ্ড ধরা পড়েছিল। ভিডিওটির সঙ্গে তারা লিখেছে, ‘তিন ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজে আমাদের ক্যামেরা থাকবে সজাগ।’